মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
শ্রীমঙ্গলে এসএসসিতে জিপিএ-৫ এ শীর্ষে দি বাডস, পাসের হারে সেরা নটরডেম ভোলাগঞ্জে সাংবাদিকের ওপর হামলা: তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা কমলগঞ্জে স্বেচ্ছাশ্রমে ঝোপঝাড় পরিষ্কার, ভিডিপি সদস্যদের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে প্রশংসা স্থানীয়দের মৌলভীবাজারে পার্কে উটপাখি ও এমুর ডিম দেশের চা শিল্পে নতুন মাইলফলক ন্যাশনাল টি কোম্পানির নবারুণ সংঘের পক্ষ থেকে এমপি মুজিবুর রহমান চৌধুরীকে সম্মাননা স্মারক প্রদান মার্শাল আর্ট ক্লাব কাপে ‘জুসা মার্শাল আর্ট’ এর সাফল্য, শ্রীমঙ্গলের আয়াত ও আইরাহ ঝুলিতে ৪ পদক লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের সিএমসি হিসাবরক্ষক আবজালুল হকের মৃত্যুতে,এলাকায় শোকের ছায়া ভোলাগঞ্জ স্থলবন্দরে এলসি আটকে হয়রানির অভিযোগ, বিএনপির সাবেক সভাপতির কমলগঞ্জে ডোবা থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির গলিত মরদেহ উদ্ধার

দূর পরবাসে থেকেও নাড়ির টানে ড. শাহ্ আলম: চাবাগান ও আর্তমানবতার সেবায় এক অনন্য নাম

ডেস্ক রিপোর্ট / ৩৬৪ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬

মৌলভীবাজার জন্মমাটি আর মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে অনেক দূরে থেকেও যে ভালোবাসা বিলিয়ে দেওয়া যায়, তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জের বাসিন্দা ড. হাজ্জ্বী শাহ্ আলম। দীর্ঘ ২৮ বছর আগে জীবিকার তাগিদে পাড়ি জমিয়েছিলেন সুদূর লন্ডনে। সেখানে সরকারি চাকরির পাশাপাশি সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করলেও তাঁর মন পড়ে থাকে জন্মভূমি বাংলাদেশের কমলগঞ্জের চা-শ্রমিক আর অসহায় মানুষের আঙিনায়।

২০১৪ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে বিলীন করে দিয়েছেন ড. শাহ্ আলম। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ফান্ডের ওপর নির্ভর না করে, নিজের উপার্জিত বেতনের একটি বড় অংশ তিনি ব্যয় করেন নিজ জেলার মানুষের কল্যাণে। তাঁর এই নিরলস প্রচেষ্টায় বিশেষ করে উপকৃত হচ্ছে কমলগঞ্জের বিভিন্ন চা বাগান এলাকা।

ড. শাহ্ আলমের সেবামূলক কাজের পরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত। চা বাগান এলাকার অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসা সহায়তায় এগিয়ে আসা থেকে শুরু করে মসজিদ ও মন্দিরের উন্নয়ন কাজে সিমেন্ট বা আর্থিক অনুদান প্রদান—সবখানেই তাঁর হাতের ছোঁয়া রয়েছে। এমনকি কবরস্থানের রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগেও তিনি থাকেন অগ্রভাগে। বন্যার সময় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ কিংবা ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর মেরামতে টিন ও বাঁশ পৌঁছে দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের নির্ভরতার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।

কেবল ত্রাণ নয়, তরুণ সমাজকে বিপথগামী হওয়া থেকে বাঁচাতে তিনি খেলাধুলাকেও প্রাধান্য দেন। বিভিন্ন টুর্নামেন্টে ট্রফি, জার্সি ও ফুটবল প্রদান করে তিনি উৎসাহিত করেন স্থানীয় কিশোর-যুবকদের। এছাড়া দরিদ্র পরিবারের মেয়ের বিয়েতে চালসহ অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী দিয়ে সাহায্য করেন তিনি। বিশেষ করে এনটিসি (ন্যাশনাল টি কোম্পানি) বন্ধ থাকাকালীন যখন চা-শ্রমিকদের ঘরে অভাব দেখা দেয়, তখন চাল, ডাল ও তেলের প্যাকেট হাতে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এই দানবীর।

সংগঠনের সৌরভ বীন জানান, ড. হাজ্জ্বী শাহ্ আলম সবসময় চা-জনগোষ্ঠীর জীবনমান নিয়ে ভাবেন। তাঁদের প্রতিটি বিপদে তিনি পরম বন্ধুর মতো এগিয়ে আসেন।

অনুরূপ অনুভূতি ব্যক্ত করেন চাম্পারায় চা বাগানের ধীরেন ব্যানার্জি এবং পাত্রখোলা চা বাগানের লিটন গঞ্জু। তাঁদের মতে, বন্যার মতো কঠিন সময়ে কমলগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের সাধারণ মানুষ ড. শাহ্ আলমের কাছ থেকে যে পরিমাণ সহযোগিতা পেয়েছে, তা চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বস্তি এলাকার শিশু শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নেও কাজ করছেন তিনি।

সমাজসেবার এই দীর্ঘ পথচলা নিয়ে ড. শাহ্ আলম বলেন, মানুষের জন্য কাজ করার মাঝেই তিনি প্রকৃত সুখ খুঁজে পান। তিনি সকলের কাছে দোয়া ও আশীর্বাদ চেয়েছেন, যেন আজীবন সফলতার সাথে সমাজের অসহায় মানুষের পাশে থেকে সেবার এই ধারা অব্যাহত রাখতে পারেন। নিভৃতচারী এই সমাজসেবকের নিঃস্বার্থ কাজগুলো আজ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জজুড়ে মানবতার এক নতুন গল্প বলছে।


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর