ঢাকার মহাখালীতে জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতালের উপপরিচালক আহমদ হোসেনকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় আরো দুজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে পুলিশ। সোমবার রাতে মামলার পরই তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন গুলশান জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার শাহ মোস্তফা তারিকুজ্জামান।
বনানী থানা পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার এ দুইজন হলেন- ইউসূফ আলী ও নেছার আহমেদ।
এর আগে এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে র্যাব। ফলে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
সোমবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে পুরনো ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ভবনের পেছনের গলিতে ৫০ বছর বয়সি আহমদকে ছুরিকাঘাত করা হয়। ছুরি হামলার পর তাকে ওই হাসপাতালেই চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পুলিশ বলছে, কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরছিলেন ওই চিকিৎসক। এ সময় নাম না জানা দুই-তিনজন তার ডান হাত ও পিঠে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।
পুলিশ কর্মকর্তা তারিকুজ্জামান বলেন, “রাতেই অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে একটি মামলা করা হয়েছে। পরে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
“আরো কয়েকজনের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে, তাদেরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
হামলার কারণ কী, এমন প্রশ্নের উত্তরে বনানী থানার ওসি ফরিদ আহমেদ বলেন, “আমাদের তদন্ত চলছে, আরো কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা গেলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
আহত চিকিৎসকের বরাতে পুলিশ জানিয়েছিল, বেশ কিছুদিন ধরে একটি বিদেশি নম্বর থেকে ‘টেন্ডার দেওয়ার জন্য হুমকি’ দেওয়া হচ্ছিল।
এ বিষয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ছুরিকাঘাতে আহত ওই চিকিৎসক হাসপাতালের কেনাকাটার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আছেন। হাসপাতালের টেন্ডার পাওয়ার জন্য রুবেল নামের একজন তাকে বেশ কয়েকদিন ধরে বিদেশি নম্বর দিয়ে ফোন দিয়ে আসছিল।
রুবেলের বাবা ওই হাসপাতালের একজন স্টাফ ছিলেন, ফলে বিষয়গুলো সম্পর্কে রুবেল অবগত বলে মনে করছে পুলিশ।
রুবেল নামের ওই যুবক ‘দীর্ঘদিন ধরেই লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে’ বিভিন্ন লোকজনদের দিয়ে এলাকায় নানান অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।