জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তার পাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার করেছেন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) সদস্যরা। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে মাটিতে পড়ে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্কুল-সংকেত (রোড সাইন) পুনঃস্থাপন করে পথচারী ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়।
গত রোববার কমলগঞ্জ উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তার অনুমতিক্রমে মুন্সিবাজার ইউনিয়নের ভিডিপি সদস্য মো. আশরাফুল আলমের উদ্যোগে ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের প্রধান সড়কের পাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এতে স্থানীয় ভিডিপি সদস্যরা স্বেচ্ছাশ্রমে অংশ নেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার দুই পাশের ঘন ঝোপঝাড়ের কারণে পথচারী, মোটরসাইকেল আরোহী এবং বাসুদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আশপাশের স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে সড়কের বাঁক ও পাশের দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছিল। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কোনো প্রকার ব্যক্তিগত স্বার্থ ছাড়াই স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগে ঝোপঝাড় পরিষ্কার করেন ভিডিপি সদস্যরা।
কার্যক্রম চলাকালে বাসুদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মাটিতে পড়ে থাকা ‘স্কুল’ লেখা সতর্কতামূলক সড়কচিহ্নও পুনরায় যথাস্থানে স্থাপন করা হয়। এতে ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের চালকেরা আগেভাগেই বিদ্যালয় এলাকার বিষয়ে সতর্ক হতে পারবেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

উদ্যোক্তা ভিডিপি সদস্য মো. আশরাফুল আলম বলেন, ‘জনস্বার্থে ছোট ছোট উদ্যোগও বড় পরিবর্তন আনতে পারে। নিরাপদ সড়ক ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, সমাজের প্রতিটি মানুষেরও নৈতিক দায়িত্ব। আমরা সেই দায়িত্ববোধ থেকেই এই স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম পরিচালনা করেছি।’
কমলগঞ্জ উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ের উপজেলা প্রশিক্ষিকা সানজিদা আক্তার বলেন, ‘আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নয়, বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়ক হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন। তাদের মতে, রাস্তার পাশ পরিষ্কার হওয়ায় এখন পথচারী ও শিক্ষার্থীদের চলাচল অনেক বেশি নিরাপদ হয়েছে। পাশাপাশি স্কুলের সাইনবোর্ড পুনঃস্থাপনের ফলে যানবাহনের চালকেরাও সতর্ক থাকবেন, যা দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
তারা আরও বলেন, ‘সমাজের প্রতিটি নাগরিক যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে এমন স্বেচ্ছাসেবী কাজে এগিয়ে আসেন, তাহলে এলাকার পরিবেশ হবে আরও পরিচ্ছন্ন, জনসেবা হবে আরও কার্যকর এবং নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা সহজ হবে।’