রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ০৫:১১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত লক্ষাধিক চা শ্রমিক; হাসপাতাল খুলে দেওয়ার দাবিতে কমলগঞ্জে মানববন্ধন মৌলভীবাজারের এসপি রিয়াজুলকে প্রত্যাহার কমলগঞ্জে আলহাজ্ব মো. কোরেশ খানের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে আলোচনা সভা বড়লেখা থেকে জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে চাকরিচ্যুত সেনা সদস্য গ্রেপ্তার মনু নদী থেকে উদ্ধার ভারতীয় নাগরিকের মরদেহ ভারতের কাছে হস্তান্তর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতীয় দম্পতি আটক কমলগঞ্জে প্রবাসীদের উদ্যোগে অসহায় মহিলার বাড়ি সংস্কার কোয়ার্টার থেকে কমলগঞ্জের চাকরিজীবী তরুণীর ঝু/লন্ত মর/দেহ উ/দ্ধার কোটি মানুষের ভালোবাসা নিয়েও বাঁচানো গেল না কনটেন্ট ক্রিয়েটর আবু সাঈদকে, অনুদানের টাকা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন কমলগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ৭ জন পলাতক আসামী

দুই শত বছরের ঐতিহ্যে ছয়চিরি দিঘীর পাড়ে চড়ক পূজা: লোকজ আচার আর মেলায় উৎসবের ঢল

সালাহউদ্দিন শুভ / ৫৫ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬

চৈত্রের শেষ বিকেলের রোদ যখন ধীরে ধীরে নরম হয়ে আসে, তখনই যেন নতুন প্রাণ ফিরে পায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ১নং রহিমপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ছয়চিরি দিঘীর পাড়। প্রায় দুই শত বছরের পুরোনো চড়ক পূজা আর গ্রামীণ মেলাকে ঘিরে এ জনপদ তখন পরিণত হয় এক মিলনমেলায়—ধর্ম, সংস্কৃতি আর লোকজ ঐতিহ্যের এক অনন্য সমাহারে।

গতকাল মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) চৈত্র সংক্রান্তি ও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত এই উৎসব সকাল থেকেই টেনে আনে হাজারো মানুষকে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের ভিড়ে দিঘীর চারপাশ যেন জনসমুদ্রে রূপ নেয়। কেবল স্থানীয় মানুষ নয়, দেশ-বিদেশের পর্যটকরাও ছুটে আসেন এই বিরল আয়োজন প্রত্যক্ষ করতে।

উৎসবের প্রাণ ছিল চিরাচরিত তান্ত্রিক আচার-অনুষ্ঠান। চারপাশে ঢাকের শব্দ, ধূপের গন্ধ আর ভক্তদের উচ্চারণে এক অন্যরকম আবহ তৈরি হয়। সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল চড়ক গাছে সন্ন্যাসীদের ঘোরানো—পিঠে বড়শি গেঁথে আকাশে ঝুলে থাকা সেই দৃশ্য দর্শকদের শিহরিত করে। একই সঙ্গে জ্বলন্ত আগুনের ওপর ‘কালীনাচ’ এবং ধারালো দায়ের ওপর ‘শিব শয্যা’—এসব রোমাঞ্চকর আচার যেন লোকবিশ্বাস ও আধ্যাত্মিকতার এক নাটকীয় প্রকাশ।

জানা যায়, প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন ব্রত পালন শেষে ৪০ থেকে ৫০ জন সন্ন্যাসী এই দিনে তাদের কৃচ্ছ্রসাধনের সমাপ্তি ঘটান। দিঘীর উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণ পাড়ে স্থাপিত চারটি চড়ক গাছকে কেন্দ্র করে চলে পূজা ও আচার। ভক্তরা ফুল, দুধ ও চিনি নিবেদন করে পূজা দেন, প্রার্থনা করেন মঙ্গল ও কল্যাণের।

পূজার পাশাপাশি বসে বৃহৎ গ্রামীণ মেলা, যা উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। নাগরদোলার ঘূর্ণন, শিশুদের উচ্ছ্বাস, আর মাটির তৈজসপত্র ও বাঁশ-বেতের পণ্যের দোকানে ক্রেতাদের ভিড়—সব মিলিয়ে এক চিরচেনা গ্রামীণ বাংলার ছবি। খৈ-বাতাসার দোকানগুলোতেও ছিল উপচে পড়া ভিড়।

চড়ক পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অনিরুদ্ধ প্রসাদ রায় চৌধুরী বলেন, ‘এই আয়োজন এখন শুধু ধর্মীয় উৎসবের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ। বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ ও পেশার মানুষ একসঙ্গে মিলিত হয়ে এই উৎসবকে করে তোলেন সবার।’

উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ছিল পুলিশ, র‌্যাব এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারাও মেলা পরিদর্শন করেন এবং পূজারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

দুই দিনব্যাপী এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের সমাপনী হবে বুধবার (১৫ এপ্রিল)। একই সময়ে কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী মাধবপুর ইউনিয়নের পাত্রখোলা চা বাগান মাঠেও অনুষ্ঠিত হয়েছে চড়ক পূজা ও মেলা। উভয় আয়োজনেই হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে তৈরি হয়েছে এক আনন্দঘন, উৎসবমুখর পরিবেশ।


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর