বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:৫৫ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
মৌলভীবাজারে চার আসনে বিএনপির জয়, উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন মৌলভীবাজার-৪ আসনে শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত ছিল হাজী মুজিব পরিবারের উত্তরসূরিরা ঝুঁকিপূর্ণ ২২৩ কেন্দ্রে বডি-অন ক্যামেরা, মৌলভীবাজারে ভোটের মাঠে থাকবেন ১,৬৪১ পুলিশ মৌলভীবাজারে চা বাগানে যুবকের হাত-পা বাঁ/ধা রক্তা/ক্ত মর/দেহ উ/দ্ধার রাত পোহালেই ভোট: মৌলভীবাজারে ৫৫৪ কেন্দ্রে প্রস্তুতি, ২২৩টি ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত ভোটের মাঠে সাংবাদিকরা কী করবেন, কী করতে পারবেন না মৌলভীবাজারে নির্বাচন উপলক্ষে ব্রিফিং প্যারেড অনুষ্ঠিত কমলগঞ্জে বিএনপির বিশাল নির্বাচনী জনসভা আমার রাজনীতি মানুষের জন্য : প্রীতম দাশ মৌলভীবাজারে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে যৌথ বাহিনীর মহড়া

শৈশবের স্মৃতিতে ফিরে যেতে বিদ্যালয়ে চড়ুই ভাতি’র আয়োজন

সালাহউদ্দিন শুভ, / ৫৬ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫

চড়ুইভাতি শব্দটা শুনলেই বুকের ভেতর খামচে ধরে ছোটবেলার স্মৃতি। শৈশবের স্মৃতিতে ফিরে যেতে কার না ভাল লাগে। ছোট বেলার সেই গোল্লা ছুট, দাড়িয়া বান্দা, রাজা-রানী চা বিস্কুট, ফুলটোকা, চড়ুই ভাতিসহ আর কত মজার মজার স্মৃতি। পুরো বছরজুড়ে থাকে বিভিন্ন পরীক্ষার সঙ্গে এসাইনম্যান্ট। চাইলেই তো আর সেই শৈশবে ফিরে যাওয়া যায় না। তবে চেষ্টা করে দেখতে সমস্যা কোথায়? রোববার (৩০নভেম্বর) সকাল ৯টায় কমলগঞ্জ উপজেলার পৌর এলাকায় অবস্থিত ভানুগাছ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেলে দেখা যায় আনন্দ, হই, উল্লুর ও দৌড়া দৌড়ি।

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার ভানুগাছ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আয়োজন করল এক ভিন্ন আয়োজন। শিক্ষা জীবনের একবারে শেষ প্রান্তে এসে হাজির তারা। দিনগুলোকে স্মৃতির প্রেমে বন্দী করে রাখার জন্য যত আয়োজন। সবার একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করা উঠে না। খুব অল্পসময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেয়া হলো ‘স্কুল মাঠে’ এ চড়ুই ভাতির আয়োজন।

রান্না-বান্নার জন্য সকাল থেকেই কাজ করে যাচ্ছে তাসনিম জামান, মালিহা মতিউর মিশেল, এবং তাকে সহায়তা করছেন ফৌজিয়া আক্তার, সাদ আহমদ, আরাফাত ইসলাম, নিহা ও শিক্ষক প্রদীপ সহ আরও অনেকে।

শৈশবের রীতি অনুযায়ী কেউ পানি আনা, কেউ আবার কাটাকাটি, কেউ চুলা জ্বালানো, কেউ আবার হাঁড়ি-পাতিল পরিষ্কারের কাজে নেমে গেল। সূর্যটা যখন মাথার ওপরে তখন রান্না-বান্নার কাজ সমাপ্ত।

বিকেল দুইটায় সবাই এক সঙ্গে হয়ে খাবার গ্রহণ করল সবাই। খাবার পরে শুরু হলো বিভিন্ন খেলাধুলা সহ হাঁড়িভাঙ্গা খেলা। তবে সবাই কে সবচেয়ে বেশি মজা এবং স্মৃতিকাতর করেছে ছোটবেলার সেই ফুলটোকা খেলা কোথাও কোথাও এটি বউরানী খেলা নামেও পরিচিত।

  • শিক্ষাক প্রদীপ দেবনাথ জানান, ‘প্রতি বছর আমাদের স্কুলে এমন আয়োজন হয়। এই সময়টাতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা একটা মিলন মেলায় পরিনত হয়। বাচ্চা বছর শেষে এমন আনন্দ দেখে ভালোই লাগে। পঞ্চম শ্রেণীর প্রায় ৬০জন শিক্ষার্থী স্কুল থেকে বিদায় নিবে, মূলত তাদের কারণেই আমাদের এমন আয়োজন। ক্যাম্পাসের ভিতরে কেক কেটে আনন্দ করা হয় পরে বিকাল বেলা পর্যন্ত স্কুল মাঠটি নাচে গানে ভড়ে উঠে।’

অন্যদিকে কথা হয় ভানুগাছ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল প্রধান শিক্ষক ছন্দা বেগম। তিনি জানান, ‘ সিলেটি ভাষায় বলে (টুফাটুফি), তুফাতি বা চড়ুইভাতি খেলার দিন কুয়াশা আচ্ছাদিত সুন্দর সকাল ছিল। নীল আকাশে মেঘের ওড়াউড়ি ও ঝিলমিলে রোদ চারপাশে সোনা ছড়িয়ে ছিল। গ্রামের সঙ্গে তুফাতি বা চড়ুইভাতির একটি আত্মিক যোগ ছিল। বাঙালিয়ানায় আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে হাজারো সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। চড়ুইভাতি তারই একটি অংশ।’

তিনি বলেন, আমি আরও দুই বছর থাকবো। হয়তো আর পাবো না এত সুন্দর আয়োজন। আমার স্কুলের বাচ্চারা খুব ট্যালেন্ড,তারা অনেক বড় হবে। তাদের জন্য আমার অনেক দোয়া ও ভালোবাসা। স্কুল থেকে বাসায় গেলে ভালো লাগে না। সকাল হলেই ছুটে আসি স্কুলে। বাচ্চাদের দেখলে মনটা ভরে যায়। এছাড়াও আমাদের এই অনুষ্টানে অনেক সংবাদকর্মী, অভিভাবক, শিক্ষকরা উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত করে তোলেন।


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর