মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ০৪:৫১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
পেশার মর্যাদা রক্ষা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে কমলগঞ্জে ফারিয়ার মানববন্ধন শিক্ষার আলো ছড়ানো এক প্রজ্ঞাবান মানুষ: অধ্যক্ষ কোরেশ খানের জীবন ও কর্ম জুড়িতে মৎস্য কর্মকর্তার অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন আদিবাসীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করবে সরকার: কুলাউড়ায় শওকতুল ইসলাম এমপি প্রবাসীর হাত ধরে শিক্ষার আলো: কমলগঞ্জে স্কুল ড্রেস ও মেধাবৃত্তি বিতরণ অনুষ্ঠানে এমপি মুজিব ৪০ কোটি টাকার পানি প্রকল্পে বাড়ছে ভোগান্তি; বিল বৃদ্ধি, সংযোগে অতিরিক্ত খরচ ও সেবার মান নিয়ে ক্ষোভ কমলগঞ্জে রয়েস্টন কাউন্সিলে বিপুল ভোটে কাউন্সিলর নির্বাচিত হলেন ‘বুলবুল আহমেদ’ কমলগঞ্জে পর্যটন শিল্পের মানোন্নয়নে রিসোর্ট মালিকদের সঙ্গে এমপির মতবিনিময় কমলগঞ্জে ডিবির অভিযানে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার শ্রীমঙ্গলে শ্রমিক নির্যাতন: আহত ৩, থানায় অভিযোগ

দেশের সর্বনিম্ন ৭ ডিগ্রি তাপমাত্রায় কাঁপছে শ্রীমঙ্গল

ডেস্ক রিপোর্ট / ৯৫ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২৬

তীব্র শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মৌলভীবাজার জেলা। তাপমাত্রা হ্রাস পাওয়ায় শীতে কাবু হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় স্বাভাবিক চলাফেরা ব্যাহত হচ্ছে, চরম দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া নিম্নআয়ের মানুষরা। তবে সকাল থেকে রোদ থাকায় মানুষের শীত কিছুটা কম অনুভূতি হচ্ছে।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

পর্যটন উপজেলা শ্রীমঙ্গলে শীতের তীব্রতা তুলনামূলকভাবে বেশি অনুভূত হচ্ছে। বিশেষ করে হাওর ও চা বাগান এলাকার মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এসব এলাকার শিশু ও বৃদ্ধরা ঠাণ্ডাজনিত নানা সমস্যায় ভুগছেন।

গত কয়েক দিন ধরে বয়ে যাওয়া হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশায় প্রচণ্ড শীতে জনজীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে।
তীব্র শীত মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় গরম কাপড়ের অভাবে দরিদ্র মানুষের রাত কাটছে নির্ঘুম। কাঠ ও খড় জ্বালিয়ে আগুন পোহানোই তাদের একমাত্র ভরসা। অন্যান্য বছর শীতের শুরুতেই দানশীল ব্যক্তি ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে কম্বল ও গরম কাপড় বিতরণ করা হলেও এ বছর এখনো তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।

শীতে কাবু হয়ে পড়েছে গৃহপালিত পশু-পাখিও। ঘন কুয়াশায় বোরো ধানের বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। শীত থেকে বাঁচতে অনেক মানুষ খড়কুটো ও কাঠ জ্বালিয়ে রাস্তার পাশে বা খোলা স্থানে আগুন পোহাচ্ছেন। নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

হাইল হাওর এলাকার বাসিন্দা অলি মিয়া বলেন, ‘এত ঠাণ্ডায় হাঁটাচলা করা যায় না। আগুন জ্বালিয়ে বসে থাকতে হয়।’ একই এলাকার রহিমা বেগম বলেন, ‘ঘরে কম্বল নেই, খেতাও ঠিকমতো গায়ে দেওয়া যায় না।’

  • লাখাইছড়া চা বাগানের বাসিন্দা তপন বৈদ্য বলেন, ‘ঠাণ্ডায় থাকা দায়। হাড়কাঁপুনি শীত। তাই কয়েকজনকে নিয়ে আগুন জ্বালিয়ে শীত তাড়ানোর চেষ্টা করছি।’ তবে চা বাগানের নিম্ন আয়ের অনেকেই জানিয়েছেন সরকারীভাবে এখনো শীত বস্ত্র (কম্বল) পাননি।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিস জানায়, আজ বৃহস্পতিবার শ্রীমঙ্গল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল বুধবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ১ জানুয়ারি সকাল ৬টায় শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও ২ জানুয়ারি তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি, ৩ জানুয়ারি ১২.২ ডিগ্রি, ৪ জানুয়ারি ৯.৫ ডিগ্রি, ৫ জানুয়ারি ১২.৫ ডিগ্রি ও ৬ জানুয়ারি ১৪.৫ ডিজিটাল রেকর্ড করা হয়েছে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসনিম বলেন, ‘শীতজনিত রোগীর ভিড় থাকছেই প্রতিদিন। বেশিরভাগই শিশু ও বৃদ্ধরা।’

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান বলেন, ‘তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি রেকর্ড হয়েছে। গতকাল বুধবার (০৭ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮.৬ ডিগ্রি।’


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর