শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
কমলগঞ্জে জমি বিরোধে বিপাকে ৯ সদস্যের পরিবার কুলাউড়া কারিতাসের জরুরি সহায়তা প্রদান কমলগঞ্জে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক মো. ফরিদ মিয়া কমলগঞ্জে ব্র্যাক-ভিশনস্প্রিংয়ের উদ্যোগে দিনব্যাপী মেডিকেল ক্যাম্প কমলগঞ্জে থানা-পুলিশ ও স্থানীয় মুরব্বিদের উদ্যোগে দীর্ঘদিনের জমি বিরোধের মীমাংসা কমলগঞ্জ পৌর নির্বাচনে ৫ নম্বর ওয়ার্ডে আলোচনায় তরুণ প্রার্থী রাসেল আহমদ কমলগঞ্জে গভীর রাতে রাইস মিলসহ তিন দোকানে হামলা-ভাঙচুর, লুটপাটের অভিযোগ ভিডিপি সদস্য আশরাফুল আলমের উদ্যোগে কমলগঞ্জের মুন্সিবাজারে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ভিডিপি সদস্য আশরাফুল আলমের উদ্যোগে কমলগঞ্জের মুন্সিবাজারে পরিচ্ছন্নতা অভিযান কমলগঞ্জে মামলা প্রত্যাহারে হুমকির অভিযোগ প্রবাসীর স্ত্রীর

কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে সরকারি কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত করা যাবে

অনলাইন ডেস্ক / ১৯২ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২২ মে, ২০২৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের লোগো। ফাইল ছবি

ছুটি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে সরকারি কর্মচারীদের (কর্মকর্তা-কর্মচারী) চাকরিচ্যুত করা যাবে। এমন কঠোর বিধান রেখে ২০১৮ সালের সরকারি চাকরি আইন সংশোধন করা হচ্ছে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রশাসনের শৃঙ্খলা ফেরাতে ‘সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ (সংশোধিত), ২০১৮’ এর খসড়া করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এখন এটি উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে রয়েছে।

এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বড় একটি অংশ এখনো কাজে অনুপস্থিত রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে রাতারাতি কোনো সিদ্ধান্তও নেওয়া যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজছিল সরকার। এ প্রেক্ষাপটেই সংশোধন করে আইনে কঠোরতা আনার বিষয়টি সামনে আসে।

এ অবস্থায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ‘সরকারি কর্মচারী (বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ ১৯৭৯’ আদলে ২০১৮ সালের সরকারি কর্মচারী আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তাদের তৈরি করা অধ্যাদেশের খসড়া অনুযায়ী মাত্র আটদিনের মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। কিন্তু বিভিন্ন পর্যায়ের সমালোচনার মুখে এ বিষয়ে আর এগোয়নি সরকার।

কিন্তু প্রশাসনে শৃঙ্খলা এখনো ফেরেনি। এ পরিস্থিতিতে নতুন করে অধ্যাদেশের খসড়া করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

সরকারি কর্মচারী অধ্যাদেশের খসড়ায় বলা হয়েছে, সরকারি কোনো কর্মচারী যদি এমন কোনো কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হন, যার কারণে অন্য যেকোনো সরকারি কর্মচারীর মধ্যে অনানুগত্য সৃষ্টি করে বা শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করে বা কর্তব্য সম্পাদনে বাধার সৃষ্টি করে; অন্য কর্মচারীদের সঙ্গে সমবেতভাবে বা এককভাবে, ছুটি ছাড়া বা কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া, নিজ কর্মে অনুপস্থিত থাকেন বা বিরত থাকেন বা কর্তব্য সম্পাদনে ব্যর্থ হন; অন্য যেকোনো কর্মচারীকে তার কর্ম থেকে অনুপস্থিত থাকতে বা বিরত থাকতে বা তার কর্তব্য পালন না করার জন্য উসকানি দেন বা প্ররোচিত করেন; যেকোনো সরকারি কর্মচারীকে তার কর্মে উপস্থিত হতে বা কর্তব্য সম্পাদনে বাধাগ্রস্ত করেন- তাহলে তিনি অসদাচরণের দায়ে দণ্ডিত হবেন।

দোষী কর্মচারীকে নিম্নপদ বা নিম্ন বেতন গ্রেডে অবনমিতকরণ বা চাকরি হতে অপসারণ চাকরি হতে বরখাস্ত দণ্ড প্রদান করা যাবে বলে খসড়া অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

কর্মকর্তা কর্মচারীদের এ বিধানের বিরোধিতা ,তবে অধ্যাদেশের এ খসড়ার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। নতুন অধ্যাদেশের খসড়ার এ বিধানের বিরোধিতা করে বুধবার (২১ মে) যৌথ বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদ ও আন্তঃমন্ত্রণালয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশন।

এতে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ সংশোধন করে ‘সরকারি কর্মচারী (বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ, ১৯৭৯’-তে বর্ণিত অপরাধ, দণ্ড ও শাস্তি অন্তর্ভুক্ত করে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করায় গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদ ও আন্তঃমন্ত্রণালয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা।

বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি মো. নূরুল ইসলাম বলেন, বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশে সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়ন ও পেশাগত বিকশিত করার পরিবর্তে নির্যাতনমূলক কালো আইন, ব্যক্তিগত দাসত্ব ও ভয়-ভীতির পরিবেশ তৈরি করে সচিবালয়কে অশান্ত করার অপচেষ্টা চলছে। যার কারণে কর্মচারীদের মাঝে আতঙ্ক ও ভীতিকর পরিবেশে তৈরি হয়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে অবিলম্বে কালো আইন চালু বন্ধ করার জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

আন্তঃমন্ত্রণালয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সমন্বয়ক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের পর বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে সরকারি কর্মচারিদের উন্নত সুযোগ-সুবিধা, জীবন-জীবিকার মৌলিক চাহিদা পূরণে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন কাঠামো, সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ সুবিধা বৃদ্ধি না করে শিকলবন্দী করার চেষ্টা কখনো সুফল বয়ে আনবে না। ১৯৭৯ সালে সংবিধান স্থগিতকালে জারিকৃত ১৯৭৯ সালের মতো কঠোর বিধান, কালা-কানুন ও কালো আইন সরকারি কর্মচারীদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হলে বর্তমান সরকারের বৈষম্যমুক্ত নীতি ব্যাপকভাবে সমালোচিত ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ ধরনের আইন জারির ফলে কতিপয় কর্মকর্তাদের কাছে কর্মচারীরা দাসে পরিণত হবে। সাংবিধানিক অধিকারের পরিধি ও ব্যাপকতাকে সীমিত করতে পারে-যা চরম উদ্বেগজনক। এটি অপব্যবহারের সুযোগ বেশি থাকবে। নানা অজুহাত ও অভিযোগে নিরীহ কর্মচারীদের চাকরি হারানোর শঙ্কা তৈরি হবে।

এ পরিস্থিতিতে প্রায় ৪৬ বছর পর কর্মচারীদের স্বার্থবিরোধী কালো আইন জারির সব ধরনের তৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করতে প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে যৌথ বিবৃতিতে।


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর