শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
কমলগঞ্জে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক মো. ফরিদ মিয়া কমলগঞ্জে ব্র্যাক-ভিশনস্প্রিংয়ের উদ্যোগে দিনব্যাপী মেডিকেল ক্যাম্প কমলগঞ্জে থানা-পুলিশ ও স্থানীয় মুরব্বিদের উদ্যোগে দীর্ঘদিনের জমি বিরোধের মীমাংসা কমলগঞ্জ পৌর নির্বাচনে ৫ নম্বর ওয়ার্ডে আলোচনায় তরুণ প্রার্থী রাসেল আহমদ কমলগঞ্জে গভীর রাতে রাইস মিলসহ তিন দোকানে হামলা-ভাঙচুর, লুটপাটের অভিযোগ ভিডিপি সদস্য আশরাফুল আলমের উদ্যোগে কমলগঞ্জের মুন্সিবাজারে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ভিডিপি সদস্য আশরাফুল আলমের উদ্যোগে কমলগঞ্জের মুন্সিবাজারে পরিচ্ছন্নতা অভিযান কমলগঞ্জে মামলা প্রত্যাহারে হুমকির অভিযোগ প্রবাসীর স্ত্রীর সিলেট বৈদেশিক ডাকঘরের সুপার তন্ময় দে চৌধুরীর বিরুদ্ধে আবারও অফিস কামাইয়ের অভিযোগ শমশেরনগরে অটোরিক্সা থেকে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে হামলা; আহত-১কমলগঞ্জ থানায় অভিযোগ

কমলগঞ্জে ফসলি জমির মাটি যাচ্ছে বসত ভিটায়

কমলগঞ্জ(মৌলভীবাজার)প্রতিনিধি : / ১৪৯ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২৬

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন সড়ক দিয়ে দিন-রাত চলছে মাটি বহনকারী ট্রলিগাড়ী ও ট্রাকটার। রাতের আধারে উপজেলার শমশেরনগর ইউনিয়নের মরাজানেরপার, মুন্সিবাজার ইউনিয়নের ঠাকুরবাজার পতনঊষার ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গা ও কমলগঞ্জ পৌর এলাকার আলেপুর গ্রাম সহ বিভিন্ন এলাকার আবাদি কৃষিজমির উর্বর মাটি কেটে স্থানান্তর করা হচ্ছে। এসব অবৈধ মাটি খেকোদের বিরুদ্ধে প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করলেও কিছুতেই মাটি কাটা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা যাচ্ছে না। ফলে কৃষি উৎপাদন হ্রাস, অর্থনৈতিক প্রভাব ও কৃষি বৈচিত্র্যের মারাত্মক হুমকির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

একশ্রেণীর চিহিুত মাটি ব্যবসায়ীরা জমির মালিকদের নগদ অর্থের বিনিময়ে মাটি কেটে তা উপজেলার বিভিন্ন নতুন বসতবাড়ী তৈরীর কাজে বিক্রি করছেন। প্রায় প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই সব এলাকা থেকে মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে নতুন করে তৈরি করা বসতবাড়িতে।

বিশেষ কোন অঞ্জাত কারনে মাটি ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে দিবারাত্রী মাটিবাহী গাড়ী চলাচল করলে ও তাদের দৌরাত্ন বন্ধ করা যাচ্ছে না। আর এই মাটি বাহী গাড়ী গুলো উন্মুক্ত ভাবে পরিবহন করার কারনে সর্বত্র ধুলাবালিতে সয়লাব হয়ে পড়েছে। যার ফলে পরিবেশ দুষিত হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে এলাকার মানুষরা। এছাড়া ভারী ট্রলি ও ট্রাকটার অবাধে চলাচল করায় গ্রামীণ রাস্তা বিনষ্ট করছে।

স্থানীয় কৃষক আলমগীর, আলাল জানান, ইটভাটা, বসতবাড়ি নির্মাণ, রাস্তাঘাট তৈরী ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি হারিয়ে যাচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপর। কৃষিজমি সুরক্ষা আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ায় প্রতিনিয়ত হ্রাস পাচ্ছে আবাদি কৃষিজমি।

কৃষি জমির মাটি উত্তলনের বিষয় জানেত এস্কেভেটর (ভেকু) মালিক মো. সালাই মিয়ার মোটোফোনে একাধিকবার কল দিলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

অন্যদিকে শমশেরনগর ইউনিয়নের মরাজানপার এলাকায় ভেকু দিয়ে মাটি উত্তলনের অভিযোগ উঠেছে মুসা মিয়ার বিরুদ্ধে। মাটির উত্তলনের বিষয়ে একাধিকবার জানার চেষ্টার করলেও মোটোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

পরিবেশ কর্মী নুরুল মোহামিন মিল্টন ও আহাদ মিয়া বলেন, কৃষিজমির উপরিভাগেই থাকে উর্বর মাটি। অথচ জমির উপরের এক থেকে দুই ফুট গভীর পর্যন্ত মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে। ফলে সেখানকার জমিতে তৈরী হচ্ছে গর্ত এবং উর্বরতা হারিয়ে হুমকির মুখে পড়েছে কৃষি বৈচিত্র্য।

উপজেলার মাঠ পর্যায়ের উপ-সহকারী এক কৃষি কর্মকর্তা বলেন, কৃষিজমির উর্বর মাটি খুবই জটিল বিষয়। উর্বর মাটির ছয় ইঞ্চি পরিমাণ গভীরতা চাষাবাদ উপযোগী। এই মাটি সরিয়ে ফেলা হলে পরের বছর সমুহে ভালো ফলন হয় না। প্রচুর গোবর-সার দিয়ে মাটি তৈরি করতে হয়। জমিতে প্রচুর পরিমাণ কৃত্রিম সার লাগে। পুণরায় মাটির উর্বরতা সৃষ্টি হতে কমপক্ষে দশ থেকে পনের বছর সময় লেগে যায়। এটি কৃষিজমির জন্য খুবই ক্ষতিকর।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘কৃষিজমির উর্বর মাটি কেটে নেয়া সম্পূর্ণ নিষেধ। অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া যেসব এলাকায় এভাবে কৃষিজমির উর্বর মাটি কাটা হচ্ছে সেসব এলাকায় তদন্ত পূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর