মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি বসতঘরের সিলিংয়ের ভেতর থেকে বিশালাকৃতির ১৫ফুট লম্বা ১২ কেজি ওজনের একটি অজগর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে শ্রীমঙ্গল-মৌলভীবাজার সড়কের উঁচাপুল এলাকার ‘মজিদ মঞ্জিল’ নামক বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, সকালে ঘরের সিলিংয়ের ভেতরে হঠাৎ বিশাল এই অজগরটি নড়াচড়া করতে দেখেন পরিবারের সদস্যরা। মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো বাড়িতে। বাড়ির লোকজন চিৎকার করতে করতে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। চিৎকার শুনে স্থানীয় এলাকাবাসি লাঠিসোঁটা নিয়ে জড়ো হন এবং সাপটিকে পিটিয়ে মারার প্রস্তুতি নেন।
এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা মুঠোফোনে বিষয়টি শ্রীমঙ্গলস্থ ‘বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন’কে জানান। খবর পেয়ে ফাউন্ডেশনের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় এক ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর প্রচেষ্টার পর তারা সাপটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন।
সাপটি উদ্ধারের পর বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ উপস্থিত এলাকাবাসীকে সচেতনতামূলক পরামর্শ দেন। তারা অনুরোধ জানান, বন্যপ্রাণী দেখে আতঙ্কিত হয়ে সেগুলোকে আঘাত না করে বা না মেরে যেন দ্রুত বন বিভাগ কিংবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেওয়া হয়। উদ্ধারকৃত অজগর সাপটিকে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে সেটিকে বনে অবমুক্ত করা হবে।
বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সজল দেব জানান, ‘উদ্ধার করা অজগরটির আনুমানিক ওজন প্রায় ১৫ কেজি এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ ফুট লম্বা ছিল। তিনি বলেন, বনাঞ্চলে নির্বিচারে গাছপালা ও ঝোপঝাড় উজাড়ের ফলে বন্যপ্রাণীরা তীব্র খাদ্য সংকটে পড়েছে। বনভূমিতে মানুষের অবাধ প্রবেশ, জঙ্গল কেটে ফসল চাষ, বসতবাড়ি স্থাপন এবং অপরিকল্পিত রিসোর্ট ও ভিলা নির্মাণ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। এ কারণে বন্যপ্রাণীরা বন ছেড়ে লোকালয়ে খাদ্যের সন্ধানে চলে আসছে।’
তিনি জানান, ‘স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে লোকালয়ে বন্যপ্রাণীর অবস্থানের খবর পেলে সেগুলো উদ্ধার করে প্রথমে সেবা ফাউন্ডেশনে আনা হয়। পরে বনবিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।’
পরিবেশবাদী শুভ মিয়া বলেন,‘দ্রুত বনভূমি রক্ষা ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যতে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।’
বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ শ্রীমঙ্গল রেঞ্জর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. কাজী নাজমুল হক বলেন, ‘বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন থেকে অক্ষত অবস্থায় অজগর সাপটি আমাদের কাছে হস্তান্তর করে। পরে প্রাণীকে লাউয়াছড়া বনে অবমুক্ত করা হয়েছে।’