সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:০২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিলেন চেয়ারম্যান আবদাল সাংবাদিকদের জন্য বিএনপির একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি সিলেটে চারদিন সবধরণের সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ব্রিটিশ নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণে সতর্কতা ভারতীয় ভিসার জন্য নতুন নিয়ম চালু মৌলভীবাজারে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে মতবিনিময় সভা চা শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে মো. মহসিন মিয়া মধুর অঙ্গীকার মৌলভীবাজারে কিশোর গ্যাং তো দূরে থাক, কোনো গ্যাংই থাকবে না— নাসের রহমান ভূমির অধিকার থেকে পরিবেশ—চা বাগানে প্রীতম দাশের প্রতিশ্রুতির রাজনীতি শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় বঙ্গভবনের প্রোগ্রামার আটক

দেশে নতুন জালেমের আবির্ভাব ঘটেছে: তারেক রহমান

ডেস্ক রিপোর্ট / ৫৪ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

গুপ্ত সংগঠনের ব্যক্তিরা বাংলাদেশের মানুষের কাছে নতুন জালেম রূপে আবির্ভূত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বরিশালের ঐতিহাসিক বেলস পার্কে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ মন্তব্য করেন তারেক রহমান।

সমাবেশে তারেক বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল—জনগণ যাদের গুপ্ত পরিচয়ে চেনেন, এই গুপ্ত সংগঠনের ব্যক্তিরা নতুন জালেম রূপে আবির্ভূত হয়েছে বাংলাদেশের মানুষের কাছে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আবহমান কাল ধরে, শত হাজার বছর ধরে, নারী-পুরুষ সকলে মিলে মাঠে কাজ করেন। কৃষকের সাথে কৃষানি বোনরাও মাঠে কাজ করেন। কলকারখানায় পুরুষের পাশাপাশি মা-বোন, নারীরা কাজ করেন। যে গার্মেন্টস শিল্প নিয়ে সারা পৃথিবীতে আমরা গৌরববোধ করি, সেই গার্মেন্টস শিল্প টিকিয়ে রেখেছে এ দেশের নারী সমাজ, মা-বোনেরা।’

তিনি আরও বলেন, ‘অত্যন্ত কষ্টের সাথে দেখছি, এই নতুন গুপ্ত জালেমদের নেতা, দুইদিন আগে প্রকাশ্যে বাংলাদেশের নারীদের নিয়ে অত্যন্ত কলঙ্কজনিত শব্দ ব্যবহার করেছেন।’

‘যে ব্যক্তি বা দলের নিজ দেশের মা-বোনদের প্রতি বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা নেই, যে দলের নেতা-কর্মীদের কষ্টের প্রতি বিন্দুমাত্র সম্মান নেই, তাদের কাছে আর যাই হোক বাংলাদেশ অগ্রগতি আশা করতে পারে না। তাদের কাছে বাংলাদেশের মানুষ আত্মসম্মানসূচক আচরণ আশা করতে পারে না। তাদের কাছে মানুষের মর্যাদা নেই’, আরও বলেন তিনি।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘নারীদের ঘরে বন্দি করে রেখে কোনোভাবে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব—এটা আমরা কখনোই মনে করি না।’

তিনি বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় খবর দেখতে পাচ্ছি, যারা নতুন জালিম হিসেবে আর্বিভূত হয়েছে, যাদেরকে বাংলাদেশের মানুষ গুপ্ত হিসেবে চেনে তাদের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় ভুয়া সিল ছাপাচ্ছে। আমরা শুনতে পাচ্ছি, তাদের পরিচিত সেসব প্রেস আছে সেখানে তারা ব্যালট পেপার ছাপাচ্ছে, যেটি তারা পকেটে করে নিয়ে যাবে। শুধু তাই নয়, আমার দেখেছি, তারা বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে নিরীহ মা-বোনদের কাছ থেকে এনআইডি নাম্বার নিচ্ছে, বিকাশ নাম্বার নিচ্ছে।’

‘এই গুপ্তের দল, এই জালেমের দল বলছে, তারা নাকি সৎ মানুষের শাসন কায়েম করবে। আরে ভাই, আপনারা তো নির্বাচনের আগে জাল ব্যালট ছাপাচ্ছেন, নির্বাচনের আগেই তো আপনাদের লোকজন মা-বোনদের এনআইডি নাম্বার নিয়ে যাচ্ছে, বিকাশ নাম্বার নিয়ে যাচ্ছে। প্রথমই তো আপনারা অনৈতিক কাজ দিয়ে শুরু করছেন, অনৈতিক কাজ দিয়েই তো মানুষের ভোটকে প্রভাবিত করতে চাচ্ছেন। যাদের ভোটের শুরুটা অনৈতিক, তারা কি সৎ মানুষের শাসন দিতে পারে? পারে না’, যোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘মা-বোনদের অপমান করার পরে তারা বলে, তারা এ কাজ করেনি। তারা বলছে, তাদের আইডি নাকি হ্যাক হয়েছিল। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাদের আইডি হ্যাক হয়নি। যখন তারা ধরা পড়েছে, তখন তারা বিভিন্ন রকম মিথ্যা কথা বলা শুরু করেছে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন তিনি বাংলাদেশের নারীদের শিক্ষা ব্যবস্থা ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করে দিয়েছিলেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজ সময় এসেছে আমাদের দেশ গড়ার। দেশ গড়তে হলে প্রতিটি নারী-পুরুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।’

দুপুর ১২টায় ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে বরিশালে পৌঁছান তারেক রহমান। ছবি: বিএনপি মিডিয়া সেল
২০০৬ সালের মে মাসের পর এই প্রথম বরিশালে এলেন তারেক রহমান। সে সময় তিনি দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে এই অঞ্চল সফর করেছিলেন।

দুপুর ১২টায় ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে বরিশালে পৌঁছান তারেক রহমান। সংক্ষিপ্ত সংবর্ধনা শেষে তিনি সরাসরি সমাবেশস্থলে যান। সেখানে ভোর থেকেই মানুষের ঢল নেমেছিল, যা এক পর্যায়ে জনসমুদ্রে রূপ নেয়।

দলীয় প্রধান মঞ্চে উপস্থিত হওয়ার পর হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থকের স্লোগানে ও করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

দীর্ঘ বিরতির পর তার এই সফরকে ঘিরে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রস্তুতি দেখা গেছে।

স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মতে, উপস্থিতির দিক থেকে এই সমাবেশ একটি ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে বরিশাল শহরে এত বড় সমাবেশ আর দেখা যায়নি।

বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন শিকদার গতকাল (৩ ফেব্রুয়ারি) বলেন, এই সমাবেশের জন্য দল নজিরবিহীন প্রস্তুতি নিয়েছে। তিনি জানান, বিশাল জনসমাগমের সঠিক সংখ্যা নিরূপণে প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

জ্যেষ্ঠ নেতাদের বড় অংশ এবং সমর্থকদের ঢল সামলাতে বেলস পার্কের স্থায়ী মঞ্চের সঙ্গে অতিরিক্ত কাঠের কাঠামো যুক্ত করে মঞ্চ সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

ব্যাপক প্রত্যাশা

দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কাছে এই সমাবেশটি আবেগ ও রাজনৈতিক—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চলের উন্নয়ন নিয়ে তাদের প্রত্যাশাও দীর্ঘদিনের।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও বরিশালের প্রবীণ নেতা অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার বরিশাল বিভাগে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, ‘তাদের উত্তরসূরি হিসেবে তারেক রহমানের নেতৃত্ব স্থানীয় নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করেছে। দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন নিয়ে তার কাছে তাদের অনেক প্রত্যাশা রয়েছে।’

সরোয়ার আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, তিনি প্রধানমন্ত্রী হলে দক্ষিণাঞ্চলে আমূল পরিবর্তন আসবে।’

বিশাল আয়োজন হলেও সফরটি সংক্ষিপ্ত হবে বলে জানিয়েছেন দলীয় নেতারা। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার পর, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে দুপুর ১টার দিকে তারেক রহমানের ফরিদপুরের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে।


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর