মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০১:৪৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
হাম আতঙ্কে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জে ঈদ পর্যটনে ধাক্কা; চিন্তায় ব্যবসায়ী ঈদের আগে মজুরি বন্ধ, কমলগঞ্জ-হবিগঞ্জের চার চা বাগানে শ্রমিকদের কর্মবিরতি বিএনপি নেতার লেবু বাগানে বন্যপ্রাণী মারার বৈদ্যুতিক ফাদে শ্রমিকের মৃত্যু মৌলভীবাজারে রেঞ্জ ডিআইজির কল্যাণ সভা ও অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত জননিরাপত্তা নিশ্চিতে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের বিশেষ ফোর্স মোবিলাইজেশন ড্রিল মৌলভীবাজারে ছিনতাইকারী চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার, লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকার উদ্ধার শ্রীমঙ্গলে একদিনে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু কমলগঞ্জে চা পাতা তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে আহত ৫ নারী শ্রমিক ঈদকে সামনে রেখে শ্রীমঙ্গলে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, যানজট নিরসনে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ ও মশক নিধন কার্যক্রম উদ্বোধন শনিবার থেকেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছুটি শুরু

হাম আতঙ্কে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জে ঈদ পর্যটনে ধাক্কা; চিন্তায় ব্যবসায়ী

সালাহউদ্দিন শুভ / ১৭ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে প্রতি বছর ঈদকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের ঢল নামে। চা-বাগান, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রপাত এবং বিলাসবহুল রিসোর্টগুলোতে ভিড় থাকে উপচেপড়া। তবে এবার সেই চিরচেনা দৃশ্য ম্লান হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেশের শিশুদের মধ্যে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির কারণে ঈদ মৌসুমে পর্যটক সমাগম কমতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, সাধারণত ঈদের ছুটিকে ঘিরে এক মাস আগ থেকেই হোটেল ও রিসোর্টে অগ্রিম বুকিং শুরু হয়। কিন্তু এবার বুকিংয়ের হার তুলনামূলক কম। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে ভ্রমণে আগ্রহীরা শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় ভ্রমণ পরিকল্পনা স্থগিত করছেন।

শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন হোটেল ও রিসোর্ট মালিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, নভেম ইকো রিসোর্ট, বালিশিরা, চাওমিন ও কমলগঞ্জের টিলাগাঁও ও অরণ্য নিবাস রিসোর্টে ঈদের সময় সাধারণত শতভাগ বুকিং হয়ে যায়। কিন্তু এবছর এখনও অনেক কক্ষ খালি রয়েছে। পর্যটকদের মধ্যে স্বাস্থ্যভীতি এবং অন্যান্য কারণে আগমন কমতে শুরু করেছে।

শ্রীমঙ্গল রাধানগরের চামুং রেস্টুরেন্টের মালিক তাপস দাস বলেন, ‘ঈদে পর্যটকদের কারণে আমাদের বিক্রি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এবার যদি পর্যটক কম আসে, তাহলে ব্যবসায় বড় প্রভাব পড়বে।’

শ্রীমঙ্গল গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্ট অ্যান্ড ট্যুরের ব্যবস্থাপক সেলিম আহমেদ জানান, ‘দেশব্যাপী শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেয়েছে, তাই পর্যটকদের আগমন কমার শঙ্কা রয়েছে। এছাড়া অতিবৃষ্টি, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বেহাল দশা ও পর্যটন এলাকার সংযোগ সড়কের খারাপ অবস্থার কারণে ইতিমধ্যেই পর্যটক আগমন কমে এসেছে।’

পর্যটন ব্যবসায়ী ও ট্যুর গাইড অপারেটর এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রাসেল আলম জানান, ‘বৈশ্বিক পরিস্থিতি, যেমন ইরান ও ইসরাইলের যুদ্ধ এবং ২০২২-২৩ ও ২০২৪-২৫ সালে বিদেশী পর্যটক না আসার কারণে পর্যটন খাতে ক্ষতি হয়েছে। রেলপথ ও সড়কপথের দুর্বল অবস্থা এবং যানজটের কারণে বিদেশী পর্যটকেরা আসতে পারছে না। সরকারের কাছে আমরা সিলেট-ঢাকা রেলপথে আরও ট্রেন চালানোর দাবি জানাচ্ছি।’

রাধানগর পর্যটন কল্যাণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ও নিসর্গ নিরব ইকো কটেজের মালিক কাজী সামছুল হক বলেন, ‘পর্যটক কমে গেলে শুধু হোটেল-রিসোর্ট নয়, পরিবহন, রেস্টুরেন্ট, ক্ষুদ্র দোকান, গাইড এবং স্থানীয় শ্রমজীবী মানুষরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। কারণ ঈদ মৌসুমের আয়কে কেন্দ্র করেই বছরের বড় অংশের ব্যবসা নির্ভর করে।’ তিনি আরও জানান, ‘এ পর্যন্ত ৩০ শতাংশ বুকিং হয়েছে। ঈদের ছুটি এখনও চলছে, আশা করি আরও কিছু বুকিং হতে পারে।’

পর্যটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল চৌধুরী জানান, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি যৌথভাবে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এছাড়া যানজট নিরসনে পর্যটন পুলিশ কাজ করবে, যাতে পর্যটকরা নির্বিঘ্নে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।’


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর