মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের আদমপুর ইউনিয়নের হেরেঙ্গাবাজার এলাকার একটি টমেটো বাগান থেকে অর্ধউলঙ্গ অবস্থায় এক তরুণীকে উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় শিপু মিয়া (২৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে গ্রেপ্তারকৃতের পরিবারের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা এবং শিপু মিয়াকে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করেন অভিযুক্ত শিপু মিয়ার স্ত্রী আম্বিয়া বেগম। এসময় উপস্থি ছিলেন শিপু মিয়ার পিতা কুতুব আলী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আম্বিয়া বেগম জানান, গত সোমবার (২ নভেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে তার স্বামী শিপু মিয়াকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। তিনি দাবি করেন, তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। ঘটনার দিন রাতে তার স্বামী হেরেঙ্গা বাজারের সোহেল মিয়ার টমেটোর দোকানে কাজ শেষ করে সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ি ফেরেন। খাওয়া-দাওয়া শেষে স্বামীকে ঘরে রেখে তিনি প্রতিদিনের মতো নিজ টমেটো বাগান দেখতে যান। রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুনরায় বাগান দেখতে গেলে সেখানে মোবাইল ফোনের আলো দেখতে পান এবং এগিয়ে গিয়ে একজন মানুষ শুয়ে থাকতে দেখেন।
পরবর্তীতে বিষয়টি স্বামী শিপু মিয়া ও ভাসুর শিমুল মিয়াকে জানালে তারা বাগানে গিয়ে পাশের বাড়ির মান্নান মিয়ার মেয়ে ৩য় মেয়েকে মেচাং থেকে অর্ধউলঙ্গ অবস্থায় দেখতে পান। পরে বাড়িতে এসে স্থানীয় ইউপি সদস্য মনির আলী ও সাবেক মহিলা ইউপি সদস্য রাবেয়া বেগমকে বিষয়টি জানানো হয়। ইউপি সদস্য মনির আলী তাৎক্ষণিকভাবে অপারগতা প্রকাশ করলেও সাবেক ইউপি সদস্য রাবেয়া বেগমকে নিয়ে তারা পুনরায় বাগানে যান। বাগানের দক্ষিণ পাশের একটি নালা থেকে ওই তরুণীকে অর্ধউলঙ্গ ও অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে শিপুর বাড়ির উঠানে এনে হাত-মুখে পানি দেওয়া হয়। এ সময় ইউপি সদস্য মনির আলীসহ পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়। এর আগেই শশুরের দোকানে যাওয়ার পথে পুলিশ শিপু মিয়াকে আটক করে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ওই তরুণীর পরিবার এর আগেও বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত ছিল এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য মনির আলীর সাথে তাদের পূর্ববিরোধের জের ধরেই এই ফাঁদ পাতা হয়েছে। ঘটনার রাতে তিনি তার চায়ের দোকানে ঘুমিয়ে ছিলেন এবং তার ছেলে বাড়িতেই ছিল। ইউপি সদস্য মনির আলীর সাথে তাদের পূর্ববিরোধের কারণে তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। এর আগেও তার বড় ছেলেকে মিথ্যা চুরির মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়।
এ বিষয়ে সাবেক মহিলা ইউপি সদস্য রাবেয়া বেগম জানান, রাতে ফোনে খবর পেয়ে তিনি শিপু মিয়ার টমেটো বাগানে গিয়ে তরুণীকে অচেতন ও উলঙ্গ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে উদ্ধার করে শিপুর বাড়িতে আনা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই শিপুকে রাস্তায় আটক করা হয়েছিল।
অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য মনির আলী বলেন, তার বিরুদ্ধে আনীত পরিকল্পনা ও পূর্ববিরোধের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। পুলিশ ফোন করে তার সহযোগিতা চাওয়ায় তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং পুলিশকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে ঘর্ষণের আলামতও পাওয়া গেছে বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. ওয়াহিদুজ্জামান রাজু বলেন, পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় এবং তাৎক্ষণিকভাবে যার টমেটো বাগান, সেই শিপু মিয়াকে আটক করে। পরবর্তীতে ভিকটিমের বক্তব্য ও বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে দুজনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আটককৃত শিপু মিয়াকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।