সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৬:৪২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
শিক্ষার আলো ছড়ানো এক প্রজ্ঞাবান মানুষ: অধ্যক্ষ কোরেশ খানের জীবন ও কর্ম জুড়িতে মৎস্য কর্মকর্তার অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন আদিবাসীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করবে সরকার: কুলাউড়ায় শওকতুল ইসলাম এমপি প্রবাসীর হাত ধরে শিক্ষার আলো: কমলগঞ্জে স্কুল ড্রেস ও মেধাবৃত্তি বিতরণ অনুষ্ঠানে এমপি মুজিব ৪০ কোটি টাকার পানি প্রকল্পে বাড়ছে ভোগান্তি; বিল বৃদ্ধি, সংযোগে অতিরিক্ত খরচ ও সেবার মান নিয়ে ক্ষোভ কমলগঞ্জে রয়েস্টন কাউন্সিলে বিপুল ভোটে কাউন্সিলর নির্বাচিত হলেন ‘বুলবুল আহমেদ’ কমলগঞ্জে পর্যটন শিল্পের মানোন্নয়নে রিসোর্ট মালিকদের সঙ্গে এমপির মতবিনিময় কমলগঞ্জে ডিবির অভিযানে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার শ্রীমঙ্গলে শ্রমিক নির্যাতন: আহত ৩, থানায় অভিযোগ কমলগঞ্জে তরুণ উদ্যোক্তা ও কৃষিবিদ মুঈদ আশিক চিশতীর উদ্যোগ

‘কলমা পড়তি পড়তিই কল কেটে যায়, পরে খবর পাই আমার পরান পাখি নাই’

ডেস্ক রিপোর্ট / ২৪২ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : শুক্রবার, ১ মার্চ, ২০২৪

আমার সোনা (নিহত কামরুল হাবিব রকি) প্রথমে আমার ভাইরে ফোন করে বলে যে ‌‘মামা আমারে বাঁচাও’। এরপরে আমি আমার ফোন দিয়ে আমার সোনারে ফোন দিই, তখন আমার সোনা বলে, ‘আম্মা আমি মনে হয় আর বাঁচব না’। তখন আমি আমার সোনারে কলমা পড়তি বলি, আমিও কলমা পড়ছি, আমার সোনাও আমার সঙ্গে কলমা, দোয়া-দরুদ পড়ছে। কলমা পড়তি পড়তিই কল কেটে যায়, তারপর থেকে আর আমার সোনারে ফোন দিয়ে পাইনি, পরে খবর পাই আমার পরান পাখি আর নেই। খাটিয়ার পাশে বসে আহাজারি করতে করতে এভাবেই কামরুল হাবিব রকির মৃত্যুর শেষ সময়ের বর্ণনা দিচ্ছিলেন তার মা রিপা বেগম।

বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর বেইলি রোডে বহুতল ভবনে লাগা আগুনের ঘটনায় সাততলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় ‘কাচ্চি ভাই’ নামের খাবারের দোকানের ক্যাশিয়ার ছিল কামরুল হাবিব রকি। তিনি যশোর সদর উপজেলার ধোপাখোলা গ্রামের কবির হোসেনের ছেলে।

শুক্রবার (১ মার্চ) সকালে তার গ্রামের বাড়িতে মরদেহ নিয়ে আসা হয়। এরপর থেকে রকিকে শেষবারের মতো দেখতে বাড়িতে ভিড় করে প্রতিবেশী এবং আত্মীয় স্বজনরা। স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে গোটা পরিবেশ।

নিহতের প্রতিবেশী এবং স্বজনরা জানান, অগ্নিকাণ্ডে নিহত কামরুল হাবিব রকির পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। তার বাবা কবির হোসেন পেশায় ইজিবাইক চালক। পার্শ্ববর্তী গাজির দরগাহ কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে আড়াই মাস আগে ঢাকায় ‘কাচ্চি ভাই’ হোটেলে ক্যাশিয়ার পদে যোগদান করেন তিনি। অগ্নিকাণ্ডের ধোয়ায় রকি অক্সিজেন ফেল করে মারা যান বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা।

নিহতের বাবা কবির হোসেন বলেন, ১৫ দিন আগে রকি বাড়িতে এসেছিল। ডিগ্রিতে ভর্তি হওয়ার জন্য ফরম তুলে আবার ঢাকায় ফিরে যায়। আমার ছেলেকে আমি এভাবে হারাব, আমি কোনোদিন ভাবতে পারিনি। আমার ছেলে সংসারের হাল ধরতে গিয়ে আজ লাশ হয়ে ফিরে আসলো।

নিহতের প্রতিবেশী মো. পলাশ হোসেন বলেন, কামরুল হাবিব রকি ছেলে হিসেবে অনেক ভালো এবং ভদ্র। গ্রামের সকলেই তাকে অনেক স্নেহ করত। পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় অল্প বয়সে উপার্জনের জন্য কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টে চাকরি শুরু করেন।

শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নামাজের পর রকির জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর