রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১০:৩৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
কুলাউড়ায় খাসিয়া পুঞ্জিতে সহস্রাধিক পানগাছ কেটে দিল দুর্বৃত্তরা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার;প্রেসবিটারিয়ানের বার্ষিক সভায় কমলগঞ্জে সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা: মোটরসাইকেল ও মালামাল ছিনতাই কমলগঞ্জে প্রবাসীর জমি দখলের চেষ্টা, অপপ্রচারের অভিযোগ জুমার দিনে দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত লাউয়াছড়ার সবুজে দৌড়—স্বাধীনতার ভোরে প্রাণের উচ্ছ্বাস মৌলভীবাজারে চোরচক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার, প্রাইভেটকার উদ্ধার মণিপুরী ললিতকলা একাডেমিতে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন শ্রীমঙ্গলে পাঁচ দিনব্যাপী বাসন্তী পূজা শুরু, মণ্ডপে মণ্ডপে উৎসবের আমেজ মৌলভীবাজারে গণহত্যা দিবসে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন

জেলা প্রশাসকের পরিচালনায় অবৈধ হাসপাতাল!

অনলাইন ডেস্ক / ৮৩ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

গত ৪৩ বছর ধরে চলছে চিকিৎসা সেবা। খ্যাতি কুড়িয়েছে খুলনা বিভাগের সব থেকে বড় শিশুদের চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে। সরকারি অনুদানও পায় অহরহ। এর পরিচালনা পর্ষদের প্রধান রয়েছেন খুলনা জেলা প্রশাসক। কিন্তু বিস্ময়ের বিষয় হলো, এই ‘খুলনা শিশু হাসপাতাল’-এর কোনো নিবন্ধন ও লাইসেন্সই নেই। বারবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে নোটিশ দিলেও, হাসপাতালটি পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্তরা বিষয়টি আমলে নিচ্ছেন না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগের পরিচালক ডা. মো. মনজুরুল মুরশিদ বলেন, ‘লাইসেন্স নেই এমন সব হাসপাতাল অবৈধ। খুলনা শিশু হাসপাতাল অনেক বড় একটি প্রতিষ্ঠান। তারা অবৈধভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে, এটা হয় না। বিভিন্ন সময়ে নিবন্ধন ও লাইসেন্স প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে শিশু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বললেও, তারা কর্ণপাত করেনি, যা খুবই দুঃখজনক।’

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১৯৮০ সালে শিশু ফাউন্ডেশনের একটি প্রকল্প হিসেবে খুলনা শিশু হাসপাতালের যাত্রা শুরু। স্থানীয় লোকহিতৈষী ব্যক্তিরা, প্রশাসন এবং চিকিৎসকদের যৌথ প্রচেষ্টায়, বর্তমানে খুলনা শিশু হাসপাতাল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শিশুদের চিকিৎসার আশ্রয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

অন্যান্য হাসপাতালের তুলনায় কম খরচে উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদানের ফলে খুলনা এবং খুলনার আশপাশের জেলাগুলোর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চিকিৎসার ভারও শিশু হাসপাতাল সফলভাবে বহন করছে। আর এই প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে এবং দরিদ্র রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিতে ২০১৯ সালে ১৫ কোটি টাকা ‘সিড মানি’ পায় প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে।

দক্ষিণাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠান কেন রাষ্ট্রের আইন মানছে না, এ প্রশ্নের জবাবে কর্তৃপক্ষের রয়েছে নানা অজুহাত।

খুলনা শিশু হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘এই হাসপাতালটির জমির মালিক ছিল সিটি করপোরেশন। সেই জমির জটিলতায় এতদিন আবেদন করা যায়নি। আর এর আগে যারা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তারাও বিষয়টি ওই ভাবে বোঝেন নাই। আর অনুমোদনের জন্য আবেদন করতে হয় ব্যক্তির নামে, সেখানে ব্যক্তির নামের টিন বা ভ্যাটের নিবন্ধনও দিতে হয়। যেসব জটিলতায় এতদিন আবেদন করা হয়নি।’

তবে শিগগিরই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন ও লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা হবে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে সিটি করপোরেশন লিখিতভাবে জমি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। বাকি কাগজপত্রও তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। আমরা দ্রুত আবেদন করব।’

বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা হবে বলে জানিয়েছেন শিশু হাসপাতালের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের প্রধান জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফীনও। তিনি বলেন, ‘দেখুন আমি এটা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি, এ ছাড়া নতুন এসেছি সব কিছু তো জানি না। তবে যেহেতু বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, তাই চেষ্টা করছি যত দ্রুত সম্ভব আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকারি অনুমোদন ও লাইন্সেন্স গ্রহণ করার।’

তবে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) খুলনা শাখার সভাপতি কুদরত-ই খুদা বলেন, ‘আইন সবার জন্য সমান। কোনো আইন করে বলে দেওয়া হয়নি, কিছু কিছু হাসপাতালের লাইসেন্স লাগবে না। লাইসেন্স নিলে ওই হাসপাতালগুলোর ওপর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিংয়ের এখতিয়ার তৈরি হয়। সরকারের যেসব স্বাস্থ্যবিষয়ক নিয়মকানুন আছে, সেগুলো যদি ওই হাসপাতাল মেনে না চলে তাহলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সেটা বাধ্য করবে। এসবের জন্য প্রথমে দায়ী হচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তারা শুধু নোটিশ করে সীমাবদ্ধ থাকছে।

খুলনার কেবল শিশু হাসপাতাল নয়- বড় পরিসরে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী আরও ৯টি অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের তালিকা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে নির্দেশনা চেয়েছে খুলনা স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর।

সেগুলো হলো, খুলনা শিশু হাসপাতালের ডায়াগনস্টিক সেন্টার, খুলনা ডায়াবেটিক হাসপাতাল, খুলনা ডায়াবেটিক হাপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক, খুলনা ডায়াবেটিক সমিতি, সূর্যের হাসি নেটওয়ার্ক-খালিশপুর, সূর্যের হাসি নেটওয়ার্ক-ইসলামপুর, সূর্যের হাসি নেটওয়ার্ক-দৌলতপুর, জাপান মেডিকেল সেন্টার এবং নিউ পথ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র।

এ ছাড়া শুধু অনলাইনে আবেদন করেই বছরের পর বছর ধরে ব্যবসা পরিচালনা করছে খুলনার ১৪টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এগুলো হলো, বয়রা সেন্ট্রাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বয়ো ল্যাব ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার, নূরজাহান ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার, কালিয়া ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, কালিয়া ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, পাল্প ডেন্টাল সেন্টার, স্বাস্থ্য সেবা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, স্বাস্থ্য সেবা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মাই মেডিকেল ল্যাব ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার, জেনারেল ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড রির্সোস সেন্টার, বেস্ট কেয়ার ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার-১, বেস্ট কেয়ার ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার-২, রহিমা ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার এবং শাবাব ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয় থেকে আরও জানা গেছে, খুলনা শহরে ২৭০টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার আছে। এদের মধ্যে ২০২৪ সাল পর্যন্ত লাইসেন্স নবায়ন করা হয়েছে ৯৮ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের। এ ছাড়া নবায়ন হয়নি এমন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার আছে ১৫৭টি। এর মধ্যে ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে ১০২টি এবং ক্লিনিক আছে ৫৫টি। অনেক প্রতিষ্ঠানের এক বছরের, কারও ২ বছরের কারও বা ৩ বছরের আবার কেউ ৪ বছরেও কোনো নবায়ন করেননি।

এ প্রসঙ্গে ডা. মো. মনজুরুল মুরশিদ বলেন, ‘লাইসেন্সবিহীন ও অবৈধ ক্লিনিক- ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছি। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর