শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
কমলগঞ্জে স্বেচ্ছাশ্রমে ঝোপঝাড় পরিষ্কার, ভিডিপি সদস্যদের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে প্রশংসা স্থানীয়দের মৌলভীবাজারে পার্কে উটপাখি ও এমুর ডিম দেশের চা শিল্পে নতুন মাইলফলক ন্যাশনাল টি কোম্পানির নবারুণ সংঘের পক্ষ থেকে এমপি মুজিবুর রহমান চৌধুরীকে সম্মাননা স্মারক প্রদান মার্শাল আর্ট ক্লাব কাপে ‘জুসা মার্শাল আর্ট’ এর সাফল্য, শ্রীমঙ্গলের আয়াত ও আইরাহ ঝুলিতে ৪ পদক লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের সিএমসি হিসাবরক্ষক আবজালুল হকের মৃত্যুতে,এলাকায় শোকের ছায়া ভোলাগঞ্জ স্থলবন্দরে এলসি আটকে হয়রানির অভিযোগ, বিএনপির সাবেক সভাপতির কমলগঞ্জে ডোবা থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির গলিত মরদেহ উদ্ধার লন্ডনে আদমপুর ইউনাইটেড কলেজ বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা সভা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সম্মেলনে বিশেষ সম্মাননা পেলেন ফারুক খাঁন, শ্রীমঙ্গলে সংবর্ধনা

১৭ বছরের কারাজীবন শেষে বাড়ি ফিরলেন প্রবীর সিংহ

সালাহউদ্দিন শুভ / ৩৯১ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : বুধবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৫

১৭ বছরের দীর্ঘ কারাজীবন শেষে অবশেষে বাবার কোলে ফিরলেন বিডিআর সদস্য পবীর সিংহ। ২৫ নভেম্বর, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় নারায়ণগঞ্জ কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। পরদিন ২৬ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর বালিগাঁও গ্রামের নিজ বাড়িতে পৌঁছান। লক্ষীন্দ্র সিংহ (ডাকনাম ‘ভাগ্য’)–এর একমাত্র ছেলে প্রবীর সিংহের ফিরে আসা যেন দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও বেদনার এক অধ্যায়ের সমাপ্তি।

বাড়ির উঠানে পা রাখতেই বাবাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন প্রবীর সিংহ। পাশে থাকা স্বজন ও প্রতিবেশীরাও আবেগ থামাতে পারেননি। মুহূর্তেই পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে কান্না, স্মৃতি আর ফিরে–পাওয়ার আনন্দে।

জানা যায়, চাকরির পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার সময় প্রবীর সিংহ তখন খাগড়াছড়ির রামগড় এলাকায় কর্মরত ছিলেন। ২০০৯ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ও ২৬ মার্চের স্কাউটিং কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য তাকে ঢাকায় আনা হয়। ঠিক ওই সময়ই ঘটে পিলখানার মর্মান্তিক বিডিআর বিদ্রোহ। সেই ঘটনার পরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং শুরু হয় তার দীর্ঘ ১৭ বছরের কারাজীবন।

মুক্তির পর গ্রামে প্রবেশ করতেই শত শত মানুষ ছুটে আসেন পবীর সিংহকে দেখতে। কেউ তাঁর হাত ধরে কাঁদছেন, কেউ নীরবে তাকিয়ে রয়েছেন হারানো সময়ের প্রতিচ্ছবি হয়ে। পুরো গ্রাম ভরে ওঠে আবেগ ও কান্নায়। কিন্তু মানুষের ভিড়ের মাঝেও পবীর সিংহ এর চোখে লুকানো থাকে অপূরণীয় বেদনার ছায়া।

প্রবীর সিংহের বাবা লক্ষীন্দ্র সিংহ আবেগঘন কণ্ঠে বলেন,‘১৭ বছর পর আমার ছেলে ঘরে ফিরেছে। এই দিনের জন্য কত অপেক্ষা করেছি—তা কাউকে বোঝাতে পারব না। ভগবানের কৃপায় অন্তত জীবিত অবস্থায় তাকে পেলাম। স্বজন ও গ্রামবাসীর চোখে–মুখে আজ শুধু একটাই অনুভূতি—দীর্ঘ কারাজীবন শেষে ঘরে ফেরা পবীর সিংহকে নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন বাঁচার প্রতীক্ষা। তিনি বলেন, এখন আমাদের একটাই চাওয়া—আর কোনো পরিবার যেন এমন অন্যায়ের শিকার না হয়।’

এদিকে বিডিআর সদস্য পবীর সিংহ সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘যাঁরা এখনো কারাগারে নিরপরাধ অবস্থায় আছেন, যাঁদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে, তাঁদের যেন দ্রুত মুক্তি দেওয়া হয়। তাঁদের জীবন যেন আমার মতো তিলে তিলে নষ্ট না হয়।’


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর