শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ০৮:০৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
কমলগঞ্জে মুঈদ আশিক চিশতীর আয়োজনে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত কুলাউড়ার হাওরাঞ্চলে সড়কের উদ্বোধন করলেন এমপি শওকতুল ইসলাম চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পুরণ হয়নি শোষণমুক্ত অর্থনীতির লক্ষ্যে ড. অপু আবুল হাসানের নতুন ‘৫-এস মডেল’ কমলগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে মাহে রমজানের তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল কমলগঞ্জে জেমস সমাজ কল্যাণ পরিষদে জার্সি বিতরণ করলেন মুঈদ আশিক চিশতী কমলগঞ্জে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ কমলগঞ্জ উপজেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের আংশিক কমিটি অনুমোদন পুলিশের গাড়িতে লিফট নিয়ে মামলার আসামী লিটন-জুনায়েদ, মুক্তির দাবি মৌলভীবাজারে আশ্রম পরিদর্শনে ভারতের সহকারী হাই-কমিশনার

শোষণমুক্ত অর্থনীতির লক্ষ্যে ড. অপু আবুল হাসানের নতুন ‘৫-এস মডেল’

ডেস্ক রিপোর্ট / ১৬ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬

আধুনিক বিশ্বের জটিল অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা এবং শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্য নিয়ে একটি নতুন ইসলামিক অর্থনৈতিক কাঠামো প্রস্তাব করেছেন অর্থনীতিবিদ ডক্টর অপু আবুল হাসান। নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ‘থ্রি জিরো’ মডেলের পর এবার আন্তর্জাতিক মানের ব্যতিক্রমধর্মী একটি মডেল হিসেবে তিনি উপস্থাপন করেছেন ‘৫-এস মডেল’।

ড. অপুর প্রস্তাবিত এই মডেলটি মূলত সাম্য, সমৃদ্ধি ও বরকতের সমন্বয়ে গঠিত। মডেলটি পাঁচটি প্রধান স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে—শুকুক, শারকাহ, শ্রম, সামান এবং সার্ভিস। এর মূল দর্শন হলো: পুঁজি আমানত, শ্রম ইবাদত এবং লাভের অংশীদারিত্ব।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মডেলটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতি, বিশেষ করে কমলগঞ্জের মতো অঞ্চলে দ্রুত স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন সম্ভব হতে পারে।

মডেলটির প্রথম স্তম্ভ ‘শুকুক’, যা পুঁজি সংগ্রহের প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সাধারণ মানুষের ক্ষুদ্র সঞ্চয়কে বিনিয়োগে রূপান্তর করা হয়, যার মুনাফা স্থানীয় জনগণের মধ্যেই বণ্টিত হয়।

দ্বিতীয় স্তম্ভ ‘শারকাহ’ বা অংশীদারিত্ব। এই ব্যবস্থায় জামানত ছাড়াই মেধাবী উদ্যোক্তাদের সঙ্গে যৌথ ব্যবসায়িক উদ্যোগ গড়ে তোলা হয়। এর ফলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং শূন্য বেকারত্ব অর্জনের পথ উন্মুক্ত হতে পারে।

তৃতীয় স্তম্ভ ‘শ্রম’ বা মুদারাবা পদ্ধতিতে যাদের পুঁজি নেই কিন্তু দক্ষতা আছে, তাদের শ্রমকে মূল সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

চতুর্থ স্তম্ভ ‘সামান’-এর মাধ্যমে নগদ ঋণের পরিবর্তে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল বা পণ্য সরবরাহ করা হয়, যা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

মডেলটির সর্বশেষ স্তম্ভ ‘সার্ভিস’। এর আওতায় ভারী যন্ত্রপাতি বা আধুনিক প্রযুক্তি লিজের মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়, যাতে তারা উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারেন।

প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে এই মডেলের একটি বড় পার্থক্য হলো এটি সম্পূর্ণ সম্পদভিত্তিক এবং মানবিক অর্থনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এখানে ঋণের দায়ে কাউকে নিঃস্ব হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে হয় না। ব্যবসায় লোকসান হলে ‘তাকাফুল’ বা সামাজিক নিরাপত্তা তহবিলের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের পুনরায় দাঁড়ানোর সুযোগ দেওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫-এস মডেল সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রাম একেকটি স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

ড. অপু আবুল হাসানের এই উদ্ভাবনী অর্থনৈতিক চিন্তা কেবল দারিদ্র্য বিমোচনেই সহায়ক হবে না; বরং এটি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়নের একটি নতুন মানদণ্ডও স্থাপন করতে পারে।


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর