বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়য়নে চা শ্রমিক নারীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন প্রবীন বিএনপি নেত্রী মৌলভীবাজারে বুধবার ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী মৌলভীবাজারে হাওর থেকে অজগর উদ্ধার, বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর তিন মাস পর পুনরায় চালু ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতাল স্মৃ‌তিচারণ: জিয়া প‌রিবার নিজ চোখে দেখাটুকু জীবনেরই সঞ্চয় সীমান্তে গু/লিতে নি/হত বাংলাদেশির লা/শ হস্তান্তর করল বিএসএফ সংখ্যালঘুদের নিরাপদ ও তথ্যভিত্তিক নির্বাচনী অংশগ্রহণ জোরদারের দাবি রূপসার ৬০ বছরের পুরোনো গ্রামীণ সড়ক কেটে প্রতিবন্ধকতা, কমলগঞ্জে গ্রামবাসীর প্রতিবাদ সভা

‘ময়লা ফেলা নিষেধ’ লেখা সাইনবোর্ডের পাশেই ময়লার ভাগাড়

সালাহউদ্দিন শুভ / ১৭৬ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৫

সাইনবোর্ডে লেখা আছে, “এই জমি মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সিবাজার উপ-স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আওতাধীন, সরকারি জায়গা। সরকারি হাসপাতাল/প্রতিষ্ঠানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা নিষেধ। আদেশক্রমে: কর্তৃপক্ষ।” তবুও ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। সাইনবোর্ড টানিয়েই যেন দায়িত্ব শেষ। তদারকি নেই।

এই ময়লার স্তূপ কমলগঞ্জ-মৌলভীবাজার সড়ক ঘেঁষে মুন্সিবাজার এলাকার বাজারের পাশে অবস্থিত মুন্সিবাজার উপ-স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের খালি জায়গাকে পুরোপুরি ময়লার ভাগাড়ে পরিণত করেছে। দুর্গন্ধের কারণে স্কুল, কলেজ, পথচারীসহ স্থানীয় মানুষরা চরম সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ওই স্থানে একটি টিনের সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। তাতে লেখা আছে, “সরকারি হাসপাতাল/প্রতিষ্ঠানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা নিষেধ। আদেশক্রমে: হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।” সাইনবোর্ড থাকলেও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ঠিক উল্টো চিত্র। প্রতিটি জায়গায় বড় বড় ময়লার স্তুপ, এবং হাসপাতালের গেটের সামনেও ময়লার স্তূপ রয়েছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, প্রতিদিন শত শত যাত্রীবাহী যানবাহন, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতা ও পথচারীরা এ সড়ক ব্যবহার করেন। কিন্তু মুন্সিবাজার উপ-স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কাছে গেলে তারা দুর্গন্ধের মুখোমুখি হন। কারণ, ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন স্থানীয় বাজার পরিষ্কার করে ময়লা-আবর্জনা সড়কের পাশে ফেলে দেন, যা পচে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে।

  • রহিম মিয়া নামে এক পথচারী বলেন, “রাস্তার পাশে আবর্জনা ফেলে পরিবেশ নোংরা করা হয়েছে। এখানে একটি হাসপাতালও আছে। এটি কোনোভাবেই সহ্য করার মতো নয়। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে। একটু বৃষ্টি হলেই এসব বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ে। শুধু দুর্গন্ধই নয়, মশা-মাছিও জন্ম নিচ্ছে।”

এ এলাকার শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দা মাহমুদ মিয়া বলেন, “অসুস্থ হলে এলাকাবাসী হাসপাতালটিতে আসতেন। বর্তমানে হাসপাতালই অসুস্থ। হাসপাতালের সামনে ময়লার ভাগাড় থাকার কারণে রোগী তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষও আসে না। আমরা প্রতিবাদ করেছি, কিন্তু কোনো প্রতিকার পাইনি।”

স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আজীজ আহমদ বলেন, “রাস্তার পাশে ময়লা-আবর্জনার স্তুপ থেকে উৎকট দুর্গন্ধ ছড়ায়। ফলে ওই এলাকায় থাকা কষ্টকর হয়ে গেছে। বেশ কয়েকবার অভিযোগ দিলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি।”

মুন্সিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হিমেল চৌধুরী জানান, “ময়লা ফেলার জায়গা না থাকায় এখানে ফেলা হচ্ছে। আমাদের কিছু করার নেই। আমরা যেমন সরকারি জায়গায় দোকানদারী করছি, ঠিক তেমনি এখানে ময়লা ফেলা হচ্ছে।”

স্থানীয় মুন্সিবাজার ইউপি চেয়ারম্যান নাহিদ আহমদ তরফদার বলেন, “আমি ময়লার বিষয়টি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে তুলেছি। ইউএনও সাহেব দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।”

  • কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম ভূইয়া বলেন, “ময়লা অপসারণের জন্য বাজার কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় চেয়ারম্যানকে অবগত করেছি। কিন্তু ফলাফল পাইনি। আবারও তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করব।”

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাখন চন্দ্র সূত্রধর বলেন, “যে স্থানে আবর্জনা ফেলা হচ্ছে, তা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জায়গা। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর