সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৯:৪৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
শিক্ষার আলো ছড়ানো এক প্রজ্ঞাবান মানুষ: অধ্যক্ষ কোরেশ খানের জীবন ও কর্ম জুড়িতে মৎস্য কর্মকর্তার অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন আদিবাসীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করবে সরকার: কুলাউড়ায় শওকতুল ইসলাম এমপি প্রবাসীর হাত ধরে শিক্ষার আলো: কমলগঞ্জে স্কুল ড্রেস ও মেধাবৃত্তি বিতরণ অনুষ্ঠানে এমপি মুজিব ৪০ কোটি টাকার পানি প্রকল্পে বাড়ছে ভোগান্তি; বিল বৃদ্ধি, সংযোগে অতিরিক্ত খরচ ও সেবার মান নিয়ে ক্ষোভ কমলগঞ্জে রয়েস্টন কাউন্সিলে বিপুল ভোটে কাউন্সিলর নির্বাচিত হলেন ‘বুলবুল আহমেদ’ কমলগঞ্জে পর্যটন শিল্পের মানোন্নয়নে রিসোর্ট মালিকদের সঙ্গে এমপির মতবিনিময় কমলগঞ্জে ডিবির অভিযানে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার শ্রীমঙ্গলে শ্রমিক নির্যাতন: আহত ৩, থানায় অভিযোগ কমলগঞ্জে তরুণ উদ্যোক্তা ও কৃষিবিদ মুঈদ আশিক চিশতীর উদ্যোগ

শ্রীমঙ্গলে ত্রিপুরাদের পৈতৃক ভূমিতে হামলা ও দখলচেষ্টার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৪৩৬ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : শনিবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২৬

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের পৈতৃক ও দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় ভূমিতে অবৈধ অনুপ্রবেশ, বাড়িঘর ভাঙচুর, সীমানা পিলার অপসারণ এবং জোরপূর্বক দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

শনিবার দুপুরে ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদশন করে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম মৌলভীবাজার জেলা শাখার নেতৃবৃন্দরা। তার আগে গত ২১ জানুয়ারি অভিযোগকারী সরকারে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৩নং শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের বালিশিরা মৌজার দাগ নং ৫১৭, জেএল নং ৭১, ব্লক নং ৩, খতিয়ান নং ৩২৬ ও ৪০১-এর অন্তর্ভুক্ত ভূমিতে যুগ যুগ ধরে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর সদস্যরা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস ও জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ইং (বুধবার) সকাল আনুমানিক ১১টা ৫৫ মিনিটে রুহিন মিয়া (পিতা- ছফেদ মিয়া) ও ছফেদ মিয়া (পিতা- মৃত ধনাই মিয়া), উভয়ই ছফেদ মিয়া রোড, শ্যামলী আবাসিক পাকা, শ্রীমঙ্গল এলাকার বাসিন্দা—সহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জন সিএনজি ও পিকআপ গাড়িতে করে ঘটনাস্থলে এসে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা ভুক্তভোগীদের সদ্য নির্মিত একটি টুরিস্ট শপ ভাঙচুর করে এবং নির্মাণসামগ্রী গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। পাশাপাশি ভূমির সীমানা পিলার উপড়ে ফেলে নিয়ে যায়। এ সময় দোকান ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ করতে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ডলুছড়া গ্রামের প্রবেশপথে অবস্থিত তাদের নিজস্ব মালিকানাধীন একটি মার্কেটে ব্যবসা পরিচালনা না করার জন্য মোবাইল ফোনে হুমকি দেওয়া হয়। ঘটনার দিন জুমার নামাজের আগে মোঃ মোক্তার মিয়াকে ফোনে হুমকি দেওয়া হয় বলে তার ছেলে মোঃ সিহাব মিয়া বিকেল আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে বিষয়টি পরিবারকে জানান।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের প্রচলিত আইন, সংবিধানে স্বীকৃত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অধিকার এবং মৌলিক মানবাধিকারের পরিপন্থী।

এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে তারা সরেজমিন তদন্ত, অবৈধভাবে অপসারিত সীমানা পিলার পুনঃস্থাপন, ভাঙচুরকৃত ঘর ও দোকানের মালামাল উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে তাদের ভূমি, বসতভিটা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে যেন কোনো ধরনের হয়রানি বা হুমকি না আসে, সে জন্য কার্যকর প্রশাসনিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগের বিষয়ে একাধিকবার বিভিন্নভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী হিসেবে ইন্দ্র মোহন দেববর্মা এ বিষয়ে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে লিখিত অভিযোগ প্রদান করা হয়েছে বলে এই প্রতিবেদককে জানান।

শ্রীমঙ্গল থানা অফিসার ইনচাজ শেখ মো. জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, আমি অভিযোগ এখনো পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর