সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৯:২৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
শিক্ষার আলো ছড়ানো এক প্রজ্ঞাবান মানুষ: অধ্যক্ষ কোরেশ খানের জীবন ও কর্ম জুড়িতে মৎস্য কর্মকর্তার অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন আদিবাসীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করবে সরকার: কুলাউড়ায় শওকতুল ইসলাম এমপি প্রবাসীর হাত ধরে শিক্ষার আলো: কমলগঞ্জে স্কুল ড্রেস ও মেধাবৃত্তি বিতরণ অনুষ্ঠানে এমপি মুজিব ৪০ কোটি টাকার পানি প্রকল্পে বাড়ছে ভোগান্তি; বিল বৃদ্ধি, সংযোগে অতিরিক্ত খরচ ও সেবার মান নিয়ে ক্ষোভ কমলগঞ্জে রয়েস্টন কাউন্সিলে বিপুল ভোটে কাউন্সিলর নির্বাচিত হলেন ‘বুলবুল আহমেদ’ কমলগঞ্জে পর্যটন শিল্পের মানোন্নয়নে রিসোর্ট মালিকদের সঙ্গে এমপির মতবিনিময় কমলগঞ্জে ডিবির অভিযানে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার শ্রীমঙ্গলে শ্রমিক নির্যাতন: আহত ৩, থানায় অভিযোগ কমলগঞ্জে তরুণ উদ্যোক্তা ও কৃষিবিদ মুঈদ আশিক চিশতীর উদ্যোগ

কমলগঞ্জে আধুনিক চাষাবাদের বিস্তারে হারিয়ে যাচ্ছে আখ চাষ

সালাহউদ্দিন শুভ / ১০২ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : শুক্রবার, ১০ জানুয়ারী, ২০২৫

আধুনিক চাষাবাদের বিস্তারে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ জনপদের একসময়ের জনপ্রিয় কৃষি আখ চাষ। ১০-১৫ বছর আগেও আখ চাষের বেশ জনপ্রিয়তা ছিল। শীতের সকালে গ্রামে গ্রামে ঘুরে আখের রস বিক্রি করতেন রস ফেরিওয়ালারা। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বৃদ্ধরাও আখের রস খাওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠতেন। এসব যেন এখন শুধুই স্মৃতি। কালের বিবর্তনে তা যেন এখন হারিয়ে যেতে বসেছে।

একসময় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় প্রচুর আখ চাষ হতো। নদীর চড়, হাওড় ও সমতল ভূমিতে প্রচুর আখ চাষ করতেন এখানকার কৃষকরা। গ্রামে গ্রামে গরু-মহিষ দিয়ে চড়কির মাধ্যমে আখের রস সংগ্রহ করা হতো। আধুনিক চাষাবাদের বিস্তারে কৃষকরা সহজলব্য ফসল উৎপাদনে মনোনিবেশ করেছেন। এতে আখ চাষের পরিমাণ দিন দিন কমে যাচ্ছে।

শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) সকালে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে দেখা মিলে মেশিন দিয়ে আখের রস সংগ্রহের দৃশ্য। গ্রামীণ জনপদের একসময়ের জনপ্রিয় কৃষি আখ চাষ এখনও ধরে রেখেছেন কৃষক মনসুর আলী। তিনি ট্রাটকারের মাধ্যমে মেশিন দিয়ে আখ থেকে রস সংগ্রহ করে তা আগুনে জ্বাল দিয়ে লালী ও গুড় তৈরি করে বিক্রি করেন।

উপজেলার ভানুগাছ বাজার থেকে রস, লালী, গুড় নিতে আসা আহমেদুজ্জামান আলম ও জাহেদ আহমদ জানান, এই রস লালী, গুড় এগুলো এখন আর গ্রামে নিয়ে কেউ যায় না। এগুলো এখন বিলুপ্তের পথে। আমরা সাধারণত বাজারগুলো থেকে গুড় কিনে খাই। আসলে সেটা কতটুকু স্বাস্থের জন্য ভালো তা জানি না।

তারা আরো বলেন, আমরা ফেইসবুকে দেখতে পাই, এ এলাকায় এই ধরনের চাষ ও বিক্রি হচ্ছে। তাই ১৩ কিলোমিটার পাহারী পথ পাড়ি দিয়ে এসে রস, লালী ও গুড় নিতে আসলাম। তারা আমাদের কাছ থেকে রসের দাম রাখল কেজিপ্রতি ৬০ টাকা, লালী কেজিপ্রতি ১৫০-১৮০ টাকা ও গুড় ১৮০ টাকা। আসলে দাম কেমন তা দেখে কিনতে আসা হয়নি আমাদের। মূলত এগুলো একদম ফ্রেশ তাই পরিবারের জন্য নিয়ে যাচ্ছি। এখন প্রচুর শীত। তাই বাসা থেকে পরিবারের সদস্যরা বলেছে বিভিন্ন ধরনের পিঠা বানিয়ে খাবে। তাই নিতে হচ্ছে।

আলাপকালে আখ চাষী কৃষক মনসুর আলী বলেন, ‌‘গত ৫-৬ বছর ধরে আখ চাষ করে আসছি। সাড়ে দুই কিয়ার (৬০) শতক জায়গায় আমি নিজে এই আখ ক্ষেতের চাষ করি। ৮মাসে এই আখ মারাই করে বিক্রির উপযোগি হয়। আমার খরচ হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। খরচের টাকার পরেও ১লক্ষ থেকে দেড় লক্ষ আয় হবে।’

তিনি আরো জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষজন আসছেন আমার এই কৃষি ক্ষেতে আখ মাড়াই করে রস, লালী ও গুড় তৈরি করা দেখতে ও নিয়ে যাইতে। আমি রস ৬০ টাকা, লালী ১৫০-১৮০টাকা গুড় ১৮০ টাকা দরে বিক্রি করছেন।’


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর