মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ১নং রহিমপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত একটি জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা কেটে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে স্থানীয় গ্রামবাসী প্রতিবাদ সভা করেছেন।
প্রতিবাদ সভায় স্থানীয় বাসিন্দা হাফেজ মাওলানা মোস্তাকিম আহমেদ এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন মাওলানা কাজী ওমর ফারুক, মন্নান মিয়া, জন্নান মিয়া ও আব্দুল মিয়া।

এ সময় প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন রাস্তায় চলাচলকারী বাসিন্দা জব্বার মিয়া, হাছন মিয়া, রিপন মিয়া, রুহেল মিয়া, আলতাফুর রহমান, শিপন মিয়া, ফেরদৌস মিয়া, বদরুল ইসলাম, হাফেজ রুবেল আহমদ, মইনুল মিয়া, শোয়েব মিয়াসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সভায় বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, স্বাধীনতারও পূর্ব সময় থেকে প্রায় ৬০ বছর ধরে রামচন্দ্রপুর গ্রামের মানুষ এই রাস্তা ব্যবহার করে আসছেন। তিন প্রজন্ম ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা এ পথ দিয়ে চলাচল করছেন। দেওরাছড়া চা বাগানের একাংশের চা শ্রমিকসহ শতাধিক পরিবারের যাতায়াতের একমাত্র সড়ক এটি। প্রতিদিন গড়ে পাঁচ শতাধিক মানুষ এই রাস্তা ব্যবহার করেন।

বক্তাদের দাবি, শুরুতে রাস্তা সরু থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি প্রায় ১৬ ফুট প্রশস্ত হয়েছে। স্থানীয় সরকার ও জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগে বিভিন্ন সময় রাস্তার সংস্কার ও উন্নয়ন কাজও হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি রাস্তার পাশের বাসিন্দা খুশেদ মিয়া (প্রকাশ খোশিয়া) ও তার বড় ভাই বারিক মিয়া (প্রকাশ বারিক্কা), রাস্তার দুই পাশ কেটে সংকুচিত করে দিয়েছেন। এতে সাধারণ মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, বারিক মিয়া রাস্তার পাশে গর্ত করে সেখানে গোবর ও ময়লা-আবর্জনা ফেলছেন, যা পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে বর্ষা মৌসুম চলছে।এখন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। রাস্তার বর্তমান অবস্থার কারণে অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া, শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াত এবং জরুরি প্রয়োজনে মৃতদেহ বহন করাও কঠিন হয়ে পড়বে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে এলাকায় মানবিক সংকট সৃষ্টি হতে পারে।

সভা থেকে প্রশাসনের প্রতি দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে রাস্তার প্রকৃত অবস্থা যাচাই করে দখল ও প্রতিবন্ধকতা অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়।
রাস্তা কেটে দেওয়ার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছে স্থানীয় বাসিন্দা জন্নান মিয়া। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত জনসাধারণের রাস্তা কেটে প্রভাব বিস্তার করে বারিক মিয়া (প্রকাশ বারিক্কা) বন্ধ করে দিয়েছে। অথচ তিনিই আমাদের রাস্তা দিয়ে চলাচল করেন। এভাবে রাস্তা কেটে মানুষকে তিনি কষ্টতে রেখেছেন। এখন বর্ষাকাল খুব খারাপ অবস্থা। আমাদের বাচ্চারা স্কেুল কলেজে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমাদের চলাচলের রাস্তাই খারাপ তার উপর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হল। আমার প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ট বিচার চাই।

রাস্তা কেটে বন্ধ করার বিষয়ে বারিক মিয়া (প্রকাশ বারিক্কা) বলেন, ‘আমার দলিলের জায়গায় রাস্তা পড়েছে তাই আমি কেটেছি। এখানে কার সমস্যা বা কিসের সমস্যা এটা জানার বিষয় আমার নাই। ’
এ বিষয়ে রহিমপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিতাংশু কর্মকার বলেন, ‘মানুষের চলাচলের রাস্তা কেটে দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত আছি। গ্রামবাসীর ন্যায্য স্বার্থ রক্ষায় এবং সমস্যার দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
কমলগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী অফিসার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, রাস্তা কাটা বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।