মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষার সার্বিক মান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত তদারকির অভাব, প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা এবং নানা অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয় শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। শিক্ষকদের দাবি, এসব সমস্যার কেন্দ্রে রয়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার ১৫২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদানের মান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে—বিদ্যালয় পরিদর্শনে অনিয়ম, শিক্ষকদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগের অভাব এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে স্বেচ্ছাচারিতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বর্তমান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুর রহিম বাবর অতীতেও দায়িত্ব পালনকালে নানা অনিয়মের অভিযোগে সমালোচিত হন। ২০২২ সালে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় কর্মরত অবস্থায় বদলি সংক্রান্ত অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে তাকে শোকজ করা হয়। পরবর্তীতে তাকে নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ি উপজেলায় বদলির নির্দেশ দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। সরকার পরিবর্তনের পর পুনরায় তদবিরের মাধ্যমে তিনি কমলগঞ্জে যোগদান করেন—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কর্মকর্তা যোগদানের পর থেকেই সম্পর্কের অবনতি ঘটে। শিক্ষকরা জানান, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না, এমনকি ব্যক্তিগত প্রয়োজনেও বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন তারা। বিশেষ করে ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে স্বাক্ষর না পাওয়ায় অনেকেই আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
রূপালী ব্যাংকের কেরামতনগর শাখার ব্যবস্থাপক প্রমোদ সিন্হা জানান, অতীতে শিক্ষা কর্মকর্তারা নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষকদের ঋণ আবেদনপত্রে স্বাক্ষর দিতেন। কিন্তু বর্তমান কর্মকর্তা যোগদানের পর থেকে এ প্রক্রিয়া কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে নতুন ঋণ গ্রহণে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, চলতি বছরের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নিয়েও উঠেছে অনিয়মের অভিযোগ। গত ১৫ এপ্রিল শুরু হওয়া পরীক্ষায় ১,১৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নেয় ৮৬৫ জন। অনুপস্থিত থাকে ৩৩৩ জন শিক্ষার্থী। স্থানীয়দের মতে, শিক্ষা অফিসের সমন্বয়হীনতা ও প্রস্তুতির ঘাটতিই এত বিপুল অনুপস্থিতির কারণ।
পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে দেখা যায়, নিয়ম উপেক্ষা করে একই বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একই কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা নীতিমালার পরিপন্থী বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে এক শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে সরানো হলেও অন্য কেন্দ্রে একই ধরনের দায়িত্ব বণ্টনের ঘটনা লক্ষ্য করা যায়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুর রহিম বাবর। তার দাবি, পরীক্ষায় কোনো অনিয়ম হয়নি এবং অভিযোগগুলো অতিরঞ্জিত। ব্যাংক ঋণের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী তিনি শুধু জিপি ফান্ডের ঋণে স্বাক্ষর করেন, অন্যান্য ঋণের ক্ষেত্রে তার স্বাক্ষরের বাধ্যবাধকতা নেই।