ক্রয়কৃত দোকান ভিটা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বাজার মূল্যের কম দামে বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় প্রতিপক্ষের একের পর এক হয়রানিমুলক মিথ্যা মামলায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করানো ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে। গতকাল (২৭ জুন) শনিবার বেলা ১২ ঘটিকায় বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি কমলগঞ্জ ইউনিটের শমশেরনগরস্থ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে শমশেরনগর বাজারের ব্যবসায়ী শাহীন শেখ এই অভিযোগ তুলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শাহীন শেখ বলেন, ২০১০ সালের ৫ অক্টোবর শমশেরনগর বাজারের বাসিন্দা মোছা. রুজেনা আক্তার খানম এর কাছ থেকে শমশেরনগর টি গার্ডেন মৌজার আরএস জে.এল.নম্বর-৪২, আরএস খতিয়ান নম্বর-৩৯৩, আরএস দাগ নম্বর-১৭০৭ এর এক শতক পঁচাত্তর পয়েন্ট দোকান রকম ভূমি ক্রয় করি। উক্ত ভূমি ক্রয়ের পর আমি স্বত্ববান মালিক ভোগদখলকার হিসাবে ব্যবসা পরিচালনা করি। পরবর্তীতে আমার ভূমির পার্শ্ববর্তী মালিক শাহাজাদ আলী আমার উক্ত ভূমি বাজার মূল্যের অনেক কম দামে ক্রয় করার প্রস্তাব দিলে আমি তাতে অনীহা প্রকাশ করি।

এরপর হতে শমশেরনগর বাজারের শাহাজাদ আলী ও তার অনুসারী আনোয়ার হোসেন রিমন একের পর এক হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে আমাকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। আমার দোকান গৃহের সংস্কার কার্যক্রম চলমান থাকায় প্রতিপক্ষ বারান্দা ভেঙ্গে যাওয়ার অজুহাতসহ মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে মামলা দায়েরের পর পুলিশের মাধ্যমে দোকান গৃহের সংস্কার কার্যক্রমে বিধিনিষেধ দেয়া হয়। এতে কাজ সাময়িক বন্ধ রাখতে হয়েছে আর আমার ক্রয়কৃত প্রয়োজনীয় নির্মাণ সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বক্তব্যে আরও বলা হয়, আমার ক্রয়কৃত ভূমিকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ শাহাজাদ আলী ও আনোয়ার হোসেন রিমন বাদী হয়ে এ পর্যন্ত আদালতে পর পর পাঁচটি হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেছে। এর মধ্যে দুইটি খারিজ হয়েছে, একটি আমার পক্ষে রায় হয়েছে এবং দুইটি মামলা চলমান রয়েছে। তাদের হয়রানিমূলক মামলার কারনে আবারও আমার দোকান ভিটায় সংস্কার কার্যক্রম পুলিশি বাঁধায় স্থগিত রয়েছে। এতে আমার ব্যাপক আর্থিক ক্ষতিসাধিত হচ্ছে।

প্রতিপক্ষের মামলার অধিকাংশ নালিশা আর.এস ১৭০৬ দাগের কথা থাকলেও নালিশা বহির্ভূত আর.এস ১৭০৭ দাগে আমার দখল সত্ত্বেও কমলগঞ্জ থানা পুলিশ দিয়ে আমাকে বাঁধা প্রদান করে। প্রতিপক্ষরা নিজেদের প্রভাব প্রতিপত্তির মাধ্যমে আমাকে নানা সময়ে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। তারা আদালতে মামলা দেখিয়ে পুলিশের মাধ্যমে আমার স্বত্ব দখলীয় দোকান ভিটা নির্মাণ কার্যক্রমে বারবার বাঁধাগ্রস্ত করছে এবং আমাকে মানসিক ও আর্থিকভাবে ক্ষয়ক্ষতি করছে। পাকা দালান ঘর নির্মাণ কাজে আনোয়ার হোসেন রিমনের বাঁধা প্রদানে আমি প্রতিবাদ জানালে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজসহ প্রাণনাশের হুমকি ধামকি প্রদর্শনের কারনে গত ২৬ জুন কমলগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।
অভিযোগ বিষয়ে আনোয়ার হোসেন রিমন বলেন, আমি আইন আদালত সবই মানি। আমরা তার ঐ ভূমি কেনার চেষ্টা করলেও তিনি আমাদের কাছে বিক্রি করতে রাজি হননি। তবে শাহীন শেখ আমাদের ভূমির আট পয়েন্ট জায়গা বেশি দখলে রেখেছেন।এজন্য আদালতে মামলা দায়ের করেছি।
এব্যাপারে কমলগঞ্জ থানার ওসি মো. কমর উদ্দীন সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এবিষয়ে গতকাল রাতে শাহীন শেখ এর একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি এএসআই আব্দুল হামিদকে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শমশেরনগর বাজার ব্যবসায়ী আনোয়ারুল হক, মো. মুকিদ, রেজাউল করিম, মো. কালা মিয়া ও আনোয়ার মিয়া|