মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
ভোলাগঞ্জে সাংবাদিকের ওপর হামলা: তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা কমলগঞ্জে স্বেচ্ছাশ্রমে ঝোপঝাড় পরিষ্কার, ভিডিপি সদস্যদের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে প্রশংসা স্থানীয়দের মৌলভীবাজারে পার্কে উটপাখি ও এমুর ডিম দেশের চা শিল্পে নতুন মাইলফলক ন্যাশনাল টি কোম্পানির নবারুণ সংঘের পক্ষ থেকে এমপি মুজিবুর রহমান চৌধুরীকে সম্মাননা স্মারক প্রদান মার্শাল আর্ট ক্লাব কাপে ‘জুসা মার্শাল আর্ট’ এর সাফল্য, শ্রীমঙ্গলের আয়াত ও আইরাহ ঝুলিতে ৪ পদক লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের সিএমসি হিসাবরক্ষক আবজালুল হকের মৃত্যুতে,এলাকায় শোকের ছায়া ভোলাগঞ্জ স্থলবন্দরে এলসি আটকে হয়রানির অভিযোগ, বিএনপির সাবেক সভাপতির কমলগঞ্জে ডোবা থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির গলিত মরদেহ উদ্ধার লন্ডনে আদমপুর ইউনাইটেড কলেজ বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা সভা

৪০ কোটি টাকার পানি প্রকল্পে বাড়ছে ভোগান্তি; বিল বৃদ্ধি, সংযোগে অতিরিক্ত খরচ ও সেবার মান নিয়ে ক্ষোভ কমলগঞ্জে

এম এ ওয়াহিদ রুলু / ১৭১ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্প এখন জনঅসন্তোষের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বড় আকারের অবকাঠামো নির্মাণ করা হলেও গ্রাহকদের অভিযোগ—সেবার মান প্রত্যাশিত নয়, উল্টো বেড়েছে খরচ ও দুর্ভোগ।

বাংলাদেশের ৩০টি পৌরসভায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের আওতায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে নির্মাণ করা হয়েছে ৬ লাখ লিটার ধারণক্ষমতার উচ্চ জলাধার, পানি শোধনাগার, অফিস ভবন ও প্রায় ৩৭ কিলোমিটার পাইপলাইন। ইতোমধ্যে প্রায় ১ হাজার ৮০০ পরিবারকে পানির সংযোগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অসহায় পরিবারের জন্য ৭০০টি টয়লেট, ৩ কিলোমিটার ড্রেন, ৩টি উৎপাদনকারী নলকূপ এবং ২টি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে।

তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের পর থেকেই নানা অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। পৌরবাসীর দাবি, আগে পানির সংযোগ ফ্রি থাকলেও এখন মিটার বাধ্যতামূলক করে ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সংযোগ ফিও ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ৮০০ টাকা করা হয়েছে। ফলে নতুন সংযোগ নিতে মালামাল ও শ্রমিক খরচসহ প্রায় ১০ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে। অনেকের অভিযোগ, সংযোগের কাজে নিয়োজিত কিছু কর্মী অতিরিক্ত অর্থও দাবি করছেন।

এদিকে অনেক এলাকায় নিয়মিত পানি সরবরাহ না হওয়া, পানির চাপ কম থাকা এবং আয়রনযুক্ত পানি পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কোথাও কোথাও পাইপলাইন মাটির গভীরে না বসানোর কারণে তা ফেটে রাস্তায় পানি অপচয় হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ দেখা দিয়েছে পানির বিল বৃদ্ধি নিয়ে। পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই মে মাস থেকে ২০০ টাকার পরিবর্তে ৩০০ টাকা ন্যূনতম বিল নির্ধারণ করায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো আর্থিক চাপে পড়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

প্রকল্পের আবাসিক প্রকৌশলী গোলাম কবির খান জানান, ‘প্রকল্প পরিচালনায় প্রতি মাসে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা ব্যয় হলেও গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় হয় মাত্র দেড় লাখ টাকার মতো। বিদ্যুৎ বিল, কর্মচারীদের বেতন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তার দাবি, অনেক গ্রাহক পানির অপচয় করেন এবং নিয়মিত বিল পরিশোধ করেন না। এ কারণেই বিল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘প্রতি মাসে প্রায় ২ লাখ টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে পৌরসভাকে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই পানির বিল ২০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা করা হয়েছে। তবে গ্রাহকদের অভিযোগ ও বিল কমানোর দাবি আলোচনার মাধ্যমে বিবেচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।’

সচেতন মহলের মতে, বিশুদ্ধ পানি মানুষের মৌলিক অধিকার। তাই সেবার মান নিশ্চিতের পাশাপাশি সংযোগ ব্যয় ও বিল সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর