মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে জিরাবহনকারী কার্ভার্ডভ্যানের চালক ও সহকারীকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে গাড়ি, মোবাইল ফোন, নগদ টাকা এবং প্রায় ২০ লাখ টাকার জিরা লুটের অভিযোগে জাসাসের বহিষ্কৃত নেতা জাহেদ আলীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আরও তিন থেকে চারজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা হয়েছে। শনিবার রাত আড়াইটার দিকে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের একটি দল শহরে অভিযান চালিয়ে জাহেদ আলীকে গ্রেফতার করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বাবলু পাল। পরে রোববার বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেফতার জাহেদ আলী (৩০) শ্রীমঙ্গল শহরের শাহীবাগ এলাকার মৃত নায়েব আলীর ছেলে। বহিষ্কারের আগে তিনি শ্রীমঙ্গল পৌর জাসাসের আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব ছিলেন।
মামলার বাদী সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর এলাকার মৃত আতাউর রহমানের ছেলে ব্যবসায়ী আফজালুর রহমান।

তিনি অভিযোগ করেন, গত মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তার পাঠানো ১৬০ বস্তা জিরাবোঝাই একটি কার্ভার্ডভ্যান শ্রীমঙ্গল শহরের পুরানবাজার এলাকায় উত্তম বাবুর দোকানের সামনে পৌঁছালে জাহেদ আলীসহ তিন থেকে চারজন ব্যক্তি গাড়িটি আটকান।
এ সময় অভিযুক্তরা চালক ও সহকারীকে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে সহকারী শরিফকে জিম্মি করে গাড়িটি হবিগঞ্জ সড়কের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। শ্রীমঙ্গল শহরতলির উত্তরসুর এলাকায় পৌঁছে চালক ও সহকারীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দিয়ে অভিযুক্তরা গাড়িসহ জিরার চালান নিয়ে পালিয়ে যায়।
অভিযোগকারী ব্যবসায়ী আফজালুর রহমান জানান, লুট হওয়া জিরার পরিমাণ ৪ হাজার ৮০০ কেজি বা ১৬০ বস্তা। যার বাজারমূল্য প্রায় ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ ছাড়া গাড়িচালকের কাছে থাকা খরচের ২০ হাজার টাকা এবং চালক ও সহকারীর ব্যবহৃত দুটি ইনফিনিক্স স্মার্টফোনও নিয়ে যায় অভিযুক্তরা। মোবাইল দুটি মিলিয়ে আনুমানিক ৪০ হাজার টাকা মূল্যমানের বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্যবসায়ী আফজালুর রহমান রোববার রাতে বলেন, ঘটনার পর চালক ও সহকারীর কাছ থেকে বিস্তারিত শুনে এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অভিযুক্তদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করেন। অজ্ঞাতনামা আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহে সময় লাগায় মামলা করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ দেখে এবং বিভিন্নভাবে তথ্য সংগ্রহ করে শনিবার থানায় মামলা করেছি।’
শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ব্যবসায়ীর অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে জাহেদ আলী নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালের ২১ জুলাই একটি জাতীয় দৈনিকে জাহেদ আলীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর তাকে শ্রীমঙ্গল পৌর জাসাসের আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব পদ থেকে অব্যাহতি দেয় মৌলভীবাজার জেলা জাসাস।
জেলা জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক ও দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাকসুদ আশরাফ রুহেলের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী ও গঠনতন্ত্রপরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় জাহেদ আলীকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। চিঠিতে চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছিল।