শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
মৌলভীবাজারে নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা মৃদুল গ্রেফতার মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুদকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সীমান্তে বিএসএফের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে পৌঁছেছেন এনসিপির সমন্বয়ক সারজিস ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পর্যটন এলাকার সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কমলগঞ্জে ৪০টি পলাশের চারা রোপণ বড়লেখা সীমান্তে বিদেশি পিস্তল ও বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার দেবলছড়া সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ৭ জনকে পুশইন দেড় মাস আগে বদলির আদেশ, এখনো মৌলভীবাজার প্রধান ডাকঘরেই তন্ময় দে চৌধুরী চেক ডিজঅনার মামলায় প্রধান শিক্ষক তদবির আলমের ৫ মাসের কারাদণ্ড  জমির অভাবে থমকে কোটি টাকার বর্জ্য শোধনাগার প্রকল্প জুড়ীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের বিশেষ মহড়া

১৭ বছরের কারাজীবন শেষে বাড়ি ফিরলেন প্রবীর সিংহ

সালাহউদ্দিন শুভ / ৩৮৫ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : বুধবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৫

১৭ বছরের দীর্ঘ কারাজীবন শেষে অবশেষে বাবার কোলে ফিরলেন বিডিআর সদস্য পবীর সিংহ। ২৫ নভেম্বর, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় নারায়ণগঞ্জ কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। পরদিন ২৬ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর বালিগাঁও গ্রামের নিজ বাড়িতে পৌঁছান। লক্ষীন্দ্র সিংহ (ডাকনাম ‘ভাগ্য’)–এর একমাত্র ছেলে প্রবীর সিংহের ফিরে আসা যেন দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও বেদনার এক অধ্যায়ের সমাপ্তি।

বাড়ির উঠানে পা রাখতেই বাবাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন প্রবীর সিংহ। পাশে থাকা স্বজন ও প্রতিবেশীরাও আবেগ থামাতে পারেননি। মুহূর্তেই পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে কান্না, স্মৃতি আর ফিরে–পাওয়ার আনন্দে।

জানা যায়, চাকরির পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার সময় প্রবীর সিংহ তখন খাগড়াছড়ির রামগড় এলাকায় কর্মরত ছিলেন। ২০০৯ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ও ২৬ মার্চের স্কাউটিং কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য তাকে ঢাকায় আনা হয়। ঠিক ওই সময়ই ঘটে পিলখানার মর্মান্তিক বিডিআর বিদ্রোহ। সেই ঘটনার পরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং শুরু হয় তার দীর্ঘ ১৭ বছরের কারাজীবন।

মুক্তির পর গ্রামে প্রবেশ করতেই শত শত মানুষ ছুটে আসেন পবীর সিংহকে দেখতে। কেউ তাঁর হাত ধরে কাঁদছেন, কেউ নীরবে তাকিয়ে রয়েছেন হারানো সময়ের প্রতিচ্ছবি হয়ে। পুরো গ্রাম ভরে ওঠে আবেগ ও কান্নায়। কিন্তু মানুষের ভিড়ের মাঝেও পবীর সিংহ এর চোখে লুকানো থাকে অপূরণীয় বেদনার ছায়া।

প্রবীর সিংহের বাবা লক্ষীন্দ্র সিংহ আবেগঘন কণ্ঠে বলেন,‘১৭ বছর পর আমার ছেলে ঘরে ফিরেছে। এই দিনের জন্য কত অপেক্ষা করেছি—তা কাউকে বোঝাতে পারব না। ভগবানের কৃপায় অন্তত জীবিত অবস্থায় তাকে পেলাম। স্বজন ও গ্রামবাসীর চোখে–মুখে আজ শুধু একটাই অনুভূতি—দীর্ঘ কারাজীবন শেষে ঘরে ফেরা পবীর সিংহকে নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন বাঁচার প্রতীক্ষা। তিনি বলেন, এখন আমাদের একটাই চাওয়া—আর কোনো পরিবার যেন এমন অন্যায়ের শিকার না হয়।’

এদিকে বিডিআর সদস্য পবীর সিংহ সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘যাঁরা এখনো কারাগারে নিরপরাধ অবস্থায় আছেন, যাঁদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে, তাঁদের যেন দ্রুত মুক্তি দেওয়া হয়। তাঁদের জীবন যেন আমার মতো তিলে তিলে নষ্ট না হয়।’


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর