শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :

সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা, উদ্বেগে সাংবাদিক মহল

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: / ২০ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬

সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে দৈনিক খোলা কাগজ-এর মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি মো. এহসানুল হক (এহসান বিন মুজাহির)-এর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনায় সাংবাদিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। মামলাটি করেছেন শ্রীমঙ্গল পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলতাফুর রহমান ওরফে নাজমুল হাসান।

গত ৬ এপ্রিল মৌলভীবাজারের বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ (চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার) আদালতে এ মামলা দায়ের করা হয়। আদালত আগামী ১৪ মে অভিযুক্তদের হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

সচেতন মহল মনে করছে, একটি গণতান্ত্রিক সমাজে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা শুধু ব্যক্তিগত হয়রানি নয়, বরং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপরও হুমকি। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

জানা যায়, গত বছরের ২৬ অক্টোবর খোলা কাগজ-এ ‘আলতাফুরের কাছে জিম্মি এলাকাবাসী’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে শ্রীমঙ্গলের আশিদ্রোন ইউনিয়নের চারটি গ্রামের বাসিন্দাদের উদ্যোগে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে উত্থাপিত অভিযোগ তুলে ধরা হয়।

ওই সমাবেশে আলতাফুর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, প্রতারণা ও হয়রানির নানা অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের ভিত্তিতেই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয় বলে জানিয়েছেন প্রতিবেদক, যেখানে ব্যক্তিগত মতামত বা পক্ষপাতের কোনো স্থান ছিল না।

প্রতিবেদক এহসানুল হক অভিযোগ করেন, সংবাদ প্রকাশের পর আলতাফুর রহমান তাকে টাকার বিনিময়ে নিজের পক্ষে সংবাদ প্রকাশের অনুরোধ জানান। তিনি সেই অনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে ক্ষুব্ধ হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে মানহানিকর পোস্ট দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে মামলাটি দায়ের করা হয়।

গত ৪ এপ্রিল দায়ের করা মামলায় স্থানীয় ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম লিয়াকতকে প্রধান আসামি এবং এহসানুল হককে দ্বিতীয় আসামি করা হয়েছে। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তা, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার আরও ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

অন্যদিকে আলতাফুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট এবং পরিকল্পিতভাবে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হয়েছে।’

মামলার একাধিক সাক্ষীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের অনেকেই মামলার বিষয়ে অবগত নন। এমনকি কেউ কেউ জানেন না যে তারা মামলার সাক্ষী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, মামলায় অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীসহ আত্মীয়স্বজনদেরও সাক্ষী করা হয়েছে।

সাংবাদিকরা এ ঘটনাকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের কারণে একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হলে তা ভবিষ্যতে স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল ফজল আব্দুল হাই ডন ও সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন আরাফত রবিন বলেন,‘সংবাদ প্রকাশের ছয় মাস পর এ মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার না হলে কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হবে।’

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আলম সিদ্দিকী বলেন, আলতাফুর রহমানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে এবং দলীয়ভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকরা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করবেন—এটাই প্রত্যাশা। সংবাদের জেরে মামলা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর