বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
জমির অভাবে থমকে কোটি টাকার বর্জ্য শোধনাগার প্রকল্প জুড়ীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের বিশেষ মহড়া পর্দা নামল তিন দিনব্যাপী হারমোনি ফেস্টিভ্যালের কমলগঞ্জে ভাড়া বাসার তালা ভেঙে সাড়ে ৪ লাখ টাকা চুরির অভিযোগ শ্রীমঙ্গলে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ২০ লাখ টাকার জিরা লুটের অভিযোগ; জাসাসের বহিষ্কৃত নেতা গ্রেফতার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মিলনমেলায় শুরু হারমনি ফেস্টিভ্যাল সিলেটকে পর্যটন ও বিমান যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে: পর্যটন মন্ত্রী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতিকে পর্যটন সম্পদে রূপান্তর করা হবে : পর্যটনমন্ত্রী কমলগঞ্জে সড়কের বেহাল অবস্থা,দুর্ভোগে হাজারো মানুষ শ্রীমঙ্গলে শুরু হচ্ছে ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল’

জমির অভাবে থমকে কোটি টাকার বর্জ্য শোধনাগার প্রকল্প

ডেস্ক রিপোর্ট / ২৪ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬

শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় এক একর জমির অভাবে থমকে আছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ পৌরসভায় কোটি টাকার ফিক্যাল স্লাজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এফএসটিপি) বা বর্জ্য শোধনাগার প্রকল্পের কাজ। ফলে পরিবেশ সুরক্ষা, জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং আধুনিক স্যানিটেশন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ এ উদ্যোগের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন পৌরসভার প্রায় কয়েক হাজার বাসিন্দা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার বিভাগের পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন উন্নয়ন কার্যক্রমের আওতায় কমলগঞ্জ পৌরসভায় বেশ কয়েকটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৬ লাখ লিটার ধারণক্ষমতার একটি ওভারহেড জলাধার নির্মাণ, ৩৭ কিলোমিটার দীর্ঘ পানি সরবরাহ পাইপলাইন স্থাপন, ৩টি উৎপাদন নলকূপ খনন, প্রায় ৩ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ এবং ৭৫০টি স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট স্থাপন। এছাড়া মানব বর্জ্য সংগ্রহ ও পরিবহনের জন্য দুটি আধুনিক ভ্যাকুয়াম ট্রাকও সরবরাহ করা হয়েছে।

তবে স্যানিটেশন ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত ফিক্যাল স্লাজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় এক একর জমি এখনও পাওয়া যায়নি। ফলে সেপটিক ট্যাংক ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার মাধ্যমে সংগ্রহ করা মানব বর্জ্য পরিবেশসম্মত উপায়ে শোধনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে না।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অধিকাংশ এলাকায় সেপটিক ট্যাংক থেকে উত্তোলিত বর্জ্য নির্দিষ্ট শোধন প্রক্রিয়া ছাড়াই বিভিন্ন স্থানে ফেলা হয়, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এফএসটিপি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভ্যাকুয়াম ট্রাকের মাধ্যমে সংগৃহীত বর্জ্য শোধনাগারে নিয়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাত করা হবে। এতে ক্ষতিকর জীবাণু ও দূষণকারী উপাদান অপসারণের পাশাপাশি উৎপাদিত কঠিন বর্জ্য জৈব সারে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।


এ বিষয়ে কমলগঞ্জ পৌরসভার প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন বলেন, পৌরসভায় আধুনিক স্যানিটেশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এ প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকার প্রকল্পটি শুধু এক একর জমির অভাবে বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। প্রয়োজনীয় জমি পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। অন্যথায় পৌরবাসী প্রকল্পের সুফল থেকে বঞ্চিত হবেন।

কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার রায় বলেন, বর্জ্য শোধনাগার থেকে উৎপাদিত জীবাণুমুক্ত জৈব সার কৃষি খাতের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি মাটির জৈব উপাদান বৃদ্ধি, উর্বরতা পুনরুদ্ধার এবং রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে সহায়তা করবে। দীর্ঘমেয়াদে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

কমলগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য এক একর জমি প্রয়োজন। জমি পাওয়া গেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু করা হবে। এ বিষয়ে সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করার কাজও চলছে।


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর