মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৯ অপরাহ্ন

পুলিশের গাড়িতে লিফট নিয়ে মামলার আসামী লিটন-জুনায়েদ, মুক্তির দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১৫ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬

পুলিশের এক কর্মকর্তার ব্যক্তিগত গাড়িতে লিফট নেওয়ার পর স্পর্শকাতর মামলায় আসামি করা হয়েছে সংবাদকর্মী লিটন মিয়া ও চালক জুনায়েদ আহমদকে—এমন অভিযোগ তুলেছে তাদের পরিবার। প্রকৃত ঘটনার ভিন্ন চিত্র থাকা সত্ত্বেও পরিকল্পিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ মে) দুপুর ২টায় সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন আটক লিটন মিয়ার বড় ভাই মরম আলী।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টার পর সিলেট নগরের এয়ারপোর্ট রোডের এডভেঞ্চার ওয়াল্ড এলাকায় একটি চেকপোস্টে একটি প্রাইভেটকার তল্লাশি করা হয়। তল্লাশির সময় গাড়ির পেছনের সিটে একটি ওয়াকিটকি এবং পেছনের অংশে একটি চাকু পাওয়া যায়। এ ঘটনায় গাড়িতে থাকা লিটন মিয়া ও চালক জুনায়েদ আহমদকে আটক করা হয়।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ১১টার দিকে। কোম্পানীগঞ্জ থানাধীন ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই কামরুল নিজস্ব গাড়িতে গ্যাস নেওয়ার উদ্দেশ্যে চালক জুনায়েদকে নিয়ে সিলেট নগরের দিকে রওনা হন। পথে ভোলাগঞ্জ এলাকা থেকে বের হওয়ার সময় তার সঙ্গে লিটনের দেখা হয়। পরিচিত হওয়ায় এবং লিটনের সিলেটে জরুরি কাজ থাকায় তাকে গাড়িতে তুলে নেন ওই কর্মকর্তা।

পরে পাড়ুয়া এলাকায় পাথর উত্তোলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের খবর পেয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকা হওয়ায় এসআই কামরুল মাঝপথে নেমে যান বলে দাবি পরিবারের। এরপর চালক জুনায়েদ গাড়ি নিয়ে সিলেটের দিকে রওনা দেন। এ সময় গাড়ির সামনের সিটে ছিলেন লিটন ও চালক।

চেকপোস্টে আটকের পর লিটন ও জুনায়েদ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানান, ওয়াকিটকি ও গাড়ির মালিক এসআই কামরুল। সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, বিষয়টি জানালে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে গাড়ি ও ওয়াকিটকির মালিকানা স্বীকার করেন। তার স্বীকারোক্তির অডিও ও ভিডিও পরিবারের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও জানানো হয়। পরে তিনজনকে থানায় নেওয়া হলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদেও মালামালের মালিকানা এসআই কামরুলের বলে নিশ্চিত হওয়া যায় বলে পরিবারের বক্তব্য।

তবে এরপরও লিটন মিয়া ও জুনায়েদ আহমদকে ‘ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আটক’ দেখিয়ে একটি মামলা দায়ের করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মরম আলী। তার দাবি, প্রভাবশালী একটি মহলের যোগসাজশে পরিকল্পিতভাবে তাদের এই মামলায় আসামি করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, লিটন মিয়া পেশায় একজন সংবাদকর্মী এবং গণ অধিকার পরিষদের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শাখার আহ্বায়ক। তিনি তিন সন্তানের জনক এবং পারিবারিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তার সামাজিক ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ণ করতেই এ মামলা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।

বর্তমানে লিটন মিয়া ও জুনায়েদ আহমদ কারাগারে রয়েছেন। সংবাদ সম্মেলন থেকে অবিলম্বে তাদের মুক্তি, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত ঘটনার সুষ্ঠু অনুসন্ধানের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর