শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
কমলগঞ্জে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক মো. ফরিদ মিয়া কমলগঞ্জে ব্র্যাক-ভিশনস্প্রিংয়ের উদ্যোগে দিনব্যাপী মেডিকেল ক্যাম্প কমলগঞ্জে থানা-পুলিশ ও স্থানীয় মুরব্বিদের উদ্যোগে দীর্ঘদিনের জমি বিরোধের মীমাংসা কমলগঞ্জ পৌর নির্বাচনে ৫ নম্বর ওয়ার্ডে আলোচনায় তরুণ প্রার্থী রাসেল আহমদ কমলগঞ্জে গভীর রাতে রাইস মিলসহ তিন দোকানে হামলা-ভাঙচুর, লুটপাটের অভিযোগ ভিডিপি সদস্য আশরাফুল আলমের উদ্যোগে কমলগঞ্জের মুন্সিবাজারে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ভিডিপি সদস্য আশরাফুল আলমের উদ্যোগে কমলগঞ্জের মুন্সিবাজারে পরিচ্ছন্নতা অভিযান কমলগঞ্জে মামলা প্রত্যাহারে হুমকির অভিযোগ প্রবাসীর স্ত্রীর সিলেট বৈদেশিক ডাকঘরের সুপার তন্ময় দে চৌধুরীর বিরুদ্ধে আবারও অফিস কামাইয়ের অভিযোগ শমশেরনগরে অটোরিক্সা থেকে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে হামলা; আহত-১কমলগঞ্জ থানায় অভিযোগ

পুলিশ পরিচয়ে টাকা দাবির অভিযোগে তোলপাড়

ডেস্ক রিপোর্ট / ৬১ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) তদন্তকে কেন্দ্র করে পুলিশ পরিচয়ে ‘খরচের টাকা’ দাবির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী দাবি করেছেন, দুই হাজার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করা হয়। এ ঘটনায় দুটি কল রেকর্ডও হাতে এসেছে, যেখানে পুলিশ পরিচয়ে কথা বলে টাকা দাবি করার বিষয়টি শোনা গেছে বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী মসুদ মিয়া জানান, ‘তার মামাতো ভাই জুয়েল মিয়া (২৭) গত ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে নিখোঁজ। এ ঘটনায় ফেব্রুয়ারিতেই শ্রীমঙ্গল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। জিডির তদন্তভার পান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সাইদুর রহমান খান।

মসুদ মিয়া জানান, ‘সোমবার ০১৩৪৪-২২৭৪৪৬ নম্বর থেকে তার মোবাইলে একটি কল আসে। কলদাতা নিজেকে শ্রীমঙ্গল থানা থেকে পরিচয় দিয়ে জানান, জিডির তদন্ত চলছে এবং নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধার করতে দুই হাজার টাকা ‘খরচ’ লাগবে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে অশালীন ভাষায় গালাগালি করে ফোন কেটে দেওয়া হয়।’

প্রাপ্ত অডিও রেকর্ডে শোনা যায়, ‘কলদাতা নিজেকে শ্রীমঙ্গল থানা থেকে বলছেন এবং নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারের জন্য দুই হাজার টাকা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করছেন। ভুক্তভোগী টাকা কেন প্রয়োজন জানতে চাইলে কলদাতা অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করেন।’

দ্বিতীয় কল রেকর্ডেও একই নম্বর থেকে ‘অনলাইন খরচ’ বাবদ দুই হাজার টাকা দাবি করা হয়। কথোপকথনের একপর্যায়ে কলদাতা বলেন, ‘মাগনা কাজ করবে মানুষ?—এমন বক্তব্য রেকর্ডে শোনা গেছে। এছাড়া হুমকি ও অশালীন ভাষার ব্যবহারও স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই মো. সাইদুর রহমান খান বলেন, ‘তিনি কাউকে কল করে টাকা দাবি বা গালাগালি করেননি। উল্লেখিত নম্বরটিও তার নয় বলে তিনি দাবি করেন।’

এদিকে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শ্রীমঙ্গল থানার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে একটি সতর্কতামূলক পোস্ট দেওয়া হয়। পোস্টে বলা হয়, ‘আলোচিত নম্বরটি থানার কোনো পুলিশ সদস্যের নয় এবং কেউ পুলিশের নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলার পর ওই পোস্ট সম্পাদনা করে স্ক্রিনশট সরিয়ে ভাষাগত পরিবর্তন আনা হয়।

পরবর্তীতে পোস্টে জানানো হয়, নম্বরটির ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

দৈনিক খোলা কাগজের মৌলভীবাজার জেলা স্টাফ রিপোর্টার মো. এহসানুল হক জানান, ‘ভুক্তভোগীর কাছ থেকে অভিযোগ ও কল রেকর্ড পাওয়ার পর তিনি নম্বরটি শনাক্তের চেষ্টা করেন। পুলিশ, ডিবি ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কাছে সহযোগিতা চাইলেও কেউ নম্বরটির পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি।’

পরে জনসচেতনতার উদ্দেশ্যে তিনি ফেসবুকে নম্বরটি প্রকাশ করে পরিচয় জানতে চান। তবে থানার পক্ষ থেকে তার পোস্টের স্ক্রিনশট দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে পাল্টা পোস্ট দেওয়ায় তিনি বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন বলে অভিযোগ করেন। যদিও পরবর্তীতে থানার পোস্টে সংশোধন আনা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘পুলিশ পরিচয়ে অর্থ দাবি বা প্রতারণার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত নম্বর ট্র্যাকিং, কল রেকর্ড বিশ্লেষণ এবং প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি। একই সঙ্গে প্রশাসনের দায়িত্ব সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা এবং গণমাধ্যমের দায়িত্ব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে জনসচেতনতা তৈরি করা।’


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর