শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
কমলগঞ্জে দুই সংসারে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, থানায় অভিযোগ মানবিক কর্মকাণ্ডে মানুষের ভালোবাসা অর্জন করতে চান কমলগঞ্জের শামীম আহমেদ কমলগঞ্জে অসহায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে এমপির পূজার উপহার বিতরণ অডিও কল রেকর্ড ফাঁস করে হেয় প্রতিপন্নের অভিযোগ যুবদল নেতার কমলগঞ্জে ১৫৪ মণ্ডপে দুর্গাপূজা শুরু, নিরাপত্তায় পুলিশের টহল জোরদার কমলগঞ্জে বসতবাড়ির রাস্তা দখলচেষ্টার অভিযোগ, প্রাণনাশের হুমকি কমলগঞ্জে জাতীয়তাবাদী সাইবার দলের কমিটি গঠন দুর্গোৎসবে সম্প্রীতির বার্তা মুঈদ আশিক চিশতীর জেলা স্টেডিয়াম হবে পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন-ওয়ার্ডে নতুন মাঠ: আমিনুল হক কমলগঞ্জে পোশাক তৈরির প্রশিক্ষণ শুরু

কমলগঞ্জে ‘ব্রীজ আছে, রাস্তা নেই’

সালাহউদ্দিন শুভ / ৪২১ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের কান্দিগাঁও এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি ব্রীজ—যা হতে পারত উন্নয়ন ও সম্ভাবনার প্রতীক—আজ হয়ে উঠেছে অব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনাহীনতার এক নীরব সাক্ষী। নির্মাণের প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেলেও ব্রীজটি আজও ব্যবহারহীন, কারণ এর সঙ্গে নেই কোনো সংযোগ সড়ক।

প্রায় ২৯ বছর আগে একটি ছোট ছড়ার ওপর নির্মিত এই ব্রীজটি স্থানীয় মানুষের স্বপ্ন জাগিয়েছিল। আশা ছিল, এটি চালু হলে আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াত সহজ হবে, কমবে সময় ও দূরত্ব। কিন্তু বাস্তবতা সেই স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করেছে। ব্রীজের দুই পাশে মাটি ভরাট ও সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় এটি আজও কার্যত অচল।

সড়জমিনে দেখা যায়, ব্রীজে উঠতে হলে স্থানীয়দের ভরসা করতে হয় অস্থায়ী ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবস্থার ওপর—কখনও বাঁশের সাঁকো, কখনও উঁচু কোনো কাঠামো। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হয় তাদের। ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচল হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ।

এই ব্রীজটি ব্যবহারযোগ্য হলে অন্তত চারটি ইউনিয়নের ৮ থেকে ১০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হতেন। শিক্ষা, চিকিৎসা ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত সহজ হতো। বর্তমানে বাধ্য হয়ে মানুষকে তিন থেকে চার কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প পথে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যা সময় ও শ্রম দুটোই বাড়িয়ে দিচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এই ব্রীজটি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। ফলে এটি এখন উন্নয়নের প্রতীক না হয়ে অপচয়ের এক বাস্তব উদাহরণে পরিণত হয়েছে।

আমাদের এলাকায় ব্রিজের নামে যা আছে, তাকে মরণফাঁদ বলাই ভালো। আমির আলী, জমসেদ ও আলী হোসেনের মতো মুরুব্বিরা জানান, তারা জন্মের পর থেকে এই ব্রিজটিকে এই অবস্থায় দেখছেন। এর দুই পাশে কোনো সংযোগ সড়ক নেই, নেই কোনো মাটি। খুব কষ্ট করে আমাদের এই ব্রিজে উঠে যাতায়াত করতে হয়।

সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, কোনো মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার কোনো পথ থাকে না। বাধ্য হয়ে কাঁধে তুলে এই ভাঙা ব্রিজ পার হতে হয়। দীর্ঘ সময় পার হলেও আমাদের এই কষ্ট দেখার যেন কেউ নেই! সরকারের নিকট আমাদের বিনীত অনুরোধ, এই জরাজীর্ণ ব্রিজটি সংস্কার করে দ্রুত যাতায়াতের উপযোগী করে দেওয়া হোক। আমাদের এলাকার কষ্টের কথাগুলো দয়া করে ছড়িয়ে দিন যেন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়।

তবে আশার কথা শুনিয়েছেন কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাঈফুল আজম। তিনি জানান, ব্রীজটির বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হয়েছে এবং দুপাশে মাটি না থাকায় এটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে আছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংযোগ সড়ক নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর