মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে জমি ও চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে স্বামী ও শাশুড়িকে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী সাতজনের বিরুদ্ধে। এ সময় এক নারীকে মারধর ও তাঁর পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। উপজেলার ৬ নম্বর আলীনগর ইউনিয়নের শ্রীনাথপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী লাভলী মল্লিকের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত ৮টার দিকে তাঁর বসতঘরের উঠানে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় লাভলী মল্লিক বাদী হয়ে কমলগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
অভিযোগে বলা হয়, জমি ও চলাচলের রাস্তা নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে লাভলী মল্লিকের বাড়ির উঠানে প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁর স্বামী রামানন্দ মল্লিককে ধারালো দা, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাঁর শাশুড়ি জোসনা মালাকারকেও মারধর করা হয়। একই সঙ্গে লাভলী মল্লিককে মারধর এবং তাঁর পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় আহত রামানন্দ মল্লিক ও জোসনা মালাকারকে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
এ ঘটনায় প্রেমা মালাকার, বিকাশ মালাকার ও উপেন্দ্র মালাকারসহ সাতজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন লাভলী মল্লিক।
আহত রামানন্দ মল্লিক কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ট্যুরিস্ট গাইড হিসেবে কাজ করেন। লাভলী মল্লিকের দাবি, ২০২৩ সালেও তাঁর বৃদ্ধা শাশুড়িকে আঘাত করার ঘটনা ঘটেছিল। তবে সে ঘটনায় তাঁরা কোনো বিচার বা আইনি সহযোগিতা পাননি বলে জানান তিনি।
কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কমর উদ্দিন বলেন, থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, তদন্ত চলছে। সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।