সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৮:৪৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
শিক্ষার আলো ছড়ানো এক প্রজ্ঞাবান মানুষ: অধ্যক্ষ কোরেশ খানের জীবন ও কর্ম জুড়িতে মৎস্য কর্মকর্তার অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন আদিবাসীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করবে সরকার: কুলাউড়ায় শওকতুল ইসলাম এমপি প্রবাসীর হাত ধরে শিক্ষার আলো: কমলগঞ্জে স্কুল ড্রেস ও মেধাবৃত্তি বিতরণ অনুষ্ঠানে এমপি মুজিব ৪০ কোটি টাকার পানি প্রকল্পে বাড়ছে ভোগান্তি; বিল বৃদ্ধি, সংযোগে অতিরিক্ত খরচ ও সেবার মান নিয়ে ক্ষোভ কমলগঞ্জে রয়েস্টন কাউন্সিলে বিপুল ভোটে কাউন্সিলর নির্বাচিত হলেন ‘বুলবুল আহমেদ’ কমলগঞ্জে পর্যটন শিল্পের মানোন্নয়নে রিসোর্ট মালিকদের সঙ্গে এমপির মতবিনিময় কমলগঞ্জে ডিবির অভিযানে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার শ্রীমঙ্গলে শ্রমিক নির্যাতন: আহত ৩, থানায় অভিযোগ কমলগঞ্জে তরুণ উদ্যোক্তা ও কৃষিবিদ মুঈদ আশিক চিশতীর উদ্যোগ

কমলগঞ্জে স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: / ২৭৯ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় স্বামীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, প্রাণনাশের হুমকি এবং নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী স্ত্রী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের পূর্ব কালীপুর এলাকার বাসিন্দা রুবিনা বেগম (৩৫) তার স্বামী দক্ষিণ কামুদপুর এলাকার সুহেল মিয়ার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন। তার দাবি, বিবাহের পর থেকেই স্বামী ভরণপোষণ না দিয়ে উল্টো বিভিন্ন সময় তাকে মারধর ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছেন। তাদের সংসারে তিন কন্যা সন্তান রয়েছে।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ৬ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আলীনগর ইউনিয়ন পরিষদে সন্তানদের জন্মনিবন্ধন সংক্রান্ত কাজে যাওয়ার পথে তাকে আটকিয়ে মারধর করা হয়। এ সময় তার ভ্যানিটি ব্যাগে থাকা ৮ হাজার টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, স্বামীর অন্যত্র বিয়ে ও পরকীয়াকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে। এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় তিনি ও তার সন্তানরা হুমকি ও নির্যাতনের শিকার হন। এক পর্যায়ে তাকে সন্তানসহ বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে রুবিনা বেগম ও তার সন্তানদের ভরণপোষণ দিচ্ছেন না সুহেল মিয়া। মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা মিনারা বেগম জানান, ‘রুবিনা বেগম অন্যের বাড়িতে কাজ করে তিন মেয়েকে লালন-পালন করছেন। এলাকাবাসী মাঝেমধ্যে চাল-ডাল দিয়ে সহযোগিতা করছেন।’

অভিযোগের বিষয়ে রুবিনা বেগম বলেন, ‘স্বামী থেকেও নেই। আমাকে রেখে অন্য এক বয়স্ক নারীকে বিয়ে করে সংসার করছেন। আমার তিন মেয়ে ও আমাকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছেন। বহু জায়গায় বিচার চেয়েও পাইনি। বাধ্য হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েছি।’

তবে অভিযুক্ত সুহেল মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

তবে অভিযুক্ত সোহেল এর বাবা আব্দুল ওয়াহিদ বলেন, ‘আমার ছেলে খুব খারাপ। আমাকেও ঘর থেকে বের করে দিয়েছে। ঘরে ডুকলে মারধর করে। তার বিবাহিত স্ত্রী সন্তানদেরও ঘর বাড়ি থেকে বের করে অন্য একটা মেয়েকে নিয়ে সংসার করছে। আমি বৃদ্ধ বাবার খাবার ও ওষুধের টাকা পয়সা চাইলে মারধর করে। আমি দ্রুত এর বিচার চাই’

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য রইছ আলী বলেন, ‘অভিযোগের সত্যতা রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একাধিকবার বিচারের ডাক দেওয়া হলেও অভিযুক্ত উপস্থিত হননি এবং কোনো সিদ্ধান্ত মানেননি।’

কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর