শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
বন্যাকবলিত কমলগঞ্জে রুহি ফাউন্ডেশনের ত্রাণ বিতরণ, ১০৫ পরিবারের পাশে লন্ডনপ্রবাসী ড. হাজ্বী শাহ্ আলম মৌলভীবাজারে যুক্তরাজ্য প্রবাসী কাইয়ুম মিয়াকে ধরতে পুলিশের অভিযান কমলগঞ্জ ভূমি অফিসের সামনে বেহাল সড়ক,কাদা-পানিতে নষ্ট হচ্ছে পথচারীদের কাপড় দেশীয় ফলের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে আম্বিয়া কেজি স্কুলের দিনব্যাপী আয়োজন প্রবীণ ব্যবসায়ী আলহাজ্ব এম আর খানের মৃত্যুতে শোক, ৭ জুলাই দোয়া ও মিলাদ মাহফিল নিখোঁজের ১৯ দিন পর স্বামীর বাড়ির উঠান থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্ততি ইসির: প্রথম ধাপে ইউপি ও পৌরসভা মৌলভীবাজারে সীমান্ত দিয়ে ১০ জনকে বিএসএফের পুশইন, রাতে বিজিবির পুশব্যাক চায়ের জনপদে কনটেন্ট নির্মাতাদের প্রথম স্বীকৃতি কমলগঞ্জে হৃদয় হত্যার প্রতিবাদে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

কমলগঞ্জে ঐতিহ্যের ছোঁয়ায় শুরু মণিপুরি ‘লাই হারাওবা’ উৎসব

কমলগঞ্জ( মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: / ৭১ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে প্রাচীন ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিক আবহে শুরু হয়েছে মণিপুরি মৈতৈ সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় ও লোকজ উৎসব ‘লাই হারাওবা’। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টায় উপজেলার আদমপুরের তেতইগাঁও গ্রামে অবস্থিত মণিপুরি কালচারাল কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়।

উৎসবের সূচনালগ্নে অংশগ্রহণকারী ভক্ত ও কলাকুশলীরা ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রায় অংশ নেন। পরে কালচারাল কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে বাঁশি, ঢাক-ঢোল ও পেনার সুরে। নিজস্ব ভাষায় সঙ্গীত পরিবেশন এবং মন্ত্রপাঠ উৎসবকে এনে দেয় এক অনন্য আধ্যাত্মিক মাত্রা। সন্ধ্যায় নারী-পুরুষ ও কিশোর-কিশোরীদের অংশগ্রহণে বাদ্যযন্ত্রের তালে পরিবেশিত নৃত্য ও সঙ্গীত দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।

৮ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত চলা এই উৎসবকে ঘিরে পুরো আদমপুর এলাকায় বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান শিল্পী, গবেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের অংশগ্রহণে উৎসবটি পেয়েছে আন্তর্জাতিক মাত্রা। বিশেষ করে ভারতের মণিপুর থেকে আগত শিল্পী ও গবেষকদের উপস্থিতি আয়োজনকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

লাই হারাওবা স্টিয়ারিং কমিটি, বাংলাদেশের সদস্য সচিব ওইমান লানথই এবং আহ্বায়ক ইবুংহাল সিনহা (শ্যামল) জানান, ‘লাই হারাওবা’ মণিপুরি জনগোষ্ঠীর প্রাচীনতম ও গুরুত্বপূর্ণ উৎসবগুলোর একটি। এর আক্ষরিক অর্থ ‘দেবতাদের আনন্দ উৎসব’। সৃষ্টি, বিশ্বতত্ত্ব, দিব্য সত্তা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির গভীর তাৎপর্য উৎসবের প্রতিটি আচার-অনুষ্ঠানে প্রতিফলিত হয়।

ঐতিহ্যবাহী মন্ত্রপাঠ (লাইপৌ), সঙ্গীত এবং ‘মাইবী জাগোই’-সহ বিভিন্ন নৃত্যশৈলীর মাধ্যমে মূলত সনামহী ধর্মাবলম্বীরা দেবতাদের আরাধনা ও সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এই উৎসব উদযাপন করে থাকেন।

আয়োজকদের মতে, এটি কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; বরং মণিপুরি সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক পরিচয়ের প্রাণকেন্দ্র, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ধারাবাহিকভাবে সংরক্ষিত হয়ে আসছে।

স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য রবি কিরণ সিনহা (রাজেশ) জানান, ইউনেস্কো বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের অর্থায়নে এবারের উৎসব আয়োজন করা হয়েছে। এটি ‘বাংলাদেশের আটটি প্রশাসনিক বিভাগে সম্প্রদায়ভিত্তিক ঐতিহ্যবাহী উৎসব বাস্তবায়ন’ প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে।

আয়োজকরা জানান, চিরাচরিত রীতি-নীতি অনুসরণ করে উৎসবটি উদযাপিত হচ্ছে এবং আগামী শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে এর সমাপ্তি ঘটবে। এ আয়োজন নতুন প্রজন্মের কাছে মণিপুরি ঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে আরও সমৃদ্ধ করছে।


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর