শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
কমলগঞ্জে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক মো. ফরিদ মিয়া কমলগঞ্জে ব্র্যাক-ভিশনস্প্রিংয়ের উদ্যোগে দিনব্যাপী মেডিকেল ক্যাম্প কমলগঞ্জে থানা-পুলিশ ও স্থানীয় মুরব্বিদের উদ্যোগে দীর্ঘদিনের জমি বিরোধের মীমাংসা কমলগঞ্জ পৌর নির্বাচনে ৫ নম্বর ওয়ার্ডে আলোচনায় তরুণ প্রার্থী রাসেল আহমদ কমলগঞ্জে গভীর রাতে রাইস মিলসহ তিন দোকানে হামলা-ভাঙচুর, লুটপাটের অভিযোগ ভিডিপি সদস্য আশরাফুল আলমের উদ্যোগে কমলগঞ্জের মুন্সিবাজারে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ভিডিপি সদস্য আশরাফুল আলমের উদ্যোগে কমলগঞ্জের মুন্সিবাজারে পরিচ্ছন্নতা অভিযান কমলগঞ্জে মামলা প্রত্যাহারে হুমকির অভিযোগ প্রবাসীর স্ত্রীর সিলেট বৈদেশিক ডাকঘরের সুপার তন্ময় দে চৌধুরীর বিরুদ্ধে আবারও অফিস কামাইয়ের অভিযোগ শমশেরনগরে অটোরিক্সা থেকে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে হামলা; আহত-১কমলগঞ্জ থানায় অভিযোগ

কমলগঞ্জে ৪২ বছর পর মনসা দেবীর ঐতিহ্যবাহী নৌকা পূজা, ভক্তদের ঢল

ডেস্ক রিপোর্ট / ১২৭ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের ধীতেশ্বর গ্রামে শুরু হয়েছে শ্রীশ্রী মনসা দেবীর ঐতিহ্যবাহী নৌকা পূজা। দীর্ঘ ৪২ বছর পর এ পূজা পুনরায় আয়োজনকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ, যা ভক্তদের ব্যাপক অংশগ্রহণে পরিণত হয়েছে এক প্রাণের মিলনমেলায়। গত ২২ মার্চ রাতের শুভ অধিবাসের মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।

সোমবার (২৩ মার্চ) মূল পূজার দিনে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি পূজা-অর্চনা, আরতি, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত হাজার হাজার ভক্তের উপস্থিতিতে পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকা মুখর হয়ে ওঠে।

এদিন বিকেলে পূজা পরিদর্শনে আসেন সিলেটে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার শ্রী অনিরুদ্ধ দাশ। পরে রাতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে পূজারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব)।

পূজাকে ঘিরে আয়োজন করা হয়েছে মহিষ বলি ও গ্রামীণ মেলা, যা দর্শনার্থীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে। আয়োজকরা জানান, কয়েক হাজার ভক্তের জন্য পর্যাপ্ত প্রসাদের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং আগত সবার মাঝে তা বিতরণ করা হচ্ছে।

হবিগঞ্জ আগত ভক্ত উত্তম কুমার পাল হিমেল বলেন, ‘নৌকা পূজা আমি জীবনে এই প্রথম দেখলাম। এর আগে কখনো দেখিনি। এখানে এসে খুব ভালো লেগেছে। হাজার হাজার ভক্ত দেখে মনটা আরও আনন্দে ভরে উঠেছে।’

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি শ্যামল চন্দ্র দাশ বলেন, ‘দীর্ঘ ৪২ বছর পর নৌকা পূজার এই আয়োজন আমাদের ঐতিহ্যকে নতুন করে জীবিত করেছে। এটি ধর্মীয় চেতনা ও সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

পূজা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনের দ্বিতীয় দিনে ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়েছে এবং শেষ দিন মঙ্গলবার বিভিন্ন ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে পূজার সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে।’

শ্রীশ্রী মনসা দেবীর নৌকা পূজা বাংলার প্রাচীন লোকজ ধর্মীয় সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সাপের দেবী হিসেবে পূজিত মনসা দেবীর কাছে ভক্তরা কল্যাণ, সুরক্ষা ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। নদীমাতৃক বাংলার জীবনযাত্রার সঙ্গে এই পূজার রয়েছে গভীর সম্পর্ক। নৌকার মাধ্যমে দেবীর আরাধনার মধ্য দিয়ে ভক্তরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা, ভালো ফসল এবং জীবনের নিরাপত্তা প্রার্থনা করেন।

ধর্মীয় এ আয়োজন কেবল পূজার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি গ্রামীণ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেছেন, সবার অংশগ্রহণে এবারের নৌকা পূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে।


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর