দেশে-বিদেশে বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাই অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন সবাইকে আরও বেশি সজাগ থাকতে হবে বলে নেতা-কর্মীদের সতর্ক করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, যখন সুযোগ ছিল তখন বিএনপি নারীদের নিরাপত্তায়, কৃষকের উন্নয়ন থেকে শুরু করে দেশের সর্বক্ষেত্রে অবদান রাখার চেষ্টা করেছে। ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
শনিবার বিকেল ৪টার দিকে ময়মনসিংহ নগরীর টাউন হল অডিটোরিয়ামে ময়মনসিংহ দক্ষিণ, উত্তর ও মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় ভিডিও কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘৫ আগস্টের পর জনগণের চিন্তাধারায় পরিবর্তন ঘটেছে। বিএনপিকেও মানুষের এই চিন্তাধারার সঙ্গে পরিবর্তিত হতে হবে। মনে রাখতে হবে বিএনপি বিরোধী দলে ছিল। এখনো বিরোধী দলে আছে, যতক্ষণ না জনগণ আমাদের পক্ষে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। তাই জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য দলের নেতা-কর্মীদের কথাবার্তা ও কাজকর্মে সতর্ক হতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘জনগণ সব ক্ষমতার উৎস। শহীদ জিয়ার এই স্লোগানটিকে শুধু স্লোগান হিসেবে বিবেচনা না করে প্রত্যেক নেতা-কর্মীর মনে তা ধারণ ও বিশ্বাস করতে হবে। তবেই আমাদের দল কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করতে পারবে। যারা নিজেকে চালাক মনে করছে, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে। অনেকেই ভাবছেন স্বৈরাচার পতনের পর মাঠে তাদের আর কোনো অবস্থান নেই। এ রকম ভাবসাব অনেকের মধ্যে দেখা যায়। যার পতন হয়েছে সে ছিল আমাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। আজ তারা হয়তো দুর্বল হয়ে পড়েছে। কিন্তু এতে আমাদের জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে। কারণ আগে আমাদের প্রতিপক্ষ ছিল দৃশ্যমান। এখন আমাদের প্রতিপক্ষ অদৃশ্য। তারা আপনাকে এবং দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাদের বিষয়ে সবাইকে নিজ নিজ এলাকায় সতর্ক থেকে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় বিএনপির বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো হচ্ছে। এ বিষয়েও সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। স্বৈরাচার পতন আমাদের জন্য প্রিটেস্ট এবং জনগণের আস্থা অর্জন আমাদের জন্য টেস্ট পরীক্ষা। মনে রাখতে হবে আমাদের দলের বিরুদ্ধে ভিন্ন উপায়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমাদের প্রতারিত করে দলে অনুপ্রবেশ করে ভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে আমাদের মধ্যে অনেকেই ভুল করেছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দল পিছপা হয়নি। আমরা সরকারে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতাম। দেশনেত্রীর স্লোগান- মানুষ বাঁচাও দেশ বাঁচাও। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের মানুষকে রক্ষার দায়িত্ব বিএনপির। তাই দলের প্রত্যেক নেতা-কর্মী নিজেকে সেভাবে প্রস্তুত করুন যেন জনগণ আপনাদের পক্ষে রায় দেয়। ফাঁকা মাঠে গোল দেওয়া সহজ হবে না বরং আমাদের লক্ষ্য অর্জন অতীতের চেয়ে অনেক কঠিন হবে। তাই দলের নেতা-কর্মীদের অতন্ত্র প্রহরী হিসেবে কাজ করতে হবে।’
মতবিনিময় সভায় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আফজাল এইচ খান, সহ-সাংগঠনিক আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক এ কে এম শফিকুল ইসলাম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. মাহাবুবুর রহমান লিটন, উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক এনায়েত উল্লাহ কালাম, সাবেক এমপি শাহ নূরুল কবীর শাহীন, আবু রেজা ফজলুল হক বাবলু, আবুল বাশার আকন্দ, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন বাবলু, উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী, দক্ষিণ জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর মাহমুদ আলম, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কাজী রানা, শাহ শিব্বির আহম্মেদ বুলু, এ কে এম মাহাবুবুল আলম, শামীম আজাদ, ফারজানা রহমান হুসনা, লিটন আকন্দ, এম এ হান্নান খান, কায়কোবাদ মামুন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফকরুদ্দিন আহমেদ বাচ্চু, আকতারুজ্জামান বাচ্চু, আকতারুল আলম ফারুক, ফাত্তাহ খান, আবুল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।