মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণীকে অপহরণ করে আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। মামলার পর পুলিশ দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী তরুণী জেলার কুলাউড়া উপজেলার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি কমলগঞ্জ উপজেলার শমসেরনগর এলাকায় বসবাস করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৯ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে শমসেরনগর রেলস্টেশন-সংলগ্ন এলাকা থেকে পাঁচজন ব্যক্তি ওই তরুণীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তাঁর শাশুড়ি বাধা দিলে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া এবং ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ রয়েছে।
পরে তরুণীকে শমসেরনগর ইউনিয়নের দৌলতপুর মোকামবাজার রেলক্রসিংয়ের উত্তর-পশ্চিম পাশে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে তাঁকে আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন মামলার বাদী। এজাহার অনুযায়ী, ৯ আগস্ট রাত থেকে ১০ আগস্ট রাত পর্যন্ত ওই তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ১২ আগস্ট ভোরে কমলগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১)/৩০ ধারায় মামলা করা হয়।
মামলায় আসামিরা হলেন- শমসেরনগর ইউনিয়নের মরাজানের পাড় এলাকার বদরুল ইসলাম (৪০) ও দৌলতপুর এলাকার আব্দুল কাদির শেখ (৫৮)। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী তরুণী ১০ আগস্ট থেকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমর উদ্দিন বলেন, ‘মামলা দায়েরের পর এ ঘটনায় দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’