মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে মকবুল মিয়া (৫০) নামে এক ব্যক্তি তার স্ত্রী, সন্তানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনে থানায় ও সাংবাদিকদের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগকারী মকবুল মিয়া পেশায় একজন অটোরিকশা চালক এবং তিনি শমশেরনগর ইউনিয়নের সতিঝিরগ্রাম এলাকার বাসিন্দা।
লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তার স্ত্রী নাছিমা বেগম (৪৫), মেয়ে রিমি বেগম (২৫) ও ছেলে ফাহিম মিয়া (২৩) দীর্ঘদিন ধরে তার সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে আসছেন। এ ছাড়া স্থানীয় আরও তিন ব্যক্তি—নবির মিয়া (৪০), কালাম মিয়া (৪০) ও রহমান মিয়া (৪৫)—ঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মকবুল মিয়ার দাবি, তার স্ত্রী ও মেয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়ায় জড়িয়ে পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি করছেন, যার ফলে তিনি সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছেন। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার ছেলে ফাহিম মিয়াও মায়ের পক্ষ নিয়ে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত রমজান মাসে তার স্ত্রী ও ছেলে বসতঘর থেকে নগদ প্রায় ২০ হাজার টাকা ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে অন্যত্র চলে যান। এছাড়া কয়েক মাস আগে তার মেয়ে অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে চলে গেছে বলেও তিনি দাবি করেন। সর্বশেষ গত ২১ এপ্রিল বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে শমশেরনগর বাজার চৌমুহনী এলাকায় তার ছেলে তাকে অটোরিকশা ও ঘরের মালামাল নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মকবুল মিয়া বলেন, ‘আমার স্ত্রী ও মেয়ে পরকীয়ায় জড়িত—এ বিষয়ে একাধিকবার বিচার-সালিশ হয়েছে। কিন্তু তারা কোনোভাবেই তা মানেনি। উল্টো আমার ছেলে তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আমাকে মারধর করছে। বর্তমানে আমি অসহায় অবস্থায় হোটেল-মোটেলে থেকে জীবনযাপন করছি। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’
স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘মকবুল মিয়া একজন ভালো মানুষ। তবে তার পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করছে। বিষয়টির একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান প্রয়োজন।’
অভিযুক্তদের মধ্যে কালাম মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘প্রায় এক বছর আগে নাছিমা বেগম ও তার মেয়ে আমার বাসায় ভাড়া থাকতেন। তারা প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ করতেন। পরে তারা চলে যান। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।’
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য সানোয়ার হোসেন বলেন, ‘এটি মূলত পারিবারিক বিষয়। আমি একাধিকবার ইউনিয়ন পরিষদে এনে বিচার-সালিশের চেষ্টা করেছি, কিন্তু তারা কেউই তাতে সাড়া দেয়নি।’
শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সোহেল জানান, ‘মকবুল মিয়ার দেওয়া অভিযোগের একটি কপি আমরা পেয়েছি। প্রাথমিক তদন্ত করা হয়েছে, বাকি তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’