মণিপুরী সংস্কৃতি, কবিতা পাঠ ও আলোচনা সভাসহ বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে বাংলাদেশ মণিপুরি সাহিত্য সংসদের ৫০তম সুবর্ণজয়ন্তী। শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ মণিপুরী সাহিত্য সংসদের আয়োজনে উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের তেতইগাঁও মণিপুরী কালচারাল কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হয়। সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের প্রথম পর্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন পরিষদের সভাপতি এল প্রশান্ত কুমার সিংহ এর সভাপতিত্বে চিফ গেস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র এডভোকেট ও সোশ্যাল ওয়ার্কার এস সি সিনহা।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মণিপুরী সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক নামব্রম শংকর এর সঞ্চালনায় গেস্ট ওব ওনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গভর্ণমেন্ট ওব বাংলাদেশ রিটায়ার্ড এডিশনাল সেত্রেটারি শশী কুমার সিংহ, ইম্ফল মণিপুরী সাহিত্য পরিষদের জোয়েন্ট সেক্রেটারি ড. এল, রামেশ্বর সিংহ, ইম্ফল লৈকোল জেনারেল সেক্রেটারি গুরুঅরিবম ঘনপ্রিয়া দেবী প্রমুখ।

এছাড়াও প্রবন্ধ উপস্থাপনায় ছিলেন বাংলাদেশ মণিপুরী সাহিত্য সংসদ সিলেটের প্রেসিডেন্ট, গবেষক ও বাংলা একাডেমির ফেলো কবি এ কে শেরাম,ইম্ফল সাহিত্য একাডেমির অ্যাওয়ার্ডি এর শরতচান্দ থিয়াম।
এছাড়াও উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন কমলগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী অফিসার মাখন চন্দ্রসূত্রধর, বামাসাস কমলগঞ্জ শাখার সভাপতি এল ইবুংহল সিংহ শ্যামল,শিক্ষক, লেখক ও কবি সাজ্জাদুল হক স্বপন, কবি রওশন আরা বাঁশী খুৎহৈবম , কবি অয়েকপম অঞ্জু।

সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পঞ্চাশ বছরের এই পথচলা শুধুই একটি সময়ের হিসাব নয়, এটি একটি জাতির ভাষা, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের দৃঢ় অভিব্যক্তি। বাংলাদেশ মণিপুরি সাহিত্য সংসদ যে আলোকবর্তিকা প্রজ্বালন করেছে, তা আগামী প্রজন্মকে নিজের শিকড়ের সঙ্গে সংযোগ রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগাবে। বাংলাদেশে বসবাসরত মণিপুরি জনগোষ্ঠীর সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সংসদের ৫০ বছরের ঐতিহাসিক পথচলায় আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।

সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব দ্বিভাষিক গানের মনোমুগ্ধকর সূচনা হলো “ধন ধান্য পুষ্প ভরা” শিল্পীদের পরিবেশনায় জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হয় অনুষ্ঠান। এছাড়াও ঢাকা থেকে আসা শিল্পীদের গান ও নৃত্য পরিবেশন হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের লেখক, গবেষক, সাংস্কৃতিককর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।