সিলেটে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সিলেট নগরীর এয়ারপোর্ট রোডস্থ উইন্ডসর হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, সিলেট।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করা হয়। পরে আমন্ত্রিত অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, সিলেট-এর কমিশনার জনাব খন্দকার নাজমুল হক।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (শুল্ক নীতি) জনাব সৈয়দ মুশফিকুর রহমান। তিনি বলেন, কাস্টমস শুধু রাজস্ব আহরণের প্রতিষ্ঠান নয়; দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য সহজীকরণ এবং সমাজ সুরক্ষায় কাস্টমসের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক প্রযুক্তি ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে কাস্টমস ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত কমিশনার জনাব মীর আবু আবদুল্লাহ আল-সালাত। প্রবন্ধে বিশ্ব কাস্টমস সংস্থার এবছরের প্রতিপাদ্য “Customs protecting society through vigilance and commitment” এর তাৎপর্য ব্যাখ্যা করা হয়।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট অঞ্চলের প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, কর কমিশনারসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে অবৈধ পণ্য পাচার রোধ, রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধ এবং ব্যবসাবান্ধব কাস্টমস ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। বক্তাদের বক্তব্যে উঠে আসে, পরিবর্তনশীল বিশ্ব ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রকৃতি ও ধরণ পরিবর্তনের সাথে সাথে পাল্টে যাচ্ছে দেশের বর্ডার এজেন্সির কাজের কৌশল ও গুরুত্ব। রাজস্ব আহরণ যেখানে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে বিবেচিত হত, সেখানে বর্তমানে তা পরিবর্তিত হয়ে বাণিজ্য সহজীকরণ, জাতীয় নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা, মেধাসত্ত্ব সংরক্ষণ, চোরাচালান ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধসহ নানাবিধ জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের মত বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এছাড়াও একাধিক বিশেষ অতিথির বক্তব্যে একাধিক বক্তারা কাস্টমসের বহুমুখী ভূমিকা ও তার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতি বছর World Customs Organization (WCO) বিভিন্ন বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করে বিশ্বব্যাপী তার তাৎপর্য তুলে ধরে। সিলেট কাস্টমসের ২০২৬ সালে নির্ধারিত কাস্টমস দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হিসাবে ব্যানারে উল্লেখ ছিলো “অতন্দ্র প্রহরা আর দৃঢ় অঙ্গীকারে দেশের সুরক্ষায় কাস্টমস “। বিশ্বের অন্যান্য সদস্য দেশের ন্যায় সিলেট তথা বাংলাদেশ কাস্টমস প্রতিপাদ্যের গুরুত্ব বিবেচনা করে আয়োজিত এই সেমিনারে দেশের বিভিন্ন কাস্টমস হাউস ও কাস্টমস স্টেশনের গুরুত্ব, প্রতিবন্ধকতা, সংশ্লিষ্ট অনন্য প্রশাসনিক অবকাঠামোর দায়বদ্ধতা ও সীমাবদ্ধতা প্রভৃতি বিভিন্ন বিষয়ে সভার আলোচনা হয় । নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের শুল্ক-কর যৌক্তিকীকরণ, দেশীয় শিল্পকে রেয়াতি সুবিধা ও ট্যারিফ সুরক্ষা প্রদান, বন্ডেড ওয়্যারহাউস ও ডিউটি ড্র-ব্যাক সুবিধায় রপ্তানি সহজীকরণ, LDC Graduation-এর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শুল্ক হার যৌক্তিকীকরণ ও মেধাস্বত্ব বিধান বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাণিজ্য সহজীকরণ করার গুরুত্বের উপরো আলোকপাত করেন। ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী জানান, ফ্রন্টলাইন বর্ডার এজেন্সি হিসেবে বাংলাদেশ কাস্টমস সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর দিয়ে বাণিজ্য সহজীকরণ ও মাদক, অস্ত্র, অবৈধ স্বর্ণ, খাদ্য-ওষুধ, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ করে জননিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে যেমন বিজিবি, গোয়েন্দা সংস্থা, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বন্দর ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ কাস্টমস প্রশাসনের সঙ্গে পুলিশ ডিপার্টমেন্টোও সর্বোচ্চ সহযোগিতা জোরদার করেছে।