মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
কমলগঞ্জে গভীর রাতে রাইস মিলসহ তিন দোকানে হামলা-ভাঙচুর, লুটপাটের অভিযোগ ভিডিপি সদস্য আশরাফুল আলমের উদ্যোগে কমলগঞ্জের মুন্সিবাজারে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ভিডিপি সদস্য আশরাফুল আলমের উদ্যোগে কমলগঞ্জের মুন্সিবাজারে পরিচ্ছন্নতা অভিযান কমলগঞ্জে মামলা প্রত্যাহারে হুমকির অভিযোগ প্রবাসীর স্ত্রীর সিলেট বৈদেশিক ডাকঘরের সুপার তন্ময় দে চৌধুরীর বিরুদ্ধে আবারও অফিস কামাইয়ের অভিযোগ শমশেরনগরে অটোরিক্সা থেকে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে হামলা; আহত-১কমলগঞ্জ থানায় অভিযোগ ওমরাহ শেষে দেশে ফিরেই নির্বাচনী প্রস্তুতি বিএনপি নেতা আব্দুল আহাদের কমলগঞ্জে চা বাগানে শ্রমিকদের ওপর হামলা, আহত ৫ কমলগঞ্জে বাজারে গিয়ে নিখোঁজ নবম শ্রেণির ছাত্রী কমলগঞ্জে মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির নির্বাচন- সভাপতি সত্যেন্দ্র, সম্পাদক হাবিবুর

মৌলভীবাজারে পার্কে উটপাখি ও এমুর ডিম

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: / ৬০ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬

মৌলভীবাজারের একটি বেসরকারি বার্ড পার্কে প্রথমবারের মতো উটপাখি ও এমু-দুই প্রজাতির উড়তে অক্ষম বৃহৎ পাখির ডিম প্রদর্শনের জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। বিরল এই দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। বিশাল আকৃতির উটপাখির ডিম ও সবুজাভ-নীলচে রঙের এমুর ডিম ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল।

সম্প্রতি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের আজমেরু গ্রামে অবস্থিত বার্ড পার্ক অ্যান্ড ইকো ভিলেজে উটপাখির দুটি এবং এমুর একটি ডিম সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীরা নিরাপদ ব্যবস্থাপনায় ডিমগুলো কাছ থেকে দেখার পাশাপাশি হাতে নিয়েও পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাচ্ছেন।

সংরক্ষিত উটপাখির একটি ধূসর রঙের ডিমের ওজন প্রায় দেড় কেজি। অন্যদিকে এমুর ডিমটি সবুজাভ-নীলচে বর্ণের এবং আকারেও বেশ বড়। পার্ক কর্তৃপক্ষের মতে, এমন বড় আকৃতির ডিম অনেক দর্শনার্থী এই প্রথম সরাসরি দেখছেন।

বর্তমানে পার্কটিতে দুটি উটপাখি ও দুটি এমু পৃথক খাঁচায় রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীরা কাছে গেলে পাখিগুলো ধীরগতিতে এদিক-ওদিক হেঁটে বেড়ায়। তাদের বিশাল দেহ, দীর্ঘ গলা ও ব্যতিক্রমী চলাফেরা শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী দর্শনার্থীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।

উটপাখি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও ভারী জীবিত পাখি। পূর্ণবয়স্ক একটি উটপাখির উচ্চতা সাধারণত আট থেকে ১০ ফুট এবং ওজন ৬৩ থেকে ১৪৫ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। ডানা থাকলেও ভারী শরীরের কারণে তারা উড়তে পারে না। তবে ঘণ্টায় প্রায় ৭০ কিলোমিটার বেগে দৌড়াতে সক্ষম। একটি উটপাখির ডিমের ওজন দেড় কেজিরও বেশি হতে পারে, যা প্রায় ২৪টি মুরগির ডিমের সমান। এদের প্রাকৃতিক আবাস আফ্রিকার তৃণভূমি, সাভানা ও শুষ্ক অঞ্চল।

অন্যদিকে এমু পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম জীবিত পাখি। অস্ট্রেলিয়ার এই উড়তে অক্ষম পাখির উচ্চতা সাধারণত পাঁচ থেকে ছয় ফুট এবং ওজন ৪০ থেকে ৬০ কেজি পর্যন্ত হয়। এমু ঘণ্টায় প্রায় ৫০ কিলোমিটার গতিতে দৌড়াতে পারে। স্ত্রী এমু গাঢ় সবুজ বা নীলাভ-সবুজ রঙের বড় আকারের ডিম পাড়ে, যার ওজন সাধারণত ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম। উটপাখির তুলনায় একটি ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য হলো-এমুর ডিমে তা দেয় পুরুষ পাখি এবং বাচ্চা ফোটানো পর্যন্ত ডিমের দেখভালও করে।

বার্ড পার্ক অ্যান্ড ইকো ভিলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, এটি দেশের অন্যতম বড় পরিবেশবান্ধব পাখি উদ্যান। এখানে উটপাখি ও এমু ছাড়াও বিভিন্ন দেশি-বিদেশি পাখি, ময়ূর, টার্কি, ব্ল্যাক সোয়ান, রাজহাঁস, চীনাহাঁস, চিত্রা হরিণ, রঙিন মাছ, কৃত্রিম ঝরনা, বার্ড লার্নিং সেন্টার, কিডস জোন এবং ইলিউশন মিউজিয়াম রয়েছে। এসব আকর্ষণ দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন জেলা থেকে দর্শনার্থীরা পার্কে আসছেন।

প্রকৃতিপ্রেমীদের মতে, এমন উদ্যোগ শুধু বিনোদনই নয়, বন্যপ্রাণী ও বিরল পাখি সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের কাছে উটপাখি ও এমুর মতো বিরল পাখির জীবনচক্র সম্পর্কে জানার একটি বাস্তব অভিজ্ঞতার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহেদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা আশা করছি ভবিষ্যতে এসব ডিম থেকে বাচ্চা ফুটবে। দর্শনার্থীদের শিক্ষা ও পর্যবেক্ষণের সুবিধার্থে ডিমগুলো অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে সংরক্ষণ করা হয়েছে। প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ বাড়াতেই আমাদের এই উদ্যোগ।’


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর