মারুফ এন্টারপ্রাইজের মালিক ও বর্তমানে কানাডাপ্রবাসী মৌলভীবাজারের ব্যবসায়ী মো. জামাল আহমেদ দক্ষিণ সুরমা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি শেখ মোহাম্মদ ফরহাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সহিংসতার মাধ্যমে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের অভিযোগ তুলেছেন। জামাল আহমেদের দাবি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লিখে দিতে রাজি না হওয়ায় ফরহাদ তাকে বারবার মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেন; যার ফলে নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হন।
হোয়াটসঅ্যাপে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জামাল আহমেদ আরও অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালের ২৬ এপ্রিল ফরহাদ তাকে খুঁজতে তার বাড়িতে যান। জামাল আহমেদ বিদেশে অবস্থান করছেন জানতে পেরে এবং বাড়িতে তার স্ত্রীকে একা পেয়ে ফরহাদ তাকে ভয়ভীতি দেখান, যৌন হয়রানিমূলক হুমকি দেন এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালান। পরবর্তীতে জামাল আহমেদের ভাই বাজার থেকে ফিরে এসে বাধা দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এই ঘটনার পর জামাল আহমেদের স্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে থানায় লিখিত অভিযোগ জানালেও, ফরহাদের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে পুলিশ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে তিনি দাবি করেন। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ফরহাদ নিজের রাজনৈতিক অবস্থান বদলে বিএনপিতে যোগ দেন এবং দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন—যার মধ্যে গত ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া মো. নাসের রহমানও রয়েছেন। পরবর্তীতে বিএনপি সরকার গঠন করে এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
বিএনপি নেতৃত্ব এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের একটি সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে—সহিংসতা, চাঁদাবাজি বা নিপীড়নের মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা এবং কাউকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক আশ্রয় না দেওয়া। এ ধরনের অভিযোগ স্বচ্ছতার সাথে সামলাতে ব্যর্থ হলে তা সরকার ও ক্ষমতাসীন দল—উভয়ের প্রতিই জনআস্থা ক্ষুণ্ন করতে পারে।