বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:১৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
মৌলভীবাজার-৪ আসনে শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত ছিল হাজী মুজিব পরিবারের উত্তরসূরিরা ঝুঁকিপূর্ণ ২২৩ কেন্দ্রে বডি-অন ক্যামেরা, মৌলভীবাজারে ভোটের মাঠে থাকবেন ১,৬৪১ পুলিশ মৌলভীবাজারে চা বাগানে যুবকের হাত-পা বাঁ/ধা রক্তা/ক্ত মর/দেহ উ/দ্ধার রাত পোহালেই ভোট: মৌলভীবাজারে ৫৫৪ কেন্দ্রে প্রস্তুতি, ২২৩টি ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত ভোটের মাঠে সাংবাদিকরা কী করবেন, কী করতে পারবেন না মৌলভীবাজারে নির্বাচন উপলক্ষে ব্রিফিং প্যারেড অনুষ্ঠিত কমলগঞ্জে বিএনপির বিশাল নির্বাচনী জনসভা আমার রাজনীতি মানুষের জন্য : প্রীতম দাশ মৌলভীবাজারে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে যৌথ বাহিনীর মহড়া নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিলেন চেয়ারম্যান আবদাল

ভূমির অধিকার থেকে পরিবেশ—চা বাগানে প্রীতম দাশের প্রতিশ্রুতির রাজনীতি

সালাহউদ্দিন শুভ / ৪৮ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জের চা বাগানগুলোতে সকাল নামলেই কুয়াশার ভেতর দিয়ে কাজে বের হন হাজারো চা শ্রমিক। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে যাঁরা এই পাহাড়ি সবুজের ভেতর জীবন কাটাচ্ছেন, উন্নয়ন ও অধিকার তাঁদের কাছে এখনও অনেকটাই দূরের স্বপ্ন। এমন বাস্তবতায় মৌলভীবাজার-৪ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী প্রীতম দাশের নির্বাচনী প্রচারণা চা শ্রমিকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালিঘাট, লাখাই ও বিলাসছড়া চা বাগান এবং কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই চা বাগানে গণসংযোগকালে প্রীতম দাশ চা শ্রমিকদের ভূমির অধিকার, ন্যায্য মজুরি ও সামাজিক মর্যাদার প্রশ্নটি সামনে আনেন। চা বাগানের ভেতর ছোট ছোট পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে তিনি শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন, শোনেন তাঁদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার গল্প।

কালিঘাট চা বাগানের শ্রমিক রাধা রানী দাশ বলেন,‘আমরা সারাদিন পাতা তুলি, কিন্তু নিজের বলে এক টুকরো জমিও নেই। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সব সময় ভয় কাজ করে। প্রীতম দাশ যদি সত্যিই আমাদের জমির অধিকার নিশ্চিত করেন, তাহলে আমরা প্রথমবারের মতো মানুষ হিসেবে বাঁচার সুযোগ পাব।’

লাখাই চা বাগানের প্রবীণ শ্রমিক শিবু উড়াঁও বলেন, ‘অনেক নেতা আসে, কথা বলে, ছবি তুলে চলে যায়। কিন্তু উনি (প্রীতম দাশ) আমাদের ঘরে ঢুকেছেন, বসে কথা শুনেছেন। আমাদের ভাষা, সংস্কৃতির কথা বলেছেন—এটা আমরা আগে দেখিনি।’

প্রীতম দাশ মুঠোফোনে বলেন, ‘চা শ্রমিক জনগোষ্ঠী যুগের পর যুগ অবহেলিত। নির্বাচিত হলে তাঁদের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন তিনি।’

হাওর ও পরিবেশ প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য চা শ্রমিকদের মধ্যেও আশার সঞ্চার করেছে। বিলাসছড়া চা বাগানের এক তরুণ শ্রমিক মঙ্গল হাঁসদা বলেন, ‘হাইল হাওর নষ্ট হয়ে গেলে আমাদের জীবনও নষ্ট হবে। মাছ নেই, পানি দূষিত। উনি হাওর উদ্ধার আর পরিবেশ রক্ষার কথা বলেছেন—এটা আমাদের জন্য খুব দরকার।’

কমলগঞ্জের ধলাই চা বাগানের শ্রমিক লখিন্দর সাঁওতাল বলেন, ‘আমাদের ছেলেমেয়েরা কাজ না পেয়ে শহরে চলে যাচ্ছে। যদি এখানে প্রশিক্ষণ আর কাজের সুযোগ হয়, তাহলে তারা গ্রামে থেকেই ভালো কিছু করতে পারবে।’

প্রীতম দাশ জানান, ‘বেকার যুবকদের জন্য ওয়ান স্টপ ইউথ সেন্টার, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে ডিজিটাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট হাব, বিষমুক্ত কৃষি, হিমাগার নির্মাণ এবং সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন তাঁর অগ্রাধিকার।’

পর্যটন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়েও তাঁর পরিকল্পনা রয়েছে। কমিউনিটি ও ইকো ট্যুরিজমের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু, নতুন বাসস্ট্যান্ড নির্মাণ, ঢাকা–সিলেট রুটে নতুন ট্রেন চালু এবং শমসেরনগর রেলস্টেশনে সব ট্রেনের স্টপেজ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

প্রীতম দাশ বলেন, ‘আমি অঢেল সম্পদের মালিক নই, আমি সাধারণ মানুষের একজন। শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জকে মানবিক, পরিবেশবান্ধব ও সমৃদ্ধ অঞ্চলে রূপান্তর করাই আমার রাজনীতির লক্ষ্য। চা বাগানের ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা শ্রমিকদের চোখে তখন কেবল একজন প্রার্থী নয়—একটু ভিন্ন রাজনীতির সম্ভাবনাও যেন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।’


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর