সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
কমলগঞ্জে গভীর রাতে রাইস মিলসহ তিন দোকানে হামলা-ভাঙচুর, লুটপাটের অভিযোগ ভিডিপি সদস্য আশরাফুল আলমের উদ্যোগে কমলগঞ্জের মুন্সিবাজারে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ভিডিপি সদস্য আশরাফুল আলমের উদ্যোগে কমলগঞ্জের মুন্সিবাজারে পরিচ্ছন্নতা অভিযান কমলগঞ্জে মামলা প্রত্যাহারে হুমকির অভিযোগ প্রবাসীর স্ত্রীর সিলেট বৈদেশিক ডাকঘরের সুপার তন্ময় দে চৌধুরীর বিরুদ্ধে আবারও অফিস কামাইয়ের অভিযোগ শমশেরনগরে অটোরিক্সা থেকে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে হামলা; আহত-১কমলগঞ্জ থানায় অভিযোগ ওমরাহ শেষে দেশে ফিরেই নির্বাচনী প্রস্তুতি বিএনপি নেতা আব্দুল আহাদের কমলগঞ্জে চা বাগানে শ্রমিকদের ওপর হামলা, আহত ৫ কমলগঞ্জে বাজারে গিয়ে নিখোঁজ নবম শ্রেণির ছাত্রী কমলগঞ্জে মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির নির্বাচন- সভাপতি সত্যেন্দ্র, সম্পাদক হাবিবুর

তামাকজনিত রোগে দেশে বছরে ১ লাখ ৬১ হাজার মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক / ১০৫ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : সোমবার, ১ এপ্রিল, ২০২৪

বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন। তাদের মধ্যে প্রতিবছর তামাকজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ১ লাখ ৬১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় এবং বছরে ৬১ হাজার শিশু তামাকের পরোক্ষ ক্ষতির শিকার হয়। এতে কর্মক্ষেত্রসহ পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন আরও ৩ কোটি ৮৪ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ।

গতকাল রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে তামাকবিরোধী সামাজিক সংগঠন ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশন’ ও ‘বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিং’ যৌথভাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। ওই সময় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন যুগোপযোগী করণের দাবি জানান আয়োজকরা।

স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. নিজামুদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য ডা. আবু সালেহ মোহাম্মদ নাজমুল হক। তিনি বলেন, তামাকজাত পণ্য থেকে সরকার ২২ হাজার কোটি টাকা ট্যাক্স পায়। কিন্তু ক্ষতি হয় বছরে ৩০ হাজার কোটি টাকার ওপরে। ধূমপান ভালো কোনো জিনিস না। তার পরও এটা ছাড়ছে না মানুষ। বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজে এমন কোনো জায়গা যেন না থাকে- যেখানে শিক্ষার্থীরা ধূমপান করতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটা কর্নার যাতে শিক্ষকদের নজরে থাকে এমন ব্যবস্থা করা উচিত।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. নিজামুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘তামাক চাষ সরকারিভাবে নিরুৎসাহিত করে অন্য ফসল চাষে চাষিদের উৎসাহিত করতে হবে। ধূমপানের জন্য নির্দিষ্ট স্থান (স্মোকিং জোন) পরোক্ষভাবে প্রায় শতভাগ মানুষ ধূমপানের ক্ষতির শিকার হচ্ছে। তামাকজাত পণ্যের প্যাকেটে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ করার দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘তামাক মানবদেহের জন্য ভয়ংকর বিষ। বিশ্বে তামাকজনিত রোগে বছরে প্রায় ৮০ লাখের বেশি মৃত্যু হয়। বর্তমানে দেশে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ তামাকজনিত রোগে আক্রান্ত। ৬১ হাজারেরও বেশি (১৫ বছরের নিচে) পরোক্ষ ধূমপানের কারণে সৃষ্ট রোগে ভুগছেন। বিদ্যমান ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (২০১৩ সালে সংশোধিত) যুগোপযোগী করে বৈশ্বিক মানদণ্ডে করার দাবি জানিয়েছে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশন। সম্প্রতি প্রকাশিত স্বাস্থ্য সুরক্ষার ফাউন্ডেশনের গবেষণার তথ্যমতে, বাংলাদেশে কোভিড-১৯ মহামারিতে অধূমপায়ীদের তুলনায় ধূমপায়ী রোগীদের মৃত্যুর হার ৩ গুণ বেশি ছিল এবং ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে মৃত্যু হয়েছে প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি রোগীর। পরোক্ষ ধূমপানের শিকার ব্যক্তির ক্ষেত্রেও কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সম্ভাবনা ৪০ শতাংশেরও বেশি ছিল। এর পাশাপাশি তামাকের কারণে দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতিও বিপুল।’

ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ যুগোপযোগী করে বৈশ্বিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশন ৬ দফা সুপারিশ করেছে। সুপারিশগুলো হলো- পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান বন্ধ করা, তামাকজাত দ্রব্যের বিক্রয়স্থলে তামাকজাত পণ্য প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা, তামাক কোম্পানির যেকোনো ধরনের সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) কর্মসূচি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা, তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেট/কৌটায় সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার আকার ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ করা, বিড়ি-সিগারেটের খুচরা শলাকা, মোড়কবিহীন ও খোলা ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ করা ও ই-সিগারেটসহ সব ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টস পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা। এ ছাড়া বিদ্যমান আইনকে সংশোধন করে যুগোপযোগী করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও এনবিআরের প্রতি আহ্বান জানান তারা।


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর