মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে স্থানীয় বাজারে ক্রিম কিনতে গিয়ে শিমলা আক্তার (১৬) নামে নবম শ্রেণির এক ছাত্রী নিখোঁজ হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের নইনারপার বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ শিমলা ওই ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামের মো. আলতা মিয়ার মেয়ে।
পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় কমলগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধারে কাজ চলছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে নয়নারপার বাজারে ক্রিম কিনতে যায় শিমলা। পরে দীর্ঘ সময় পার হলেও সে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাজারের সিসিটিভি ফুটেজে শিমলাকে একই ইউনিয়নের উত্তরভাগ গ্রামের লিলা বেগম নামে এক নারীর সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। এরপর ওই নারীর পেছনে শিমলাকে যেতে দেখা গেছে বলে পরিবারের দাবি। তবে এরপর তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ শিমলার বাবা মো. আলতা মিয়া বলেন, ‘আমার মেয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ে। সে কোনো মোবাইল ফোন ব্যবহার করে না। মাঝে মাঝে আমার ফোন দিয়ে স্কুলের শিক্ষক ও বান্ধবীদের সঙ্গে কথা বলে। শনিবার সকালে ক্রিম কিনতে বাজারে যায়। এরপর আর বাড়িতে ফেরেনি। সিসিটিভি ফুটেজে তাকে একজন নারীর সঙ্গে কথা বলতে এবং পরে ওই নারীর পেছনে যেতে দেখা গেছে।’
এদিকে, বাজারে মেয়েকে খুঁজতে গেলে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী তাকে ভয়ভীতি দেখিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন শিমলার বাবা। তাঁর দাবি, ব্যবসায়ী সোহান মিয়া তাদের বাজারে চিৎকার-চেঁচামেচি না করতে বলেন এবং অস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দেন।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে ব্যবসায়ী সোহান মিয়া বলেন, ‘আমার দোকানের সামনে তারা হইচই করছিলেন। তখন আমি বাধা দিই। পরে আমার বাচ্চার খেলনার পিস্তল দেখিয়ে তাদের ভয় দেখিয়েছি। এটি কোনো আসল অস্ত্র নয়।’
অন্যদিকে, সিসিটিভি ফুটেজে শিমলার সঙ্গে কথা বলতে দেখা যাওয়া লিলা বেগম বলেন, ‘আমি কাজে বাজারে গিয়েছিলাম। তখন সড়কের পাশে আলতা মিয়ার মেয়েকে কান্নাকাটি করতে দেখি। তাকে কান্নার কারণ জানতে চাইলে সে জানায়, তার বাবা তাকে মারধর করেছেন। আমি তাকে তার বাবার কাছে নিয়ে যেতে চাইলে সে যেতে রাজি হয়নি। পরে সে সেখান থেকে চলে যায়।’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শিমলা এলাকায় পরিচিত ও শান্ত স্বভাবের মেয়ে। হঠাৎ করে তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দ্রুত তদন্ত করে কিশোরীকে উদ্ধার এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কমল উদ্দিন বলেন, ‘কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। তাকে উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে।’