সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:৩৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিলেন চেয়ারম্যান আবদাল সাংবাদিকদের জন্য বিএনপির একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি সিলেটে চারদিন সবধরণের সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ব্রিটিশ নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণে সতর্কতা ভারতীয় ভিসার জন্য নতুন নিয়ম চালু মৌলভীবাজারে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে মতবিনিময় সভা চা শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে মো. মহসিন মিয়া মধুর অঙ্গীকার মৌলভীবাজারে কিশোর গ্যাং তো দূরে থাক, কোনো গ্যাংই থাকবে না— নাসের রহমান ভূমির অধিকার থেকে পরিবেশ—চা বাগানে প্রীতম দাশের প্রতিশ্রুতির রাজনীতি শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় বঙ্গভবনের প্রোগ্রামার আটক

সড়ক দুর্নীতি উন্মোচনের পর হামলা: স্থানীয় সাংবাদিক সৈয়দ জিলাল আহমেদ গুরুতর আহত

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : / ২৭ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

আঞ্চলিক সড়ক সংস্কারে দুর্নীতির তথ্য প্রকাশের পর মৌলভীবাজারে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লিজা বেগম ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক সৈয়দ জিলাল আহমেদ দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন। হামলাকারীরা নির্মমভাবে তাঁকে হকি স্টিক ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে অচেতন করে ফেলে। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে দ্য রয়েল প্রাইভেট হাসপাতাল (রাজনগর শাখা)-এ ভর্তি আছেন।

জানা যায়, সাংবাদিক জিলাল ২০২৩ সালের ২৫ নভেম্বর স্থানীয় দৈনিক The Star News 24-এ মৌলভীবাজার সদর, শ্রীমঙ্গল ও রাজনগর উপজেলার সংযোগ সড়ক সংস্কারে দুর্নীতি ও অবহেলার অভিযোগভিত্তিক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলেন। প্রতিবেদনের পর থেকেই স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এলাকাবাসীর ধারণা, সেই প্রতিবেদনের প্রতিশোধ হিসেবেই তাঁর ওপর এ হামলা চালানো হয়েছে। হামলার সময় দুর্বৃত্তরা চিৎকার করে বলছিল, “এই লোকটাই আমাদের বিরুদ্ধে কাজ করে, লিজার পরিবারকেও সাহায্য করে; ওকে মেরে ফেলতে হবে। সে মূল অপরাধী, আর লিজা তার সহযোগী।” প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকে এই কথাগুলো স্পষ্ট শুনেছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মোঃ সাহেদ বলেন, “আমি রাস্তার পাশে দোকানে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ দেখি কয়েকজন লোক জিলাল সাহেবের ওপর লাঠি ও হকি স্টিক দিয়ে আঘাত করছে। আমরা চিৎকার করলে তারা দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা মিলে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। শুনেছি, হামলাকারীরা রাজনৈতিক চাপের প্রভাবে কাজ করেছে।” আরেক প্রত্যক্ষদর্শী পথচারী আয়ূব আলী বলেন, “কিছু মানুষকে বলতে শুনেছি, এই ছেলেটা প্রেসক্লাব ব্যবহার করে আমাদের সম্মান নষ্ট করছে। কিছুক্ষণ পর দেখি তাকে রাস্তায় মারছে। এটা আমাদের এলাকার জন্য লজ্জাজনক।”
হামলায় সৈয়দ জিলালের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটা-ছেঁড়া ও ফোলাভাব দেখা যায়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল এবং স্নায়ুজনিত জটিলতার আশঙ্কা ছিল। বর্তমানে তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন, তবে মানসিকভাবে এখনো ভীত ও উদ্বিগ্ন। পরিবার জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকে তাঁরা মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং রাজনৈতিক প্রতিশোধের ভয় তাঁদের তাড়া করছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, এই হামলার পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব ও পরিকল্পিত নির্দেশনা রয়েছে। অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে, স্থানীয় সংসদ সদস্য নেসার আহমেদ পর্দার আড়াল থেকে পুরো বিষয়টি পরিচালনা করছেন। তবে কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা রাজনৈতিক ব্যক্তি প্রকাশ্যে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। রাজনগর থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তাঁরা বলেন, “ঘটনাস্থল থেকে সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বিবৃতি এবং হাসপাতালের নথি সংগ্রহ করা হচ্ছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক তদন্তে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও বিস্তারিত প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।

অন্যদিকে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ, মানবাধিকার কর্মী এবং সাধারণ নাগরিকরা ঘটনার তীব্র নিন্দা ও দ্রুত বিচার দাবি করেছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, “রাজনৈতিক প্রতিশোধ ও দুর্নীতিবিরোধী কণ্ঠরোধের এই ধারাকে এখনই থামাতে হবে। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।”

সড়ক সংস্কারে দুর্নীতি উন্মোচনের সাহসিকতা দেখানো এই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় মৌলভীবাজারে আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি সাধারণ মানুষের একটাই দাবি—সত্য উদ্‌ঘাটন ও অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হোক।


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর