মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:০৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
কমলগঞ্জে নববিবাহিত স্ত্রীকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, থানায় মামলা-অভিযোগ বন্যাকবলিত কমলগঞ্জে রুহি ফাউন্ডেশনের ত্রাণ বিতরণ, ১০৫ পরিবারের পাশে লন্ডনপ্রবাসী ড. হাজ্বী শাহ্ আলম মৌলভীবাজারে যুক্তরাজ্য প্রবাসী কাইয়ুম মিয়াকে ধরতে পুলিশের অভিযান কমলগঞ্জ ভূমি অফিসের সামনে বেহাল সড়ক,কাদা-পানিতে নষ্ট হচ্ছে পথচারীদের কাপড় দেশীয় ফলের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে আম্বিয়া কেজি স্কুলের দিনব্যাপী আয়োজন প্রবীণ ব্যবসায়ী আলহাজ্ব এম আর খানের মৃত্যুতে শোক, ৭ জুলাই দোয়া ও মিলাদ মাহফিল নিখোঁজের ১৯ দিন পর স্বামীর বাড়ির উঠান থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্ততি ইসির: প্রথম ধাপে ইউপি ও পৌরসভা মৌলভীবাজারে সীমান্ত দিয়ে ১০ জনকে বিএসএফের পুশইন, রাতে বিজিবির পুশব্যাক চায়ের জনপদে কনটেন্ট নির্মাতাদের প্রথম স্বীকৃতি

কমলগঞ্জে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে গাছ পাচারের অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস ইউএনও’র

এম এ ওয়াহিদ রুলু,মৌলভীবাজারঃ / ৫৯ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান থেকে সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে মূল্যবান গাছ পাচারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে উদ্যানের বিভিন্ন এলাকা থেকে সেগুন, আগর, আকাশমনি, চামলসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ট্রাকযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হচ্ছে।

রবিবার (৭ জুন) সকালে মৌলভীবাজার থেকে আসা একদল সাংবাদিক লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের প্রধান ফটকের সামনের একটি মাটির রাস্তা ধরে প্রায় দুই কিলোমিটার গভীরে প্রবেশ করে বিভিন্ন প্রজাতির অন্তত ১৫-১৬টি গাছের কাটা গোড়া দেখতে পান। এছাড়া গভীর জঙ্গলে ঝড়ে উপড়ে পড়া প্রায় শতবর্ষী দুটি বড় সেগুন গাছও তাদের নজরে আসে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যথাযথ নজরদারি না থাকলে এসব গাছও কাঠচোর চক্রের হাতে চলে যেতে পারে।

এ বিষয়ে লাউয়াছড়া বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. নাজমুল হক বলেন, “আমাদের প্রতিদিন টহল জোরদার রয়েছে। কাঠ পাচারের কোনো সুযোগ নেই। কোথাও গাছ কাটার সংবাদ পেলে তাৎক্ষণিক তদন্ত করা হয়। প্রতি মাসেই ৪-৫টি মামলা দায়ের করা হয়। ঝড়ে পড়ে থাকা গাছগুলো গভীর জঙ্গলে অবস্থান করায় সেগুলো রেঞ্জ অফিসে আনার কোনো বাস্তবসম্মত পরিবহন ব্যবস্থা নেই।”

রাজকান্দি রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) প্রীতম বড়ুয়া বলেন, “রাজকান্দি রেঞ্জের আওতাধীন বনাঞ্চল অত্যন্ত বিস্তৃত। তুলনামূলকভাবে লোকবল ও লজিস্টিক সাপোর্ট অনেক কম। তারপরও আমরা কাঠ ও বাঁশ চোরদের বিরুদ্ধে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছি। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং প্রতি মাসে ৫-৬টি মামলা করা হয়।”

অভিযোগের বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “লাউয়াছড়া বনাঞ্চলের গাছ কাটা কোনো অবস্থাতেই বরদাশত করা হবে না। যেখানে গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে, সেখানে বন বিভাগকে সঙ্গে নিয়ে সরেজমিন তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

পরিবেশবাদীদের মতে, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষিত বনাঞ্চল। এখানে নির্বিচারে গাছ কাটা অব্যাহত থাকলে বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং পর্যটন খাত মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। তাই বন রক্ষায় আরও কার্যকর নজরদারি ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর