সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিলেন চেয়ারম্যান আবদাল সাংবাদিকদের জন্য বিএনপির একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি সিলেটে চারদিন সবধরণের সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ব্রিটিশ নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণে সতর্কতা ভারতীয় ভিসার জন্য নতুন নিয়ম চালু মৌলভীবাজারে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে মতবিনিময় সভা চা শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে মো. মহসিন মিয়া মধুর অঙ্গীকার মৌলভীবাজারে কিশোর গ্যাং তো দূরে থাক, কোনো গ্যাংই থাকবে না— নাসের রহমান ভূমির অধিকার থেকে পরিবেশ—চা বাগানে প্রীতম দাশের প্রতিশ্রুতির রাজনীতি শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় বঙ্গভবনের প্রোগ্রামার আটক

প্রাচীন বাংলার রাজধানী গৌড়ে একদিন

এম এ মাসুদ / ১২০ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৫

ভোর ৫ টা বাজতে তখনো এক ঘন্টা বাকি। কম্বল ছেড়ে উঠে হাত-মুখ ধুয়ে ফ্রেস হলাম। স্কুলের শিক্ষা সফর নাটোর থেকে ফিরে রাত একটার দিকে ঘুমিয়েছে ছোট ছেলে নিরব। ভাবলাম ঘুম থেকে জাগাবো না তাকে। কিন্তু দেশের ইতিহাস ঐতিহ্যের প্রতি টান থাকায় ডাকলাম ওকে। বললাম, প্রাচীন বাংলার রাজধানী গৌড়ের কথা। সেখানে যাচ্ছি আমি। তুমি কি যাবে? প্রাচীন বাংলার রাজধানীর নাম শুনে যাব বলে উঠে পড়ল সে। নাস্তা রেডি থাকায় তা খেয়ে ছেলেকে নিয়ে হাঁটতে থাকলাম বাসস্ট্যান্ডের দিকে।

ঘড়ির কাটায় ৫টা বাজতেই বাস ছুটে চলল রাজশাহী অভিমুখে। বগুড়ার পরে কোনো এক ফাঁকা জায়গায় দিল যাত্রা বিরতি। নেমে পড়লাম চা খেতে। সকাল দশটায় পৌঁছলাম রাজশাহীতে। উঠে পড়লাম রিকশায়। ভাড়া চুকিয়ে দিয়ে এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জে যাওয়ার পালা। শুরু হলো আমাদের নিয়ে টানাটানি। বুঝলাম ভেজাল আছে। না করে দিলাম দুটো বাসকেই। পরে জানলাম এদের একটি ছিল লোকাল এবং অন্যটি মেইল। টিকেট কেটে বাসে ওঠার পর তা নামিয়ে দিল আমাদের দেড় ঘন্টার মাথায়। ভাবলাম, দিন ছোট হওয়ায় সূর্যের আলো কমে আসবে শীগগির। তাই হোটেলেই কাটিয়ে দিলাম দিনের বাকি অংশ এবং রাতটা।

পরদিন সকালের নাস্তা সেরে আমরা রওয়ানা হলাম সিএনজিতে। ৩৬ কিলোমিটার পথের যাত্রায় মহানন্দা সেতুর পর যতদূর চোখ যায় রাস্তার দু’ধারে শুধু বাগান আর বাগান। অনুমান হলো এটাই ‘আমের রাজ্য।’
নিরবকে বললাম, জুমার নামাজ আদায় করবো ‘সোনা মসজিদে।’ মসজিদের নাম শুনেই তা জানার জন্য বেশ কৌতুহলী হয়ে ওঠল সে। সোনা মসজিদের ফটকে পৌঁছা মাত্র আমাকে ছেড়ে সিএনজি থেকে দ্রুত নেমে গেল। তুলতে থাকলো একের পর এক ছবি। মনে হলো ইতিহাসের স্বাক্ষী এ রাজ্যে এসে বড্ড খুশি।

বললাম, অষ্টম-দ্বাদশ শতাব্দীতে পাল বংশের রাজত্ব থেকে প্রাচীন বাংলার রাজধানী ছিল এই গৌড়। ১১৯৮ খ্রিস্টাব্দে মুসলিম শাসকরা গৌড় অধিকারের পর প্রায় দেড়শ বছর বাংলার রাজধানী ছিল এটি। পরে ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দের দিকে বাংলার রাজধানী বছর তিনেকের জন্য পাণ্ডুয়ায় স্থানান্তরিত হলেও ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দে আবার ফিরে আসে গৌড়ে।

এবার এই মসজিদ সম্পর্কে জানতে চাইল নিরব। বললাম, ‘সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের আমলে (১৪৯৩-১৫১৯) নির্মিত এটি। কী চমৎকার পাথর দ্বারা অলংকৃত এর দেওয়াল! পুরুত্ব কত বেশি! পাতলা ইট ও চুন সুরকি দিয়ে তৈরি। মেহরাবগুলোতে দেখ, কত চমৎকার কারুকার্য শোভিত পাথর! ওই যে মসজিদের উত্তর-পশ্চিম কোণে একটি উঁচু স্তম্ভ দেখছ, এর নাম ‘বাদশা-কা-তখ্ত।’ ওই খানে নামাজ পড়তেন সুলতান বা উচ্চপদের ব্যক্তিরা। কথা টেনে নিয়ে মুয়াজ্জিন বললেন, ‘আমরা বাপ-দাদাদের মুখে শুনেছি, সুলতানী আমলে ওই তখ্তে বসে বিচারকার্য সম্পন্ন করতেন কাজীরা।’

পরে মসজিদের ইমাম সাহেব মওলানা মোহাম্মদ হিজবুল্লাহর নিকট আমরা জানতে চাইলাম। তিনি বললেন, ‘একসময় এ সব গম্বুজ এবং প্রধান মেহরাবের সোনার আস্তরণ রোদে সোনার মতো জ্বলজ্বল করত বলে এর নাম সোনা মসজিদ। ১৮৯৭ সালের প্রলঙ্করী ভূমিকম্পে আশপাশের সবকিছু বিলীন হলেও আল্লাহর রহমতে টিকে ছিল মসজিদটি।’

নিরবকে বললাম, মসজিদের চারকোণায় অষ্টকোণাকৃতির যে চারটি টারেট আছে এগুলোকে মিনার এবং ছাদের ওপরে ১৫টিকে গম্বুজ বলে। এর মধ্যে তিনটি চৌচালা এবং বারোটি অর্ধগোল।

মসজিদের বাইরের দেয়ালগুলোর দিকে তাকিয়ে দেখ, পাথরের ওপর কত সুন্দর লতাপাতা, ফুল, ঝুলন্ত শিকল ও ঘণ্টা। দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের সমাধি। এটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় ‘মুক্তিযুদ্ধের বীরত্ব গাঁথা।’

এবার প্রধান ফটকের বাইরে, দুটো দোতলা কবরের পাশাপাশি কালোপাথরে মোড়ানো কবরগুলো দেখিয়ে নিরব জানতে চাইল, ‘ বাবা, এমন কবর তো কখনো দেখিনি। এগুলো কার কবর?’ বললাম, ‘কবরগুলো কাদের তা জানা তা কেউ জানেন না।’

এবার বাকি সব স্থাপত্য কীর্তি দেখতে আমরা ৩শ টাকায় ভ্যান ভাড়া নিলাম। যেতে যেতে নিরবকে বললাম, ‘স্থাপত্যকলা ও শৈল্পিক সৌন্দর্যের জন্য এই মসজিদটি গৌড়ের রত্ন হিসেবে পরিচিত এবং প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের একটি সংরক্ষিত পুরাকীর্তি।’

এদিকে, খিদেয় তো পেট চোঁ চো করছে। নিবরকে বললাম, ‘ভাত খেতে হবে।’ ও বলল, ‘ বাবা, ভাত খেতে সময় লাগবে। অন্ধকার নেমে আসার আগেভাগে আমরা সব দেখা শেষ করবো।’ কী আর করার! ছেলের কথায় সায় দিয়ে ভ্যানচালকসহ হালকা নাস্তা সেরে নিলাম আমরা।

রওয়ানা দিলাম ‘দারসবাড়ি মসজিদ ও মাদ্রাসা’র দিকে। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের কাছাকাছি দখল দরওয়াজা থেকে মেঠোপথে যাওয়ার পর চোখে পড়লো সুবিশাল আমবাগান। ডানে বাঁক নিয়ে বাগানের মধ্য দিয়ে একটু এগুলে এই ঐতিহাসিক ‘দারসবাড়ি মসজিদ।’ নিরবের সেলফি তোলার ফাঁকে পড়ে নিলাম এর বিভিন্ন তথ্য।

‘দরস’ শব্দের অর্থ সবক বা পাঠ। কিন্তু কালক্রমে সেই ‘দরস’ শব্দটি তাদের নিকট ‘দারাসবাড়ি’ বা ‘দারসবাড়ি’ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে। ঐতিহাসিক অনুসন্ধানের সময় মুনশী এলাহী বখশ কর্তৃক আবিষ্কৃত আরবী শিলালিপি অনুযায়ী ১৪৭৯ খ্রিস্টাব্দে (হিজরী ৮৮৪) সুলতান শামস উদ্দীন ইউসুফ শাহের রাজত্বকালে তাঁর আদেশেই এই মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়। ইট নির্মিত বিশাল এই মসজিদের পূর্ব পাশে চওড়া বারান্দার খিলানে সাতটি প্রস্তর স্তম্ভের ওপর ছয়টি গম্বুজ ছিল ছোট এবং মাঝেরটি বড়। ভেতরে গম্বুজ ছিল নয়টি, যার চিহ্ন রয়েছে এখনো। বড় মেহরাবের দুই পাশে মেহরাব রয়েছে আরো তিনটি করে। এর কারুকাজের ওপর হাত বুলিয়ে নিরবকে বললাম, ‘দেখ, কত চমৎকার!’

উত্তর ও দক্ষিণে থাকা জানালার কথা বলতেই ও বলল, ‘বাবা, আমি জানালায় উঠবো। তুমি কি আমাকে একটু সাহায্য করবে?’ ঠেলে উঠিয়ে দিলাম ওকে। সে কী খুশি তার! বলল, ‘বাবা, এবার ছবি তোল আমার।’

এরপর বললাম,’ওই যে উত্তর-পশ্চিম কোণে পাথরের স্তম্ভটা দেখছ, সম্ভবত সেখানে মহিলারা নামাজ পড়তেন।’
মসজিদ দেখা শেষে নিরবকে বললাম,’চল এবার আমরা দেশের সবচেয়ে প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় দেখতে যাব।’ এমন কথা শুনে চমকে উঠল সে। বলল, ‘বাবা, এ রাজ্যে এতকিছু ছিল! মানুষ কি সেই যুগেও উচ্চ শিক্ষা বুঝত?’
হ্যাঁ, ছিল। এবার বাঁশঝাড়ের ভেতর দিয়ে হাঁটতে থাকলাম আমরা।

পূর্বদিকে মাত্র দেড়শো মিটার হাঁটার পরেই দারসবাড়ি মাদ্রাসা। এর একটু পশ্চিম পাশে দুটো ছোট্ট ঘর বানিয়ে নির্জন এলাকায় কেউ হয়তো বাস করছেন তাতে। বাড়িটির পশ্চিম ধারেই একটি বিশাল পুকুর। খুব সম্ভবত ১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দের প্রবল ওই ভূমিকম্পে ধ্বংস প্রাপ্ত হয়েছিল এটি। পরে ১৯৭০ দশকে স্থানীয় এক কৃষক লাঙল দিয়ে চাষ করতে গিয়ে আবির রঙের ইটের সন্ধান পাওয়ার পর মাটি খোড়ার উদ্যোগ নেয় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ। এরপর বেড়িয়ে আসে বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো এই মাদ্রাসার ধ্বংসাবশেষ।

স্থানীয়রা ‘দারাসবাড়ি মাদ্রাসা বা বিশ্ববিদ্যালয়’ বললেও জেনারেল ক্যানিংহাম এটিকে ‘কলেজ’ নামে অভিহিত করেছেন।

জানতে ইচ্ছে হলো এর ইতিহাস। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের দেওয়া তথ্য থেকে জানলাম, ১৫০৪ খ্রিস্টাব্দে (হিজরি ৯০৯) সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহের রাজত্বকালে অবিভক্ত বাংলার রাজধানী গৌড়ের ফিরোজপুরে এই সুবিশাল আবাসিক মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। যেখানে বিভিন্ন অঞ্চল হতে শিক্ষার জন্য আসতেন শিক্ষার্থীরা। ছিল বিশাল লাইব্রেরি।

পুরো মাদ্রাসার ধ্বংসাবশেষ দেখার পর এই মাদ্রাসা সম্পর্কে মন্তব্য করতে বললাম নিরবকে।
বলল, ‘মাদ্রাসার ধ্বংসাবশেষ দেখে মনে হলো- সেই সময়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পদচারণায় কতই না মুখর ছিল এর ক্যাম্পাস! কিন্তু কালের নিষ্ঠুরতায় আজ তা প্রাণহীন।’

সুবিশাল এই মাদ্রাসার ধ্বংসাবশেষ দেখার পর ভ্যানচালককে বললাম, ‘আর কী কী দেখার আছে?’
তিনি বললেন, ‘চলেন এবার ধানিয়াচক মসজিদ।’

সোনা মসজিদ স্থল বন্দর সড়কে ওঠার পর পূর্ব দিকের পাকা রাস্তা ধরে খানিকটা এগুনোর পর বিশাল আম বাগান। কোনো পথ না থাকায় ভ্যান এগিয়ে চলল বাগানের মধ্য দিয়ে। চারদিকে শুধু বাগান আর বাগান। সেই বাগানের মাঝখানে অবস্থিত প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভূক্ত ‘ধানিয়া চক মসজিদ।’ ইট, টেরাকোটা দ্বারা মুঘল আমলে নির্মিত এই মসজিদের চারকোণে চারটি অষ্টকোণাকৃতির মিনার এবং ওপরে থাকা গম্বুজগুলো মন কাড়ে যে কারো। চারপাশে উঁকি মেরে দাঁড়িয়ে থাকা তালগাছ এর সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে আরো বেশি। একটু পরেই কিশোর মুয়াজ্জিনের মধুর কণ্ঠে ভেসে এলো আসরের আজান। কী দারুণ সেই আজানের ধ্বনি! কিন্তু আশপাশে কোনো লোকালয় না থাকায় আরেক কিশোর এলো মসজিদে।

নামাজ শেষে আমরা চললাম মুঘল আমলের আরেক স্থাপত্য কীর্তি ‘খানিয়াদিঘি মসজিদ’ দেখতে।
বিশাল আকৃতির খানিয়াদিঘির পশ্চিম ধারে অবস্থিত সংরক্ষিত এই পুরাকীর্তি। কোনো শিলালিপি না থাকায় ঐতিহাসিক এই মসজিদটি ঠিক কবে নির্মাণ হয়েছিল তা জানা যায় না। তবে এর নির্মাণ শৈলী দেখে ধারণা করা হয় ১৪৮০ খ্রিস্টাব্দের দিকে ইলিয়াস শাহীর আমলে এটি নির্মিত হয়।

ছাদের গম্বুজটি বিশাল গোলাকার আর বারান্দার তিনটি ছোট। ইমারতের বাইরে চারকোণে রয়েছে চারটি অষ্টভুজাকৃতির বুরুজ। চারপাশের দেওয়ালের মধ্যবর্তী স্থানে লতাপাতার নকশাসমৃদ্ধ খিলান(আঁকাবাঁকা)। এর নিচে রয়েছে হীরকখন্ড ও বুটিদার নকশার সারিসহ অন্যান্য কারুকার্য।

ফেরার পথে গেলাম মুঘল আমলে নির্মিত ‘তাহখানা’ দেখতে। শিবগঞ্জ উপজেলার শাহাবাজপুরের পিরোজপুরে এই তাহখানা নির্মাণ করেছিলেন মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের পুত্র শাহ সুজা। বাংলার সুবেদার থাকাকালে (১৬৩৯-১৬৬০) তিনি সুফি সাধক শাহ নিয়ামতউল্লাহ ওয়ালীর প্রতি শ্রদ্ধাস্বরূপ এই তাহখানা বা ঠান্ডা প্রাসাদ নির্মাণ করেন। যেখানে শাহ সুজাও আসতেন মাঝে মাঝে। এর সামনে রয়েছে বিশাল তোরণ ও একটি দিঘি। এর দক্ষিণ পাশে রয়েছে একটি অষ্টভুজাকৃতির হাম্মামখানা। ছোট্ট প্রাসাদটি সংলগ্ন রয়েছে মসজিদ ও সমাধিসৌধ। সমাধিটি সম্ভবত এই সুফি সাধকের (মৃত্যু ১৬৬৪ অথবা ১৬৬৯ খ্রি.) অন্তিম শয়নের জন্য পূর্বেই নির্মিত হয়েছিল। এর স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্য বাংলায় প্রথম।

ফিরতে চাইলে নিরব বলল, ‘বাবা, এখানেই তো বিখ্যাত কানসাট জমিদার বাড়ি। সেটা না দেখে আমি ফিরবো না।’
দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতি ওর টান দেখে অভিভূত হলাম আমি। বললাম, চল তাহলে। এবার আরেকটি ভ্যানে চড়ে রওয়ানা হলাম আমরা কানসাট জমিদার বাড়ির দিকে। মূল সড়কের ঠিক ৫০ মিটার পশ্চিমে গেলে কানসাট হাট। শুনেছি, রাজশাহীর সবচেয়ে বড় আমের মোকাম এটি। হাটুরেদের জিজ্ঞাসা করতেই দেখিয়ে দিলেন জমিদার বাড়ি। উত্তরের সিঁড়ি বেয়ে উঠলাম জমিদার বাড়িতে। অযত্ন আর অবহেলায় ভেঙে যাওয়া দেওয়ালে গজিয়েছে ঢেঁকি শাক ও বট, পাইকরের চারা। এটি এখন পরিত্যক্ত একটি বাড়ি।

শুধু নিরবকে বললাম, এখানকার জমিদার নাকি মুসলিম বিদ্বেষী ছিলেন। ততক্ষণে অন্ধকার নেমে আসায় নেমে পড়লাম আমরা। এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফেরার পথে নিরবের জিজ্ঞাসা, ‘বাবা, এখানকার স্থাপত্য কীর্তিগুলো দেখতে তো অনেক মানুষ আসছে। শিক্ষা সফরেও এসেছে অনেকে। কিন্তু অনেক স্কুল শিক্ষা সফরে এমন জায়গায় না গিয়ে তারা কৃত্রিম জায়গায় যায় কেন?’

লেখক: এম এ মাসুদ,প্রাবন্ধিক


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর