মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
“আজকের বাংলা” ক্যা/ন্সার হাস/পাতালের উপ-পরিচালক আহমেদ হোসেনকে কু/পিয়ে জ/খম করেছে দু/র্বৃত্তরা মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জ সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী কমলগঞ্জে ‘ব্রীজ আছে, রাস্তা নেই’ এসএসসি পরীক্ষা শুরু মঙ্গলবার, পরীক্ষার্থীদের মানতে হবে যেসব নির্দেশনা সংসদে শমশেরনগর বিমানবন্দর নিয়ে জোরালো বক্তব্য: এম নাসির রহমান ও হাজী মুজিবকে কমলগঞ্জবাসীর অভিনন্দন “চু রি র অপবাদে বাঁ/ধা হাত-পায়ে নি/র্মম নি/র্যা/তন: কমলগঞ্জে ভাই/রাল ভিডিও ঘিরে ক্ষো/ভ” এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে জনসাধারণের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা কমলগঞ্জে প্রাথমিক শিক্ষার বেহাল দশা: নজরদারির ঘাটতি, সমন্বয়হীনতা ও অনিয়মে ক্ষুব্ধ শিক্ষকসমাজ মৌলভীবাজারে ডা/কাত সর্দার রুবেলসহ গ্রেফ/তার ৩, অ/স্ত্র উ/দ্ধার

কমলগঞ্জে ‘ব্রীজ আছে, রাস্তা নেই’

সালাহউদ্দিন শুভ / ৬৪ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের কান্দিগাঁও এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি ব্রীজ—যা হতে পারত উন্নয়ন ও সম্ভাবনার প্রতীক—আজ হয়ে উঠেছে অব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনাহীনতার এক নীরব সাক্ষী। নির্মাণের প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেলেও ব্রীজটি আজও ব্যবহারহীন, কারণ এর সঙ্গে নেই কোনো সংযোগ সড়ক।

প্রায় ২৯ বছর আগে একটি ছোট ছড়ার ওপর নির্মিত এই ব্রীজটি স্থানীয় মানুষের স্বপ্ন জাগিয়েছিল। আশা ছিল, এটি চালু হলে আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াত সহজ হবে, কমবে সময় ও দূরত্ব। কিন্তু বাস্তবতা সেই স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করেছে। ব্রীজের দুই পাশে মাটি ভরাট ও সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় এটি আজও কার্যত অচল।

সড়জমিনে দেখা যায়, ব্রীজে উঠতে হলে স্থানীয়দের ভরসা করতে হয় অস্থায়ী ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবস্থার ওপর—কখনও বাঁশের সাঁকো, কখনও উঁচু কোনো কাঠামো। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হয় তাদের। ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচল হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ।

এই ব্রীজটি ব্যবহারযোগ্য হলে অন্তত চারটি ইউনিয়নের ৮ থেকে ১০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হতেন। শিক্ষা, চিকিৎসা ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত সহজ হতো। বর্তমানে বাধ্য হয়ে মানুষকে তিন থেকে চার কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প পথে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যা সময় ও শ্রম দুটোই বাড়িয়ে দিচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এই ব্রীজটি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। ফলে এটি এখন উন্নয়নের প্রতীক না হয়ে অপচয়ের এক বাস্তব উদাহরণে পরিণত হয়েছে।

আমাদের এলাকায় ব্রিজের নামে যা আছে, তাকে মরণফাঁদ বলাই ভালো। আমির আলী, জমসেদ ও আলী হোসেনের মতো মুরুব্বিরা জানান, তারা জন্মের পর থেকে এই ব্রিজটিকে এই অবস্থায় দেখছেন। এর দুই পাশে কোনো সংযোগ সড়ক নেই, নেই কোনো মাটি। খুব কষ্ট করে আমাদের এই ব্রিজে উঠে যাতায়াত করতে হয়।

সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, কোনো মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার কোনো পথ থাকে না। বাধ্য হয়ে কাঁধে তুলে এই ভাঙা ব্রিজ পার হতে হয়। দীর্ঘ সময় পার হলেও আমাদের এই কষ্ট দেখার যেন কেউ নেই! সরকারের নিকট আমাদের বিনীত অনুরোধ, এই জরাজীর্ণ ব্রিজটি সংস্কার করে দ্রুত যাতায়াতের উপযোগী করে দেওয়া হোক। আমাদের এলাকার কষ্টের কথাগুলো দয়া করে ছড়িয়ে দিন যেন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়।

তবে আশার কথা শুনিয়েছেন কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাঈফুল আজম। তিনি জানান, ব্রীজটির বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হয়েছে এবং দুপাশে মাটি না থাকায় এটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে আছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংযোগ সড়ক নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর