রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৮:০৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
কম দামে দোকান ভিটা বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় হয়রানিমুলক মামলা ও হুমকির অভিযোগ মৌলভীবাজারে নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা মৃদুল গ্রেফতার মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুদকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সীমান্তে বিএসএফের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে পৌঁছেছেন এনসিপির সমন্বয়ক সারজিস ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পর্যটন এলাকার সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কমলগঞ্জে ৪০টি পলাশের চারা রোপণ বড়লেখা সীমান্তে বিদেশি পিস্তল ও বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার দেবলছড়া সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ৭ জনকে পুশইন দেড় মাস আগে বদলির আদেশ, এখনো মৌলভীবাজার প্রধান ডাকঘরেই তন্ময় দে চৌধুরী চেক ডিজঅনার মামলায় প্রধান শিক্ষক তদবির আলমের ৫ মাসের কারাদণ্ড  জমির অভাবে থমকে কোটি টাকার বর্জ্য শোধনাগার প্রকল্প

কমলগঞ্জে খানাখন্দে ভরা সড়ক, জনদুর্ভোগ চরমে

সালাহউদ্দিন শুভ / ৩৫১ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : শুক্রবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৫

সড়কজুড়ে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। বেশির ভাগ স্থানে পিচঢালাই নেই। একটু বৃষ্টি হলেই সেসব গর্তে পানি জমে যায়। প্রতিনিয়তই উল্টে পড়ছে যানবাহন। আহত হচ্ছেন যাত্রীরা। কোথাও কোথাও ৩ ইঞ্চি থেকে ১০ ইঞ্চি পর্যন্ত গর্ত। বেশ কিছু জায়গায় উঠে গেছে পিচ ও কার্পেট। বৃষ্টি হলেই এসব জায়গায় পানি জমে। যানবাহন উল্টে প্রায় প্রতিদিনই ঘটে দুর্ঘটনা। হতাহত হয় মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক ও ব্যবসায়ী। এ দুরবস্থা মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার থেকে ইসলামপুর সড়ক। এমন বেহালদশা প্রায় ৩০ কিলোমিটার সড়কের।

শুক্রবার দুপুরে সড়কের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পুরো সড়কজুড়ে রয়েছে খানাখন্দ। অনেক জায়গায় ধুলোবালি জমে কাটায় পরিনত হয়েছে। এর মধ্যেই চলছে বিভিন্ন যানবাহন। বিভিন্ন ধরনের গাড়ি চলছে ধীরে গতিতে। লোকজন যে আশপাশ দিয়ে হাঁটবেন, তারও কোনো উপায় নেই। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় লোকজন এ সড়ক সংস্কারের দাবি জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বিশেষ করে কমলগঞ্জ উপজেলা থেকে আদমপুর বাজার পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার রাস্তার অবস্থা খুব খারাপ। সড়কটি গত ১৫ বছর ধরে ভাঙ্গা ও খানাখন্দে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন আদমপুর, ইসলামপুর, মাধবপুর, সদর ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ। সড়ক সংস্কার না করায় দিন দিন এসব খানাখন্দ গাড়ির চাকার চাপে ভাঙতে ভাঙতে বড় হচ্ছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, গর্ভবতী নারী ও হৃদরোগে আক্রান্ত মানুষের ভোগান্তির কোন শেষ নেই। ভাঙ্গা সড়কের কারণে মুমূর্ষু রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া যাচ্ছে না, যার কারণে সড়কের মধ্যেই রোগী মারা যায়। বর্ষার আগেই দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবী জানান তারা।

অটোরিকশা ও ট্রাকচালকরা বলেন, ‘এ সড়কে চলার অবস্থা নেই। খানাখন্দে পড়ে অটোরিকশা উল্টে যায়। রাস্তার মাঝেই গাড়ি নষ্ট হয়। সড়কের বড় বড় আধলা ইটগুলো ট্রাকের চাকায় ঢুকে যায়। রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া যায় না। যাত্রীরা রাস্তায় পড়ে গুরুতর আহত হচ্ছেন ও দুর্ঘটনায় মারাও গেছেন।

তারা বলেন, সড়কটি নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে সংস্কার করা হয়। তাই বৃষ্টি হলেই পানির তোড়ে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়। ফলে কৃষিপণ্য গ্রাম থেকে শহরে নিতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’

নিউজের জন্য রাস্তার ছবি তুলতে গেলে সড়কের পাশে সাইদুল মিয়া নামের একজন ব্যবসায়ী আক্ষেপ করে বলেন, ‘আর ছবি তুলে কোনো লাভ নেই। অনেকেই শুধু শুধু ছবি তুলে নিয়ে যান। রাস্তা মেরামতের কোনো কাজ হয় না। এই অবস্থা কোথাও আছে বলে আমার জানা নেই। কিছু ইট-সুরকি ফেলে রাখলেও তো চলাচল করা যেত।’

স্থানীয় লেখক ও গবেষক আহমদ সিরাজ জানান, মৌলভীবাজার জেলা সদর ও কমলগঞ্জ উপজেলার ভানুগাছ, শমশেরনগর এবং শ্রীমঙ্গল শহরে যাতায়াতের জন্য এই সড়কটি ব্যবহার করেন এ অঞ্চলের মানুষ। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি কোন সংস্কার না করার কারণে সাধারণ মানুষ সহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকরা ভোগান্তিতে পড়েন। প্রায়ই এই সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে। কৃষি ও পর্যটন অধ্যুষিত উপজেলার এই সড়কে দিয়ে পর্যটকরা হামহাম জলপ্রপাত, মনিপুরী কমিউনিটি বেইজ ট্যুরিজমসহ ঐতিহ্যবাহী রাসপূর্ণিমা দেখতে যান, সেইসাথে এ অঞ্চলে উৎপাদিত কৃষি পণ্য বিশেষ করে টমেটো চাষিরা এই সড়ক দিয়ে উৎপাদিত ফসল শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার ও সিলেটে মালবাহী ট্রাক দিয়ে পণ্য সামগ্রী নেওয়ার সময় দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়া ভাঙ্গা এ সড়কে দুর্ঘটনায় প্রাণ হানির মতো ঘটনাও ঘটেছে।

এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো.সাইফুল আজম জানান, পুরো কমলগঞ্জে প্রায় ৫০ কিলোমিটার সড়ক বন্যাসহ নানা কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব সড়ক সংস্কার করতে ৮০ কোটি টাকার প্রয়োজন। ইতোমধ্যে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বাজেট পাস হলে দ্রুত সংস্কার করা হবে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাখন চন্দ্র সূত্রধর জানান, ‌‘বিগত বন্যায় উপজেলার অনেকগুলো গ্রামীন সড়ক ও আঞ্চলিক সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা এই বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। আশাকরি দ্রুত সময়ের ভিতরে এ সড়ক গুলো সংস্কার করা সম্ভব হবে।’


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর