মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে পৈতৃক সম্পত্তির ভাগ-বণ্টন ও নতুন ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের দুই সংসারের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের মধ্যভাগ বাজারে জমির মালিকানা নিয়ে এ বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই কমলগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেছেন। তবে জমির প্রকৃত মালিকানা ও দলিলের বৈধতা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে রয়েছে ভিন্নতা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফজলুল বক্তের প্রথম ও দ্বিতীয় সংসারের সদস্যদের মধ্যে মধ্যভাগ বাজারের একটি জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। প্রথম পক্ষের প্রবাসী ছেলে মো. মিজান বক্ত মিলনের দাবি, বাজারে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া পাঁচ শতাংশ এবং বাবার কাছ থেকে ক্রয় করা আরও পাঁচ শতাংশসহ মোট ১০ শতাংশ জমি তাঁদের রয়েছে। ওই জমিতে পুরোনো দোকানঘর ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিলে দ্বিতীয় সংসারের সদস্যরা বাধা দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মিজান বক্ত মিলনের অভিযোগ, জগলু বক্ত, মুন্না বক্ত ও মোছাম্মৎ সাবিনা বেগম ভবন নির্মাণে বাধা দিচ্ছেন। তাঁর দাবি, জমির মালিকানার বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে এবং সেই ভিত্তিতেই তাঁরা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন।
অন্যদিকে, ফজলুল বক্তের দ্বিতীয় সংসারের মেয়ে মোছাম্মৎ সাবিনা বেগমের দাবি, মধ্যভাগ বাজারের ওই জমি তাঁর দুই ভাইয়ের নামে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, বাবার প্রথম সংসারের তিন ভাই কৌশলে তাঁর বাবার কাছ থেকে জমির দলিল করে নিয়েছেন। এতে তাঁদের পরিবার সম্পত্তির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে। বর্তমানে তাঁদের পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
দুই পক্ষের এমন পাল্টাপাল্টি অভিযোগে পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তবে জমির পরিমাণ, মালিকানা, ক্রয় ও হস্তান্তরের দলিল এবং উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্য হিস্যা যাচাই না করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কমর উদ্দিন বলেন, “বাবার সম্পদের ভাগাভাগি নিয়ে দুই সংসারের মধ্যে ঝামেলা চলছে। উভয় পক্ষ থানায় অভিযোগ করেছেন। তদন্ত চলছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”