সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৯:৪৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
শিক্ষার আলো ছড়ানো এক প্রজ্ঞাবান মানুষ: অধ্যক্ষ কোরেশ খানের জীবন ও কর্ম জুড়িতে মৎস্য কর্মকর্তার অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন আদিবাসীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করবে সরকার: কুলাউড়ায় শওকতুল ইসলাম এমপি প্রবাসীর হাত ধরে শিক্ষার আলো: কমলগঞ্জে স্কুল ড্রেস ও মেধাবৃত্তি বিতরণ অনুষ্ঠানে এমপি মুজিব ৪০ কোটি টাকার পানি প্রকল্পে বাড়ছে ভোগান্তি; বিল বৃদ্ধি, সংযোগে অতিরিক্ত খরচ ও সেবার মান নিয়ে ক্ষোভ কমলগঞ্জে রয়েস্টন কাউন্সিলে বিপুল ভোটে কাউন্সিলর নির্বাচিত হলেন ‘বুলবুল আহমেদ’ কমলগঞ্জে পর্যটন শিল্পের মানোন্নয়নে রিসোর্ট মালিকদের সঙ্গে এমপির মতবিনিময় কমলগঞ্জে ডিবির অভিযানে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার শ্রীমঙ্গলে শ্রমিক নির্যাতন: আহত ৩, থানায় অভিযোগ কমলগঞ্জে তরুণ উদ্যোক্তা ও কৃষিবিদ মুঈদ আশিক চিশতীর উদ্যোগ

এ বছর কেন এত গরম

অনলাইন ডেস্ক / ২৭২ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : বুধবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৪

প্রতি বছর এপ্রিলে তাপমাত্রা বেশিই থাকে। তবে এবারের গরম ভেঙেছে অতীতের সব রেকর্ড। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি তাপমাত্রার স্কেল ছাড়িয়েছে সৌদি আরবকেও।

গরমের এমন পরিবর্তন কিন্তু এক দিনের ফল নয়। এর পেছনে রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নানা বিষয়। এমনিতে জলবায়ুর পরিবর্তনে কোনো দেশ এককভাবে দায়ী নয়। পৃথিবীর সব দেশেই প্রত্যক্ষ ও পরক্ষ্যভাবে জলবায়ুর পরিবর্তনের জন্য দায়ী। যার ফলস্বরূপ দেখা দিয়েছে আবাহাওয়ার পরিবর্তন।

কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদের বলেন, গত বছর বাতাসে আর্দ্রতা কম ছিল। এবার আর্দ্রতা বেশি থাকার কারণে মানুষের শরীর ঘামছে, অস্বস্তি বেশি হচ্ছে। এই সময়ে পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে বৃষ্টিপাত হয়। এবার বৃষ্টিপাত কম। কালবৈশাখী ও বৃষ্টি না থাকায় এবার গরমের তীব্রতা বেশি।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক সমরেন্দ্র কর্মকার বলছেন, গরমের সঙ্গে এপ্রিলে সাধারণত বজ্রঝড়ও হয়ে থাকে। এ বছর বজ্রঝড় না হওয়ায় বৃষ্টি হচ্ছে না। পশ্চিমা ঝঞ্ঝার কারণে যে বজ্রঝড় হয়, সেটা ভূমধ্যসাগর থেকে আফগানিস্তান, পাকিস্তানের ওপর দিয়ে এসে বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয়বাষ্পের সঙ্গে মিশে বজ্রঝড় সৃষ্টি করে। জলীয়বাষ্প পুঞ্জীভূত হয়ে বৃষ্টি হওয়ার কথা। সেটি পুঞ্জীভূত না হয়ে অন্যদিকে চলে যাচ্ছে। এ কারণেই গরম বেশি পড়ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারপারসন ফাতিমা আক্তারের পর্যবেক্ষণ, সারা বছরের বৃষ্টিপাতের ১০ শতাংশ বৃষ্টি হয় গ্রীষ্মে। এবার এখনও সেভাবে বৃষ্টি হয়নি। জলবায়ুর পরিবর্তন তো আছেই। মনুষ্যসৃষ্ট কারণ যেমন- গাছপালা কেটে ফেলা, গ্রিনহাউজ গ্যাসের পরিমাণ অনেক বেড়ে যাওয়া, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও জলাশয় ভরাটের কারণেই দিন দিন তাপমাত্রা বেড়ে চলেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের এমিরিটাস অধ্যাপক নজরুল ইসলাম গরম বৃদ্ধিকে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের অংশ হিসেবে দেখেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এতটা নগরায়ন হয়নি, যার প্রভাবে পরিবেশ এত গরম হয়ে উঠবে। বরং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফল ভোগ করছে বাংলাদেশের মানুষ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে একদিকে শীতের প্রকোপ বাড়ছে, অন্যদিকে গ্রীষ্মের দাবদাহও অনুভূত হচ্ছে। সারা বিশ্বেই কার্বন নিঃসরণের জন্য এখন তাপমাত্রা বাড়ছে। নগরায়ন, শিল্পায়ন, ইটভাটা, যানবাহনের ব্যবহার বেশি- এগুলো তাপমাত্রা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ বলছে, শেষ তিন দশকে বাংলাদেশের আবহাওয়া আগের তুলনায় উষ্ণ হয়ে উঠেছে। বৃষ্টিপাত ও শীতের দিন কমছে, বছরের বড় অংশজুড়ে গরমের বিস্তার বাড়ছে। গড় তাপমাত্রা বেড়ে এপ্রিল মাস আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩ সালে স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি গরমের মধ্যে কাটাতে হয়েছে। গত বছর অবশ্য পুরো পৃথিবীরই সবচেয়ে উষ্ণতম বছর ছিল। এ বছরও আরও বেশি গরমের সঙ্গে মানিয়ে চলতে হতে পারে বলে সতর্ক করছেন আবহাওয়াবিদরা।


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর